পূরবী বসু: ধলেশ্বরীর বাঁকে-২

মুন্সীগঞ্জের খেলাধূলা
মন্মথ মুখোপাধ্যায় (মনাবাবু) বলে আমাদের পাড়াতেই এক মধ্যবয়সী সুদর্শন মোক্তার ছিলেন। শীতকালে থানার পাশে তাদের বাড়ি সংলগ্ন বিরাট মাঠে দু’পাশে উজ্জ্বল ইলেকট্রিক লাইট জ্বালিয়ে হাফ হাতা সাদা গেঞ্জি ও শর্টস পরে মনাবাবু ও তার বন্ধুদের অনেক রাত পর্যন্ত ব্যাডমিন্টন খেলতে দেখেছি। মনাবাবুর সঙ্গে এ খেলায় কেউ পেরে উঠতনা। তিনি গানও গাইতেন । তবলাও বাজাতেন। একাত্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এই মনাবাবুকে মুন্সীগঞ্জেই। ভালো খেলোয়াড় ও সাঁতারু হিসেবে মহিউদ্দিন আহমেদ (পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষী ও আওয়ামীলীগ নেতা) বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তার শারীরিক গড়ন ও সামর্থ্যরে জন্য তাকে মি. মুন্সীগঞ্জ উপাধি দেয় হয়েছিল। মনে পড়ে চৌষট্টির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় তিনি আমার বাবাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন ‘কাকাবাবু আমি বেঁচে থাকতে আপনাদের পরিবারের ওপর কেউ হাত তুলতে পারবে না।’ মুন্সীগঞ্জের পাড়ায় পাড়ায় গোল্লাছুট , বন্দী, হা-ডু-ডু, এক্কাদোক্কা খেলার চল ছিল খুব। ছেলে মেয়ে উভয়েই খেলতো। তবে ছেলেমেয়ে একত্রে খেলত কেবল শিশুকালে। সুভাষ কর্মকার বলে জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন আমাদের পাড়াতেই।

রাজনীতি ও আইন আদালত
রাজনীতির অঙ্গনেও তখন অত্যন্ত মুখর ছিল মুন্সীগঞ্জ। সবচেয়ে পরিচিতি ও বিখ্যাত ছিলেন বিক্রমপুরী সাহেব। ছোটখাটো চেহারার রোগা পাতলা মানুষটি তাঁর চলাফেরা সীমিত হয়ে এসেছিল এবং তার হাতদুটো সর্বক্ষণ ভীষণভাবে কাঁপত, বিশেষ করে যখন কিছু লেখার চেষ্টা করতেন তিনি। একবার মুন্সীগঞ্জের পৌরসভা নির্বাচনে আমাদের পরিবারের তিন ভোটার অর্থাৎ তিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রচণ্ড মতানৈক্য দেখা দেয়। আমার মা ও ঠাকুমা একদিকে জিতেন্দ্র (লাবড়া) চক্রবর্তীর পক্ষে। ওদিকে বাবা একা, কাদের ডাক্তারের পক্ষে। বাবা ও কাদের ডাক্তার বহুকালের বন্ধু। তারা পরস্পরের বাড়িতে চিকিৎসা করতেন। জিতেন্দ্র চক্রবর্তীর প্রতীক ছিল হাঁস। মনে আছে পাতলা সাদা কাগজ আর আটা দিয়ে কমলা ঠোঁটের বিশাল এক হাঁস বানিয়ে রাস্তা দিয়ে স্লোগান দিতে দিতে যেত তারা। কাদের ডাক্তারের প্রতীক যত দূর মনে পড়ে নৌকা। যেদিন বিকালে কাদের ডাক্তার র্নিবাচনে জিতলেন এবং শোনা গেল বিজয় মিছিল নিয়ে তিনি বড় রাস্তা ধরে এগিয়ে আসছেন তখন বাবা বাসায় দ্বি-প্রাহরিক বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরনে লুঙ্গি ও গেঞ্জি। কাদের ডাক্তার জিতেছেন ও আসছেন এদিকে শুনে বাবা লাফ দিয়ে খাঁট থেকে উঠে গেলেন থানার পাশে বড় রাস্তার ধারে। ঘরে লুঙ্গি পরলেও বাবা বাইরে সবসময় ধুতিপাঞ্জাবি পরতেন। বন্ধুর বিজয়ের অতিশয্যে সেদিন লুঙ্গি গেঞ্জি পরে বড় রাস্তায় চলে আসেন। আর মিছিলের অগ্রভাগে দাঁড়ানো কাদের ডাক্তারও রাস্তার পাশে বাবাকে দেখে ছুটে এসে তাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরেন। খুশিতে উদ্বেলিত বাবাও বন্ধুর কাঁধে হাত রাখলে কারো কাছে আর গোপন থাকে না বাবা কাকে ভোট দিয়েছেন নির্বাচনে। এর জন্য মুন্সিগঞ্জের হিন্দু প্রধান এলিটগ্রুপের কাছে বাবাকে কম কথা শুনতে হয়নি। এই কাদের ডাক্তারের পুত্রই বাংলাদেশ টেলিভিশন ও স্বাধীন বাংলাবেতারের সুপরিচিত সংবাদ পাঠক বাবুল আখতার যাকে বড় অসময়ে হারিয়েছি আমরা। একটি কথা আমি ভাবার ও বোঝার চেষ্টা করেছি, মুন্সীগঞ্জের মত ছোট্ট শহরে এত বেশী উকিল, মোক্তার, মুহুরী ও পেশকার কেন ছিল তখনো, পরে বুঝেছি চারিদিকে গ্রাম ও চরবেষ্টিত এই শহরে জমি জমি দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত মামলা করতে বহু লোক আসতো চারপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। জমি বা চর দখল করা নিয়ে মারামারি, খুনোখুনির বিচিত্র ধরনের সংবাদ পেতাম আমরা খবরের কাগজে। মুন্সীগঞ্জের থানাটি আমাদের বাসার খুব কাছে হওয়ায় একবার এক বড় বালতিতে কনুই পর্যন্ত আস্ত একখানা খণ্ডিত হাত স্বচক্ষে দেখেছিলাম। চর দখলের দণ্ড ।

