বিক্রমপুরের সুয়াপাড়ায় মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ: ইতিহাস

সালাহউদ্দিন সালমান: ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর সমৃদ্ধশালী বিক্রমপুরের প্রাচীন একেকটা ইতিহাস যেন অবিনাশী দৃষ্টান্ত বিক্রমপুরের আনাচেকানাচে যেমন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একাধিক অজর অনন্য নিদর্শন তেমনি আছে বিশ্ব মানচিত্র উজ্জল করার একেকজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব।

মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর খ্যাত স্থান যেন বাংলাদেশে প্রাচীন নিদর্শনের দ্বিপ্তিময় এক সৌধ নজরকাড়া মায়াবী একেকটা ইতিহাস অকপটে বিজ্ঞান টেকনোলজি নবআবিষ্কৃত যন্ত্রকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে জানান দিচ্ছে,এই বিক্রমপুরের মাটিতে আমরা আমৃত্যু নয়নাবিরাম উজ্জল নক্ষত্র।

তেমনই একাধিক নিদর্শনের মধ্যে কালের সাক্ষী হয়ে বিক্রমপুরের সুয়াপাড়ায় অনড় দাঁড়িয়ে আছে সুয়াপাড়া মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ,বজ্রযোগিনী বাজার থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে সুয়াপাড়া প্রাচীন এই বিস্ময়কর মসজিদটি আরেকটি প্রাচীন দীঘির পশ্চিম পাড়ে সুয়াপাড়া মিয়া বাড়ি মসজিদ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে যেন অনন্তকাল ধরে।

মুসলিম উম্মাহর তীর্থস্থান এই মসজিদটির নির্মাণ শৈলী যে কাউকে আপ্লত করবে অনায়াসে,সব চেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এই মসজিদটি কারো হাতে নির্মিত নয় ইতিহাস মতে এই তীর্থস্থানটি গায়েবী মসজিদ নামেই পরিচিত।কবে কখন, কীভাবে কে নির্মাণ করেন তার ইতিহাস কোথাও লিখা নেই।কেউ বলেন এটি গায়েবী মসজিদ।আবার কেউ মত দেন এটি স¤্রাট শাহজাহান নির্মাণ করেন।

আবার অনেকে বলেন এই মসজিদটি স¤্রাট জাহাঙ্গীরের নির্মাণ,অত্র এলাকায় যাদের বয়স ৭৫-৮৫ এর মধ্যে তারা বলেন মসজিটি স¤্রাট আকবর নির্মাণ করেছেন।তথ্যমতে মুন্সীগঞ্জ জেলা বা প্রাচীন বিক্রমপুরে স¤্রাট আকবরের কোন নিদর্শন নেই এবং স¤্রাট শাহজাহান এর সময়ও কোন নির্মাণ ছিলোনা। স¤্রাট জাহাঙ্গীরের সেনাপতি ইসলাম খান চিশতী ঢাকা বিজয়ের আগে বিক্রমপুর জয় করেন। এ বিক্রমপুরে চাঁদরায় কেদার রায়ের সাথে ইসলাম খানের অন্তত পাঁচটি যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ইসলাম খান জয়ী হন। ইসলাম খান মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের পাথরঘাটায় ‘বিক্রমপুর’ জয় করে মসজিদ নির্মাণ করেন। যা পাথরঘাটা মসজিদ নামে পরিচিত।

বিক্রমপুর ইতিহাস পরিষদের মতে সুয়াপাড়ার এ প্রাচীন মসজিদটি পাঠান এবং মুঘল প্যাটার্নে নির্মিত। এ মসজিদটি খুব সম্ভবত কররানী শাসকদের সময় ব্রজযোগিনী গ্রামের সুয়াপাড়ায় নির্মিত হয়। ‘মসজিদটি ১৫৬৮-১৫৭৫ সালে নির্মাণ হয়।

ক্রাইম ভিশন

Comments are closed.