পদ্মা সেতু নির্মাণের এলাকায় উড়ছে ড্রোন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রস্তুতি পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার পর সময় চাওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। এদিকে প্রকল্পের নদী শাসনকাজে ডুবুরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে টেস্ট পাইলিংয়ের কাজ পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো প্রকল্পের কাজে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময় অনুযায়ী উদ্বোধনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। সে ক্ষেত্রে চলতি নভেম্বর মাসেই তা হতে পারে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সেতুটি নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এর আগে অক্টোবরে উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। নভেম্বর মাসের যে কোনো দিনে পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। বর্তমান সময় পর্যন্ত সেতুর ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

নদীতীরের খাড়া অংশে এবং নদীর তলদেশে বালিভর্তি জিও ব্যাগ এবং পাথর যথাযথভাবে স্থাপন নিশ্চিত করতে ৫ জন ডুবুরি নিয়োগ করা হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে নিয়োগের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ডুবুরিরা পানির নিচে নদী শাসনকাজের বিদ্যমান অবস্থা সম্পর্কে পরামর্শককে অবহিত করবেন।

নদী শাসনকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন গত ১৫ মার্চ থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী শাসনের মূল কাজ শুরু হবে। দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

ড্রোনের সাহায্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ তদারকি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। ঠিকাদারের নিজস্ব উদ্যোগ ও খরচে মাওয়া সাইট অফিস থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয় কাজের অগ্রগতি। প্রচণ্ড স্রোতের কারণে মাঝনদীতে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করা বেশ কঠিন। এ জন্য ড্রোনের সাহায্যে তদারকি করা হয়। যদিও এখন ড্রোন ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ছে না। ফড়িং আকৃতির ড্রোনটিতে পাখা রয়েছে ৪টি। এতে বসানো হয়েছে হাই রেজুলেশন ক্যামেরা, যা দিয়ে নির্মাণকাজের স্থির ও ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করা যায়।

জানা গেছে, সাধারণত ড্রোন ব্যবহারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুমোদন নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৯৯ ব্রিগেডের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতু একটি বিশেষ প্রকল্প। আর পদ্মা একটি খরস্রোতা নদী। তাই এ নদীতে সেতু নির্মাণ একটি জটিল পক্রিয়া। এ জন্য প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রস্তাবেই ড্রোন ব্যবহারের কথা জানায় চায়না মেজর ব্রিজ। আর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোর অনুমতি নিয়েই ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণ শেষে এ ড্রোনটি ফেরত নিয়ে যাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মার দুই পাড়ে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। এপাড়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মেদেনীমণ্ডল ও কুমারভোগ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এ সংযোগ সড়ক। ওপাড়ে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে সাড়ে ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। উভয় সংযোগ সড়কের কাজই যৌথভাবে করছে বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড ও মালয়েশিয়ার এইচসিএল কনস্ট্রাকশন।

বিডিলাইভ

Comments are closed.