গজারিয়ায় নির্বিচারে গাছ কাটা নিয়ে উত্তেজনা

গজারিয়া উপজেলার ভিটিকান্দি গ্রামের আম, জাম, আমড়াসহ নানা ধরনের ৩০ ফলের বৃক্ষ নির্বিচারে নিধন করা হয়েছে। এই নিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে উত্তেজনা। গাছের মালিক মো. আজিম উদ্দিন ঘটনার দিনই থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে পাঁচ দিনেও কেউ গ্রেফতার হয়নি।

গাছের মালিক মো. আজিম উদ্দিন জানান, শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশী শাহানুর ফরাজি তার আত্মীয়স্বজন নিয়ে গাছগুলো কেটে দেয়। এই এলাকায় রাস্তা প্রসস্থ করার কথা রয়েছে। এই রাস্তা প্রসস্থ করণের ক্ষেত্রে তার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু রাস্তা প্রশস্ত করণ প্রকল্প গ্রহণের আগেই কোন রকম মাপ ঝোপ ছাড়াই বাড়ির ভিতরে গাছগুলো এলোপাথাড়ি কুপিয়ে কেটে দেয় শাহানুর। এর আগে তার মামা মফিজুল ইসলাম মামুনের গাছও একইভাবে কেটে ফেলে শাহানুর ও তার আত্মীয়স্বজন।
মো. আজিম উদ্দিন জানান, মূলত রাস্তা নিয়েই এ গাছ টাকা নয়। এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এর আগেও ১৯ মে সন্ধ্যা ৭টায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের হিসেবে শাহানুরের আত্মীয়-স্বজন আমার বাড়ির উত্তর সীমানার বাসের সমস্ত ভেড়া, ইট দিয়ে তৈরি পাকা সীমানা উঠিয়ে ফেলে এবং আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরদিন ২০ মে গজারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। ডায়েরি নং-৭৫৬।

এরজের ধরে প্রেক্ষিতে ৩ অক্টোবর এই ফলের বৃক্ষ নিধন করে। পরে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। শাহিনুর নিজেকে রক্ষায় রাস্তার জন্য গাছ কাটা হয়েছে প্রচার করছে।

গজারিয়া উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী মো. ই¯্রাফিল জানান, রাস্তা প্রশস্ত করণ প্রকল্প এখনও গ্রহণ করা হয়নি। অনুমোদন তো পরের বিষয়। গজারিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আপন কুমার মজুমদার ঘটনাস্থল ঘুরে এসে জানান, গাছ কাটার ঘটনাটি সত্য। তবে শাহানুর ব্যক্তিগত শত্রুতার কারনে গাছ কর্তন করলে গ্রাম পঞ্চায়েতকে রাস্তা প্রশস্ত করণের জন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি প্রশন করে বলেন. রাস্তার জন্য গাছ কাটতে হলে শাহানুর কেন কাটবে, তাকে গাছ কাটার এখতিয়ার কে দিল?

মামুনের স্ত্রী অধ্যাপক জেনিফা আক্তার বলেন, এত কষ্টে গড়ে তোলা গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলা হল। বিষয়টি দু:খজনক। এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিচার হওয়া উচিত। নতুবা তারা একের পর এক এমন ঘটনা ঘটিয়েই যাবে ।

জনকন্ঠ

Comments are closed.