ইস্ট বেঙ্গল, চট্টগ্রামে গোলের বন্যা চায়

বাংলাদেশে এসে ফুটবলপ্রেমীদের গোলের বন্যায় ভাসানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন কলকাতার বিখ্যাত ক্লাব কিংফিশার ইস্ট বেঙ্গল। গত দুইদিন দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে কঠোর অনুশীলনে দেখা যায় ভারতের জনপ্রিয় এই ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের।

গতকাল প্র্যাকটিসের ফাঁকে মানবজমিনের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন দলটির অধিনায়ক, ম্যানেজার ও খেলোয়াড়দের চোখে মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রত্যাশা। আশাবাদ ব্যক্ত করলেন ভাল ফুটবল উপহার দেয়ারও। দলটির ম্যানেজারের আদি বাড়ি এই বাংলাদেশে বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ)। ঘাম ঝরানো অনুশীলনের একপর্যায়ে ভীষণ ব্যস্ত দেখা গেল তাকে। রক্ষণভাগ, মিডফিল্ড আর স্ট্রাইকিং-৩ জালে পরাস্ত করার বিষয়ে তিনি জানালেন তার পরিকল্পনার কথা।

স্বপন বল কলকাতার কিংফিশার ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন ধরে। এবারের বাংলাদেশ সফর নিয়ে নাকি তার ওপর অনেক আশা ভরসা সংশ্লিষ্টদের। তাই খানিক চিন্তিতও তিনি। বললেন, গ্রুপ বি এর সবকটি দলই ভাল ফুটবল খেলে। তাই ঢাকা ও চট্টগ্রাম আবাহনীকেই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বী মানছেন তারা। এই গ্রুপে থাকা অপর আরেকটি দল হচ্ছে করাচি ইলেক্ট্রিকস।

আপনাদের দলটি কিভাবে সাজানো হয়েছে-জানতে চাইলে পানির বোতল হাতে ম্যানেজার স্বপন বল বলেন, এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে আমার দলের বাছাই করা ১৩ জন খেলোয়াড় আইসিএল-এ খেলতে চলে গেছেন। বাকি যারা এসেছেন তাদের মধ্যে বিদেশী খেলোয়াড় রয়েছেন অনেকে। এদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার দুদু ইয়ং ও নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার রন্টি মান্টিং রয়েছেন। দুদু ইয়ং কলকাতা লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

কেবল বিদেশী খেলোয়াড়দের নিয়ে জয় পাবেন তো?-প্রশ্ন করতেই একগাল হাসি দিয়ে তিনি বলেন, ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা। আমরা চাইছি গোল করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে। ৩ জন নাইজেরিয়ান ও ১ জন দক্ষিণ কোরিয়ান খেলোয়াড় আছে দলে। তারা দাঁড়িয়ে গেলে কিছু একটা হবে।

ম্যানেজার স্বপন বলের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন মাঠের একপ্রান্তে নকশা আঁকছিলেন দলের অধিনায়ক দীপক মণ্ডল ও দলীয় কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। এই সময় খেলোয়াড়রা ছিলেন বল নিয়ে মাঠে দৌড়াদৌড়িতে। আর সেই দৃশ্য দেখেই কাল সন্ধ্যা ৭টার খেলার ছক কষছিলেন তারা। এ খেলায় তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী।

দীপক দীর্ঘদিন ইস্ট বেঙ্গলের সঙ্গে আছেন। অধিনায়ক হয়ে কতটুকু জেতাতে পারবেন দলকে? প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, আমরা স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যাবো। চাপ নিলেই চাপে পড়ে যাবো। তবে চাইবো প্রথমার্ধে একটি গোলে অন্তত এগিয়ে থাকতে।

আমাদের গ্রুপে যারা আছেন তাদের খেলা টিভিতে দেখেছি। ইউটিউবেও আছে। এখানকার আবাহনী-মোহামেডান দলে যারা খেলেন তাদের বেশির ভাগ প্লেয়ার পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছ থেকে ভাল ফুটবল আসবে এটাই স্বাভাবিক।

দলের কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য এতোক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন অধিনায়কের কথা। খানিকটা যোগ করে তিনি বলেন, কলকাতা লীগে আমরা ভাল খেলেছি। তবে দলের মূল প্লেয়াররা আসতে পারলে মনোবল আরও বেশি চাঙ্গা হতো।

মানবজমিন

Comments are closed.