মাওয়াকে যুক্ত করে আরও চারটি মেট্রোরেলের সুপারিশ

রাজধানীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে আগামী ২০ বছরে ৫টি মেট্রোরেল পথ, দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) পথ, ভবিষ্যতের বৃহত্তর ঢাকাকে ঘিরে তিনটি বৃত্তাকার সড়ক (রিং রোড) ও ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি) সংশোধিত খসড়ায়। গতকাল বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক কর্মশালায় চূড়ান্ত খসড়াটি প্রকাশ করা হয়।

২০০৫ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ‘কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা’ (এসটিপি) প্রণয়ন করা হয়। বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে ১০ বছরের মাথায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এ পরিকল্পনা সংশোধন করেছে। সংশোধিত রূপই আরএসটিপি। চলতি বছরের মধ্যে আরএসটিপি চূড়ান্ত করা হবে। পরিকল্পনায় স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পগুলো ২০২০ সালের মধ্যে, মধ্যমেয়াদী প্রকল্প ২০২৫ সাল এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

আরএসটিপির জরিপ অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ বৃহত্তর ঢাকার (ডিটিসিএর আওতাধীন এলাকা) জনসংখ্যা হবে ৩ কোটি ৮৬ লাখ। বর্তমান জনসংখ্যা ২ কোটি ৪৪ লাখ। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন এলাকায় বর্তমান জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। ২০৩৫ সালে এ সংখ্যা পেঁৗছাবে ২ কোটি ৬৩ লাখে। আগামী ২০ বছরে প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে রাজধানীতে। এই বিপুল জনসংখ্যার চাপ মোকাবেলায় পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সে জন্য আরএসটিপিতে বৃহত্তর ঢাকায় ৩১০ কিলোমিটার রিং রোড নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। নগরীর বাইরের সীমানা গাজীপুর-আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, মাওয়াকে যুক্ত করে ১২৯ কিলোমিটার আউটার রিং রোড, ঝিলমিল, ভুলতা ও পূর্বাচলকে যুক্ত করে শহরের মধ্য দিয়ে ১০৮ কিলোমিটার মিডল রিং রোড ও শহরের কেন্দ্রস্থল ঘিরে ৭৩ কিলোমিটার ইনার রিং রোডের সুপারিশ করা হয়েছে। রিংরোডগুলোকে যুক্ত করতে নির্মাণ করতে বলা হয়েছে রাইডাল সড়ক। সুপারিশে বলা হয়েছে, ১২৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কথাও। চার ধাপে প্রায় ১ লাখ ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব সড়ক নির্মাণ করা হবে। এসটিপির আওতায় উত্তরার তৃতীয় ধাপ থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল (এমআরটি-৬) নির্মাণের কাজ চলছে। আরএসটিপিতে আরও চারটি মেট্রোরেলের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প মাটির ওপর ও নিচ দিয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা।

গতকাল খসড়া প্রকাশ অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকার সঙ্গে ডিটিসিএর আওতাধীন গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলাকেও পরিবহন পরিকল্পনায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এমআরটি-৬-এর কাজ চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে মূল কাজ শুরু হবে। ৮টি প্যাকেজের মধ্যে ৬টির দরপত্র ইতিমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে।

এসটিপি প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকালের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সড়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ সিদ্দিকী, জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি মিকিও হাতাইদা, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক কায়কোবাদ হোসাইন প্রমুখ।

সমকাল

Comments are closed.