মুন্সীগঞ্জের হৃদপিণ্ড: জুবলী খাল
মুন্সীগঞ্জ শহরের মাঝখান দিয়ে প্রধান সড়কের সমান্তরালভাবে একটানা বয়ে গিয়েছিল লম্বা এক খাল যার অস্তিত্ব আজ আর নেই। এই খালটির নাম ছিল জুবলী খাল। নামকরণ কেন হয়েছিল মনে নেই। খাল ভরাট করার পর মাত্র একবারই গিয়েছিলাম সেই শহরে। সম্পূর্ণ বালি চাপা দেয়া সেই খালের দিকে তাকিয়ে আমার বারবার মনে হয়েছিল, এ যেন আমারই দীর্ঘ কবর। তখন শহরের ঠিক মাঝখানে, প্রাণকেন্দ্রে এই খালের উপস্থিতি শহরটিকে মোহনীয় ও বৈশিষ্ট্যময় করে রেখেছিল, কোন সন্দেহ নেই। খালের দু’পাশে জনবসতির মধ্যে যোগাযোগের জন্য মাঝে মাঝে পাতা ছিল চওড়া পুল। শহরের দুই প্রান্তে নদীর সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া এই খাল বন্যা থেকে শহরটিকে রক্ষাও করেছিল বিপুল ভাবে। জলপথে চলাচলেও যথেষ্ট সাহায্য করত।

সাংবাদিক সফি ভাই
প্রতিদিনের চেনা যে মুখ, যাঁর উদ্দীপ্ত কন্ঠস্বর, প্রশস্ত ললাট, দৃঢ় চিবুক, ঋজু চোয়াল, ঝাঁকড়া কালো চুল আর পুরু গোঁফ, বড় বড় পদক্ষেপে হেঁটে যাবার পরিচিত ভঙ্গি, সব কিছুই অতি চেনা, অতি জানা, তিনি যে আমাদের সকলের প্রিয়, অজাতশত্রু সফি ভাই ছাড়া আর কেউ হতে পারেন, তাঁর-ও যে আলাদা আরেকটি পরিচয় থাকতে পারে, অন্যত্র এবং বৃহত্তর কোন কর্মক্ষেত্রে বহুদিন ধরে দীপ্ত চলাচল অব্যাহত থাকতে পারে, থাকতে পারে তাঁর গর্ব করার মতো কোন অতীত বা মহত্তর কোন দাবীর সঙ্গে সংযুক্তি, এটা কখনো ভেবে দেখিনি। তাঁকে কেবল, এবং একান্ত-ই কেবল আমাদের সকলের ভালোবাসার মানুষ, কাজ-পাগল, আদর্শবাদী সফি ভাই বলেই জানতাম আমরা। আর যেন কিছু নন, আর যেন কেউ ছিলেন না তিনি আমাদের কাছে, তখন, যখন মুন্সীগঞ্জ শহরে স্কুলে পড়ি আমরা। তাঁকে ভালো করে জানার সুযোগ এসেছে আরো পরে, যখন তাঁর কর্মকাণ্ড এবং অসীম সাহসের বিস্তারিত সংবাদ জানতে পারি। কিন্তু সেসব অনেক পরের কথা।

