বিশ্লেষন: কেন বিদেশিরা টার্গেট?

আঙ্গুর নাহার মন্টি: দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ‘ভাবমূর্তি’ নিয়ে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। এ যেন জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও দেশের নিরাপত্তার প্রতি বড় ধরণের এক চ্যালেঞ্জ। তাই বাংলাদেশের মতো অতিথিপরায়ণ দেশে দুই বিদেশির হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে ভাবছে না কেউ। এই নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। হঠাৎ করে বিদেশিরা কেন হামলার টার্গেট হলেন তা নিয়ে নানা মহলে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে কি কোন গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে? অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে কি কেউ অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে? কারা এই ষড়যন্ত্রকারী? এসব প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে সচেতন মানুষ সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সফর স্থগিত, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সতর্কবার্তা জারির পর পরই রাজধানীর ক‚টনৈতিক পাড়ায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হন ইতালির এনজিও কর্মী সিজার তাভেলা। তাকে হত্যার দায়িত্ব স্বীকার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) একটি বিবৃতিও দিয়েছে।

সর্বশেষ রংপুরে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন জাপানি নাগরিক হোসি কোনিও। এই দুই হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিবৃতির মাধ্যমে দায় স্বীকার করায় বিষয়টি আরো ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। সত্যিই কি বাংলাদেশে আইএস মাথা চাড়া দিচ্ছে? জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টিকারী বাংলাদেশ সরকার অবশ্য আইএসের বিষয়টি মানতে নারাজ। বরং সরকারকে বেকায়দায় ফেলার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে তারা। এসব ঘটনায় প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে পর্যুদস্ত জামায়াতে ইসলামীর দিকেই এখন সরকারের অভিযোগের আঙ্গুল।

খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডকে সুপরিকল্পিত এবং বিএনপি-জামায়াতের মদদে হয়েছে বলে গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেও দুই বিদেশি হত্যাকে শুধুই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন না। তাদের ধারণা, দুই বিদেশি হত্যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিপাকে ফেলতে চাইছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র। পাশাপাশি আইএস ইস্যুকেও উড়িয়ে দিতে চাইছেন না এসব বিশেষজ্ঞ। এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী দুই বিদেশি হত্যাকে প্রধানমন্ত্রীর মতোই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছে ষড়যন্ত্রকারীরা। যে সময় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে পুরস্কার গ্রহণের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশের অবদানের কথা বিশ্ব নেতাদের কাছে তুলে ধরছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে সারা দুনিয়া বাংলাদেশের নাম বারবার উচ্চারণ করছে, ঠিক সেই সময়ে এই দেশে এ ধরনের ঘটনা সরকারের অর্জনকে ¤øান করতেই ঘটানো হচ্ছে। বাংলাদেশে নিরাপত্তা নেই এমন আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে ষড়যন্ত্রকারীরা। বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে বিদেশি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে তারা। তবে সরকার সব ধরনের আশঙ্কাকে বিবেচনায় রেখে এই দুই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সব ধরনের জঙ্গিবাদ ও সহিংসতা সরকার কঠোরভাবে দমন করবে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দুর্বৃত্তররা এক ধরনের সন্ত্রাসে ব্যর্থ হয়ে আরেক ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেছে নিয়েছে। মূলত দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যই এসব কার্যক্রম। আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশের দুজন নিরীহ লোককে যেভাবে গুলি করা হয়েছে, তাতে বুঝাই যাচ্ছে দেশের অগ্রগতিকে নস্যাৎ করার জন্য তারা এটি করেছে। তিনি বেশ জোর দিয়েই বলেন, বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই। কোনো জঙ্গি সংগঠনকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেইনি। সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। দুই হত্যার কারণ উদঘাটনে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ স্থানীয় রাজনৈতিক ইন্ধনে দেশবিরোধী অপশক্তি এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে মনে করেন। তার মতে, এই মুহ‚র্তে শুধু বিদেশিদেরই না, দেশ ও জনগণের নিরাপত্তায় জোর দেয়া উচিত। তদন্তের সময় কেউ যেন কোনো ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে আরেকটা ঝামেলা তৈরি করে সুবিধা না নিতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান এই দুই হত্যার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে করেন। তার মতে, একটি শক্তি অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে। আল-কায়েদা এবং আইএসের হত্যার ধরনের সঙ্গে এই দুই হত্যার মিল নেই। তবে আমাদের দেশে জঙ্গিদের পুরোপুরি নির্মূল করা হয়েছে ভাবলে চলবে না। জঙ্গিরা নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এদের পরিচালিত কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে গোয়েন্দা সংস্থার দুর্বলতায় এসব জঙ্গি বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, এটি আমাদের মনে রাখতে হবে। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি না করে সুষ্ঠু তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট টিমের বংলাদেশ সফরে না আসার ঘোষণার পরপরই গুলশানে ইতালির নাগরিক খুন। অন্যদিকে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার গ্রহণ আর তারপরই রংপুরে জাপানি নাগরিক খুন। দুই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য দূতাবাসগুলোর রেড এলার্ট জারি। প্রতিটি ঘটনা একটি একক বিষয়কে ইঙ্গিত করছে, আর তা হচ্ছে বাংলাদেশ অনিরাপদ। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি অর্জন সত্বে এসব ঘটনায় বিদেশিরা ভড়কে গিয়ে সরে যাক, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জাপানও দূরে সরে যাক, বন্ধুহীন হয়ে পড়–ক শেখ হাসিনার সরকার এটাই মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে খাটো করা এবং বাংলাদেশকে উৎকট ইসলামি মৌলবাদী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন ক্ষমতাসীন দলের গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যথার্থ ঘনিষ্ঠতা এবং জনগণের কাছে আরো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

