ইলিশ ধরার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২২

পাঁচজনের কারাদণ্ড, ১৭ জনকে জরিমানা
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধভাবে ইলিশ ধরা ও কারেন্ট জাল রাখার অভিযোগে পাঁচজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড এবং ১৭ জনকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল কালাম এ দণ্ডাদেশ দেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী এ আদেশ অমান্য করে পদ্মার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মা ইলিশ নিধন করছিলেন। আর অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা তা পদ্মাসংলগ্ন আড়তগুলোতে বিক্রি করছিলেন- এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে ২২ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ২০০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। মা ইলিশ ধরা ও কারেন্ট জাল রাখার অপরাধে পাঁচজনের প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন : মাদারীপুরের জাজিরা উপজেলা মোতালেব মাদবরের ছেলে হযরত আলী, একই এলাকার আলী আকবরের ছেলে খলিল বেপারী ও রশিদ মুন্সীর ছেলে বাউলী মুন্সী এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ এলাকার মৃত আলম শিকদারের ছেলে নুরু মিয়া শেখ ও একই এলাকার আহমদ দফাদারের ছেলে খলিল শিকদার।

এ ছাড়া বাকি ১৭ জনের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ১৪ জনকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। পাঁচজন জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাদেরকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। যদি তারা টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন তবে তাদেরকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া জব্দকৃত কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মা ইলিশ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, লৌহজং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মফিজুর রহমান ও এসআই হাফিজুর রহমানসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ।

কালের কন্ঠ

Comments are closed.