কমিউনিটি পুলিশিং সভায় মারামারি, আহত ৭

উত্তেজনা, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা মিনা বাজার স্কুল মাঠে বুধবার স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং সভায় মারামারির ও হাতাহাতি হয়। এতে জাকির গাজী (৪৫), শামসুল (২৮), সাইফুল (২৬) , সুমনসহ (২০) অন্তত সাত জন আহত হয়েছে। আহতরেদর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এই নিয়ে চরাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় আধারায় এক প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকালে পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের সভাপতিত্বে এই সভা চলাকালে মঞ্চ থেকেই শুরু হয় হট্টগোল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত ইউপি নির্বাচনে অংশ নেয়া অ্যাডভোকেট শাহিন মো. আমানুল্লাহ’র বক্তব্য রাখছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমির হোসেন গাজী বার বার চিৎিকার করে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে বলে। এক পর্যায়ে সদর থানার ওসি মাইক ছিনিয়ে নেয়। এরপরই আমির হোসেন গাজীর ভাই জাকির গাজী তেরে আসে শাহিনের দিকে।

এই সময় প্রতিপক্ষের লোকজন বাঁশ দিয়ে পেটাতে থাকে জাকির গাজীকে। শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুড়ি। হট্টগোল আর বিশৃঙ্খলায় সভাটি বন্ধ হয়ে যায়। কিছু সময়ের পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আবার আলোচনা শুরু করে। কিন্তু জেলা পুলিশ প্রধানের উপস্থিতিতে মঞ্চ থেকে এই বিশৃঙ্খলা দেখে বিস্মিত হয়ে যায় সাধারণ মানুষ।

কমিউনিটি পুলিশিং আয়োজিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র এএসপি মো. এমদাত হোসাইন, আধারা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আহ্বায়ক এম এ কাদের মোল্লা, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য সচিব সভাপতি মতিউল ইসলাম হিরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল কবির মাস্টার, জেলা উদীচীর সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এস আর রহমান মিলন, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ও ওসি ইউনুচ আলী প্রমুখ।

সিনিয়র এএসপি মো. এমদাত হোসাইন ঘটনাস্থল ফেরার পথে রাতে জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এখন। তবে পরবর্তীতে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা ঘটতে না পারে, সেজন্য অতিরিক্ত পলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শাহিন মো. আমানুল্লাহ জানান, বক্তব্যে নেতাদের সাথে সন্ত্রাসী থাকা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে কথা বলাই ক্ষিপ্ত হয় আমির হোসেন গাজী। অন্যদিকে আমির হোসেন গাজী জানান, শাহিন সময় ক্ষেপন করে লম্বা বক্তব্যে অপ্রসাঙ্গিক মিথ্যা এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখছিল। এতে সুন্দর শান্তিপূর্ণ পরিবেশটিই নষ্ট করে দেয়।

ইত্তেফাক

Comments are closed.