ব্যাহত: শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকের সংকটে পাঠদান

মুন্সিগঞ্জে শতাধিক বছরের পুরোনো এ ভি জে এম সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান (ক্লাস) বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ১৮৯২ সালে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্যকোর্টগাঁও এলাকায় এ ভি জে এম সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯১ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ বিদ্যালয় সারা দেশের মধ্যে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করে। বেশ কয়েকবার জেলার সর্বোচ্চসংখ্যক জিপিএ-৫ পায়। চলতি বছর এসএসসিতে ৩৮ জন জিপিএ-৫ পায়।

বর্তমানে প্রভাতি ও দিবা শাখায় বিদ্যালয়টিতে ১ হাজার ৭৫২ জন ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪৬টি। একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ ১৫টি পদ শূন্য আছে। একজন সহকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণে আছেন। এ ছাড়া অসুস্থ থাকায় দুজন শিক্ষক এক মাস ধরে বিদ্যালয়ে আসতে পারছেন না।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, ২০১৩ সালে বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে জরাজীর্ণ তিনতলা একাডেমিক ও শিক্ষক ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত দুটি ভবনের ১৩টি শ্রেণিকক্ষে পড়ানো হচ্ছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিদ্যালয়ের পূর্ব ও দক্ষিণ কোণে দোতলা ছাত্রীনিবাসে ছয়টি শ্রেণিকক্ষ খোলা হয়। এ কারণে ছাত্রীনিবাস বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আয়শা বেগম বলেন, জরাজীর্ণ ভবনটিতে শ্রেণিকক্ষসহ শিক্ষক ও কর্মচারীদের কক্ষ ছিল। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বেলায়েত হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক-সংকট তো আছেই। এ ছাড়া শিক্ষকদের থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাকে প্রতিদিন ঢাকা থেকে বিদ্যালয়ে আসতে হয়।’

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বলেন, ‘আমরা ভবনটি সিলগালা করে দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত ডিজি অফিসে (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) পাঠিয়েছি।’
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (মুন্সিগঞ্জ সদর) মো. এনামুল হক বলেন, ‘জেলা কমিটি বিদ্যালয়ের ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেটা এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়নি। তারপরও আমরা কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা ভেবে নতুন ভবন নির্মাণে প্রাক্কলন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।’

প্রথম আলো

Comments are closed.