সরেজমিন মুন্সিগঞ্জ: পথের কাঁটা দুই ভবন

রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে দুটি ভবন। একটি জেলা রেড ক্রিসেন্ট ভবন, অপরটি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়। ভবন দুটির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের যোগাযোগ।

শহরের কোটগাঁও এলাকায় মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় এবং হাটলক্ষ্মীগঞ্জে রেড ক্রিসেন্ট ভবনের অবস্থান। শহরের যোগাযোগ উন্নয়নে ভবন দুটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

২০০৩ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে কোটগাঁও এলাকার রাজা শ্রীনাথ ক্লাবের পাশে তিনতলাবিশিষ্ট জেলা শিক্ষা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। তখন ওই স্থানে ভবন নির্মাণের বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন পৌর মেয়র আনিছুজ্জামান আনিছ। কিন্তু তাঁর সেই আপত্তি আমলে না দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করে জেলা প্রশাসন।
সাবেক পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন এ ভবনই শহরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় লোকজন বলেন, পুরাতন কাচারি থেকে নতুন কোর্ট পর্যন্ত সড়কটির প্রায় মাঝখানে শিক্ষা ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে। ভবনের কারণে সড়কের জমি আস্তে আস্তে দখল হয়ে যাচ্ছে। এটি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে না নিলে একসময় পুরো সড়কের জমিই দখল হয়ে যাবে। তখন আর ভবনটি সরালেও কোনো কাজ হবে না।

হাটলক্ষ্মীগঞ্জে রেড ক্রিসেন্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয় স্বাধীনতার পরপরই। এরপর ১৯৮৮ সালে জুবলী খালটি ভরাট করার পর এখানকার সরু সড়কটি প্রশস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসন শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করে। তখন প্রশস্ত সড়কের মাঝখানে নির্মাণ করা হয় বিভাজক।
জানা গেছে, শিক্ষা ভবন ও রেড ক্রিসেন্ট ভবনের কারণে লঞ্চঘাট থেকে আদালত চত্বর পর্যন্ত যেতে জেলা শহরের মূল সড়কটির যোগাযোগব্যবস্থা বাধার মুখে পড়েছে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ভবন দুটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে যাওয়ায় সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ঢালী বলেন, ভবন দুটি শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে প্রশস্ত সড়কটি। ভবন দুটি সরিয়ে নিতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে। নইলে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

যোগাযোগ করলে জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান গাজী বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছি রেড ক্রিসেন্ট ভবনটি সরিয়ে নেওয়ার। কিন্তু ভবন সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের কাছে জমি বরাদ্দ চেয়েও পাচ্ছি না। অন্য স্থানে জমি পেলেই আমাদের কার্যালয় সরিয়ে নেব।’

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেন, ভবন দুটি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে।

তানভীর হাসান – প্রথম আলো

Comments are closed.