সেই অতি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি সফি ভাইকে, যখন আমরা সবে শিশু ছানা, ননী, সন্ধ্যা, মমতাজ, পারুল, আরিফ, আনোয়ার, প্রতিবেশি সব শিশুদের সঙ্গে ঘরের সামনে, অথবা পাড়ার রাস্তায় খেলে বেড়াই। মুন্সীগঞ্জের প্রতিটি বালুকণা সফি ভাই-এর চেনা। মহকুমার এ- মাথা থেকে ও-মাথা সমস্ত অঞ্চলটি হেঁটে, চষে বেড়াতেন তিনি। ক্রমাগত। আর তাঁর বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্যে এখানে সেখানে যাবার পথে আমাদের বাসায় একবার সামান্য সময়ের জন্যে হলেও ঢুঁ মেরে যেতে ভুলতেন না। আর সেটা ঘটতে পারতো যখন তখন, দিনে রাত্রে, – সকালে, দুপুরে, বিকেলে, সন্ধ্যায়, রাতে। উঠান থেকেই ভারি গলায়, উচ্চস্বরে আমাদের নাম ধরে ডাক দিতেন তিনি। কখনো সখনো বাবাকেও ডাকতেন ডাক্তারবাবু এই নামে, যদি তখন বাবা ঘরে আছেন বলে টের পেতেন, তবেই। আমাদের সকল ভাইবোনকেই ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন তিনি, সকলের নাম-ই জানা ছিল তাঁর, সেই সঙ্গে কে কী পড়ছি ইত্যাদিও। আমাদের প্রত্যেককেই তিনি তুই বলে সম্বোধন করতেন। সফি ভাইয়ের সেই পরিচিত ও বৈশিষ্টপূর্ণ গভীর ও সুউচ্চ কন্ঠস্বর শুনতে পেলেই ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটে যেতাম আমরা তাঁর কাছে। নতুন নতুন সংবাদ এবং ভবিষ্যতের সব আশার-স্বপ্নের কথা শোনাতেন তিনি আমাদের। সফি ভাই ছিলেন আমাদের কাছে মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার মেলবন্ধন। প্রায় প্রতিদিন-ই যেহেতু ঢাকা মুন্সীগঞ্জ করতে হতো তাকে, তিনি আমাদের কাছে দেশের সাম্প্রতিক হালচাল, গতিপ্রকৃতি বোঝার মাধ্যম হয়ে পড়েছিলেন। এছাড়া চারদিকের নতুন নতুন, তরতাজা সব সংবাদ। এসব সফি ভাই ছাড়া কে দেবে আমাদের? সফি ভাই এলে তাই ছোটরা আমরা ঘিরে ধরতাম তাঁকে, মা ছুটে যেতেন রান্না ঘরে গরম চা বানিয়ে বিস্কুট বা লুচির সঙ্গে পরিবেশনের জন্যে। সফি ভাইয়ের কখনো সময় হতো, কখনো হতো না সেই চা-টা খেয়ে যাবার। যখন আসতেন, কখনো ঘরের ভেতর, কখনো উঠোনে একটা মোড়া টেনে বসে পড়তেন তিনি। ধূমায়িত চা পান করতে করতে কথা বলতেন। একটি অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। না থেমে অনবরত কথা বলতে পারতেন। একটানা সেই বাক্যালাপের আসরে বক্তা প্রধানত তিনি নিজেই। তাঁর পরনে বরাবর-ই থাকত অতি সাধারণ পোষাক। পায়ে বেশীর ভাগ সময়েই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ধুলোয় ভরা স্যন্ডেল। গায়ে কখনো সাদা পায়জামা গেরুয়া পাঞ্জাবী, কিংবা হাল্কা-নীল অথবা সাদা সার্টের সঙ্গে কালো বা গাঢ় নীল রং-এর প্যান্ট। ঘাড়ে ঝুলতো উপচে পড়া কাগজপত্র আর বই-এ ঠাঁসা এক বিশাল কাপড়ের ঝুলি অথবা জরাজীর্ণ বহু পুরাতন এক চামড়ার ব্যাগ। শীতকালে সমস্ত গায়ে জড়ানো থাকতো চওড়া এক সূতি চাদর। বড়-সাদাসিধে, নিরহঙ্কার, সাম্যবাদী মানুষ ছিলেন সফি ভাই। তার কাছে ধনী-দরিদ্রের, হিন্দু-মুসলমানের, নেতা-কৃষকের কোন পার্থক্য ছিল না।