এদিকে, দেশের বাইরে থেকে যারা এই দুই হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন সহিংস কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন তাদের অনেকেই আইএস ইস্যুটিকে ছোট করে দেখতে চাইছেন না। তাদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে নিতে নিরলস কাজ করছে সরকার, সেই একই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বীজবপনেরও অপচেষ্টার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ বলেন, বিদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনাগুলো কেবল উদ্বেগজনক নয়, বড় ধরনের অশনি সংকেতও। যদিও এর সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বা আঞ্চলিক জঙ্গিদের সম্পৃক্ত থাকার আশঙ্কাই বেশি এবং এগুলো মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ঘটনা এক অর্থে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেগশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক অভিজিৎ রায়ের হত্যার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে। তার ধারণ বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলার দুটো কারণ রেিয়ছে। প্রথমত, এতে করে সহজেই বিদেশি গণমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়; দ্বিতীয়ত, এতে করে কেবল সংশ্লিষ্ট দেশই নয়, অন্য দেশও উদ্বিগ্ন হয় এবং তা সরকারের ওপরে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। এগুলোর সামগ্রিক প্রভাব অন্য যে কোনো হত্যাকাণ্ডের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে সহিংস চরমপন্থা বা জঙ্গিবাদের ঘটনা প্রায় দুই দশকের। ২০০৫ সালে আত্মঘাতী হামলার ঘটনার মধ্যে দিয়ে আমরা একটি কৌশলগত পরিবর্তন দেখেছিলাম, ২০১৫ সালে বিদেশি নাগরিকদের হত্যার মধ্য দিয়ে আমরা সম্ভবত আরেকটি কৌশলগত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি।

টরন্টো প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে আসলে ইসলামিক স্টেটের একটি ভিডিও বার্তাকে ঘিরে। গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ হওয়া ইসলামিক স্টেটের ওই ভিডিও বার্তায় ‘সুবিধা মতো স্থানে’ আইএস বিরোধী মোর্চায় অংশ নেয়া দেশগুলোর নাগরিক এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর কথা বলা হয়। পশ্চিমা দেশগুলো এই ভিডিও বার্তা বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন দেশে তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা অবলম্বনের প্রস্তুতি নেয়। তবে যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া নিজস্ব গোয়েন্দাসূত্রের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে অপরাপর পশ্চিমা দেশগুলোকে জানিয়ে দেয়- সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সময়টায় বাংলাদেশে পশ্চিমা নাগরিকরা জঙ্গিদের হামলার শিকার হতে পারে। এই তথ্য নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডা, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা হচ্ছিল। কাজেই তাদের এলার্ট বা সতর্কতা জারি অতি স্বাভাবিক এবং কাক্সিক্ষত ঘটনা। কেননা, একটি দেশ তার নাগরিকদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে আগাম সতর্কতা নিচ্ছে- এটাই তো আমরা রাষ্ট্রের কাছে চাই। সেই বিবেচনায় পশ্চিমা দেশগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে সতর্কতা জারির মাধ্যমে। বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ক‚টনীতি যে ঠিকমতো কাজ করছে না, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে যথেষ্ট তৎপর নয়- সেটিও কিন্তু প্রমাণিত হয়ে গেল এ ঘটনায়। যে দুজন বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে খুন হয়েছেন সরকারের কাছে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাংলাদেশে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিদেশিদের মনে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে সরকারের নানা পর্যায়ে উদাসীনতা সুযোগসন্ধানী মহলকে উৎসাহিত করে থাকবে। দুজন বিদেশিকে হত্যা করে কেউ কোনো ধরনের সুযোগ নিতে চেয়েছে কিনা সেটাও তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকে তীক্ষè নজর রাখলে যে কেউ বুঝে যাবেন এই সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠীটি আসলে কারা। তদন্ত কাজের গতিই সেটি স্পষ্ট করে দেবে।

অনাবাসী সাংবাদিক ও সন্ত্রাসবাদ বিশ্লেষক মাসকাওয়াথ আহসান বলেন, আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান বৈশ্বিক রাজনীতিতে এই মুহূর্তে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। যে সময়ে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীটি আত্মপ্রকাশ করে একই সময়ে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কট্টরপন্থীরা আইএসের জঙ্গি অভিযানের শপথ নিয়েছিল। সুতরাং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার ডমিনো এফেক্টে বাংলাদেশে যে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা অস্বীকার করা হবে আত্মঘাতী মনোভঙ্গী। বর্তমান পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি রক্ষায় সরকারের গাফিলতির ফল বলে মনে করেন এই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক। তিনি বলেন, এটি সমসাময়িক সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক অভিঘাত হিসেবে বিবেচনা করাই সঙ্গত। বাস্তবকে অস্বীকার না করে বাস্তব পরিস্থিতিকে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে মোকাবেলা করাই যৌক্তিক হবে। মাইক্রো-রাজনীতির উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর দোষারোপের পুরনো চর্চা সংকট সমাধানে কাজে আসবে বলে তিনি মনে করেন না। তার মতে, এখন প্রয়োজন আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠা জরুরি।

ভোরের কাগজ

Comments are closed.