নারায়ণগঞ্জে হাউজ বিল্ডিং করপোরেশনের কাজে গতি নেই

অপ্রতুল বাজেট, প্রদান করা ঋণের সীমাবদ্ধতাসহ নানা কারণে নারায়ণগঞ্জে মুখ থুবড়ে পড়েছে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের কার্যক্রম। ৪ বছর আগে ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে এ প্রতিষ্ঠানের জোনাল অফিসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও প্রতিষ্ঠানটি ঋণ গ্রহীতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। গত ৪ বছরে ৫৫ জন ঋণের জন্য আবেদন করে ঋণ পেয়েছেন ৪০ জন। ব্যাংকের চেয়ে সুদের হার কম হওয়া সত্ত্বেও এ প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি তৈরি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য ঋণ নিতে তেমন আগ্রহ নেই কারও। এ কারণে বেশির ভাগ সময় প্রতিষ্ঠানটির নারায়ণগঞ্জের জোনাল অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অলস পড়ে থাকছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জোনাল অফিসের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জে ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। ঋণ প্রদানে এ দুটি জেলার জন্য বছরে এই প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ মাত্র ৫ কোটি টাকা। ৭টি ক্যাটাগরিতে শতকরা ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১২ ভাগ সুদে নারায়ণগঞ্জ সদরে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ এবং মুন্সীগঞ্জ সদরে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা বাড়ি তৈরি, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের জন্য ঋণ দেওয়া হয়। এসব ঋণ ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছরে পরিশোধযোগ্য। হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় তাদের ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এরিয়া ছাড়াও জেলার সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব ও কাঞ্চন এবং আড়াইহাজার উপজেলার আড়াইহাজার ও গোপালদীতে পৌরসভা রয়েছে। আর মুন্সীগঞ্জে মুন্সীগঞ্জ ও মীরকাদিম পৌরসভা রয়েছে। দুটি জেলার এতগুলো এরিয়া থাকলেও এসব এরিয়ায় ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাত্র ৫ কোটি টাকা নারায়ণগঞ্জ জোনাল অফিসের কর্মকর্তারাই অপ্রতুল বলছেন।

এদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো সাধারণ ক্যাটাগরিতেই কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। ইউসিবিএল ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হাছান মিয়া বলেন, তারা গত ৩ বছরে শুধু মুন্সীগঞ্জ জেলাতেই বাড়ি নির্মাণের জন্য ৩০ কোটি টাকার মতো ঋণ দিয়েছেন।

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা :হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন এবং অন্যান্য ব্যাংক থেকে বাড়ি তৈরির জন্য ঋণ পাওয়ার শর্ত একই। ঋণ গ্রহীতার নামে জমির দলিলপত্র থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভবনের নকশার অনুমোদন থাকতে হবে। পাশাপাশি ঋণ গ্রহীতাকে প্রাথমিক বিনিয়োগের সামর্থ্য থাকতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং বন্দরের কদমরসুল এলাকা সিটি করপোরেশনের অধিভুক্ত হলেও ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর রাজউক কর্তৃপক্ষ এক আদেশে দেশের সব সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষমতা রোহিত করেছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অধিভুক্ত এলাকার বাসিন্দাদের ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য এখন রাজউক কর্তর্পক্ষের শরণাপন্ন হতে হয়।

নারায়ণগঞ্জের চেয়ে মুন্সীগঞ্জের ঋণ গ্রহীতা বেশি :হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের নারায়ণগঞ্জ জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অধিভুক্ত এলাকা এবং সোনারগাঁয়ে ভবন তৈরির নকশা রাজউক থেকে পাশ করাতে হয়। কিন্তু রাজউক কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জে তেমন নকশার অনুমোদন দিচ্ছে না বলে ঋণের জন্য আবেদনকারীরা তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। এ জন্য নারায়ণগঞ্জে ঋণের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা কম। পক্ষান্তরে মুন্সীগঞ্জে নারায়ণগঞ্জের চেয়ে ঋণের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি। কারণ মুন্সীগঞ্জের ২টি পৌর এলাকার বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা থেকে ভবনের নকশার অনুমোদন পান।

৪ বছরে ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা মাত্র ৪০ : নারায়ণগঞ্জে জোনাল অফিস স্থাপনের পর গত চার অর্থবছরে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে মাত্র ৪০ জনকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। তবে উত্তরাধিকার সূত্রে ৪২০ জন ঋণ গ্রহীতাকে নিজেদের ক্লাইন্ট হিসেবে পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানের জোনাল ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জে জোনাল অফিস স্থাপনের আগে এখানে ঋণ আদায়ের জন্য একটি ছোট পরিসরে অফিস ছিল। আগে ঢাকার মিরপুরে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় থেকেই নারায়ণগঞ্জের ঋণ গ্রহীতাদের ঋণ দেওয়া হতো। ওই সময় শুধু ঋণের টাকা আদায়ের জন্য নারায়ণগঞ্জে একটি অফিস ছিল। ওই সময়ের ৪২০ জনের মধ্যে এখনও ৪০-৪২ জনের মতো ঋণ গ্রহীতা রয়েছেন যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন না। পূর্ণাঙ্গ অফিস স্থাপনের পর যাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যেও ১৮-২০ জন ঋণ গ্রহীতা সঠিকভাবে ঋণ পরিশোধ করেন না।

সমকাল

Comments are closed.