আমার ঠাকুমা ও ১৯৬৪-এর আতংক
১৯৬৪ সালের শীতকাল। মুন্সীগঞ্জ শহর। কাশ্মীরের হযরতবাল দরগায় সঙ্ঘটিত এক কুখ্যাত, স্পর্শকাতর চুরিকে কেন্দ্র করে চারদিকে তখন প্রবল সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, খুনোখুনি। গত কয়েক দিন ধরে নানান ধরনের গুঞ্জন, বিভিন্ন রকম গুজব কানে আসছে। ফলশ্রুতিতে মিলিত কন্ঠে নারায়ে তকবীর, আল্লাহু আকবর” শোনার আশঙ্কায় প্রতি রাতেই আমরা ভয়ে ভয়ে কান পেতে বসে থাকি ঘরের ভেতর। যে ধ্বনি এতো পূতপবিত্র, যে শব্দোচ্চারণ সৃষ্টিকর্তার মহিমা ঘোষণা করে কেবল, তার প্রতি এতো আতংক কেন? কেননা, সময়টা ১৯৬৪ সাল, আর আমাদের বসতি ভারত উপ-মহাদেশেরই একাংশে – যা বহুকাল ধরে বিক্রমপুর বলে পরিচিত। হঠাৎ এক রাত্রে সত্যি সত্যি সেই প্রাণকাঁপানো, গলা শুকিয়ে দেও্য়া, পরিচিত শব্দাবলী কানে ভেসে আসে। একে একে মনোযোগ দিয়ে বাড়ির প্রত্যেকেই শুনি আমরা, সেই মহারব। তাইতো! নিঃসন্দেহে নদীর ধার থেকেই আসছে সমস্বরে উচ্চারিত ঐ ধ্বনি। একযোগে, সুর করে, পুনঃ পুনঃ। নারায়ে তকবীর, আল্লাহু আকবর। এবার আর রক্ষা নেই। কী করবো, কোথায় যাবো এখন আমরা? এতো রাতে! ভাইবোনেরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে মশারির ভেতরে বসে কাঁপতে থাকি। হঠাৎ মা আবিষ্কার করেন, এবং কিছুক্ষণ পাশের ঘরে স্থির দাঁড়িয়ে থেকে নিশ্চিন্ত হন, ঘুমন্ত ঠাকুমার ধীর লয়ের নিশ্বাসপ্রশ্বা্স নির্দিষ্ট এক ছন্দে নাসিকা গর্জনের মাধ্যমে গভীর খাদে যে গোলমালের মতো এক শব্দ সৃষ্টি করছে, তা-ই এই ঘরে নারায়ে তকবীর আল্লাহু আকবর-এর জন্ম দিচ্ছে, অন্তত আমাদের ভীত মনে, সন্ত্রস্ত কানে অবিকল তাই শোনাচ্ছিল সেই রাতে। মায়ের আবিষ্কারে হাঁপ ছেড়ে বাঁচি আমরা। ছোট ভাই দুলাল কেবল এতোক্ষণে বলে ওঠে, তাইতো বলি, দূর থেকে আসা গুঞ্জনটা এতক্ষণ ধরে এক জায়গাতেই থেমে আছে কেন? আর যেন কাছে এগুচ্ছেনা!(চলবে)

[কথা সাহিত্যিক ও বিজ্ঞানী পূরবী বসু ১৯৪৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। এবছর তিনি ৬৬টিতে পা দিয়েছেন। জন্মদিন উপলক্ষে তার এই মনোলগটির প্রথম পর্ব ছাপা হয়। খানিকটা বিরতি দিয়ে আবার লেখাটি ধারাবাহিকভাবে পত্রস্থ করা হচ্ছে। আজ ছাপা হল লেখাটির দ্বিতীয় পর্ব।

প্রথিতযশা লেখক পূরবী বসু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। স্মৃতি বিজড়িত শহরে বিচরণের এক ফাঁকে তার সাহিত্য জগতে পা রাখা। পূরবী বসুর আরেক পরিচয় হল তিনি খ্যাতিমান লেখক জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের স্ত্রী।]

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.