শ্রীনগরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে নগ্ন ভিডিও ধারণঃ গ্রেপ্তার ২

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবী করার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পাতিাবর সকালে গ্রেপ্তার কৃত উজ্জল (২৮) ও মিন্টু (৩৮) কে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার রাতে শ্রীনগর বাজারের স্বর্ণ ব্যাবসায়ী লক্ষন পোদ্দারের দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

মামলার সূত্রধরে পুলিশ জানায়, শ্রীনগর কলেজ গেটের নুরুল ইসলাম মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া সুমা (২২) লক্ষন পোদ্দারের পাওনা ২ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে গত বুধবার সকাল দশটার দিকে মোবাইল ফোনে বসায় ডেকে নেয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষন পোদ্দারকে ঘরে ডেকে নিয়ে সুমা বিবস্ত্র হয়ে যায়। এসময় সুমার যোগ সাজসে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা উজ্জল, মিন্টু, আল-আমিন, অনুপ ঘোষ ও রাজিব মিলে লক্ষন পোদ্দারকে নগ্ন করে সুমার সাথে ভিডিও ধারণ করে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ও মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে তারা হুমকি দেয়।

ওই দিনই দাবীকৃত চাঁদার এক লক্ষ টাকা পরিশোধের শর্তে তারা তিনশ টাকার ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে লক্ষন পোদ্দারকে ছেড়ে দেয়। ছাড়া পেয়ে লক্ষন পোদ্দার শ্রীনগর থানায় ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই আলমগীর কবির জানান, ভিডিওটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, গত বছর এক নারীর সাথে অবৈধ ভাবে শারীরীক সম্পর্ক স্থাপনের সময় এলাকাবাসী লক্ষন পোদ্দারকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। পরে ওই নারী বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় লক্ষন পোদ্দারের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই মামলায় লক্ষন পোদ্দারকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের অভিবাবকরা জানান, লক্ষন পোদ্দারের বিরুদ্ধে এলাকায় নারী ঘটিত একাধিক ঘটনা রয়েছে। সুমাও এলাকায় দেহ ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত। ওই দিন লক্ষন পোদ্দার অপকর্ম করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পরে। পরে নিজের অপকর্ম ঢাকতেই চাঁদাবাজী মামলা দিয়েছে।

Comments are closed.