শেষ পর্যায়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

জেলায় শেষ পর্যায়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। টানা তিনদিন ধরে বৃষ্টির কারণে ক্রেতা সমাগম ছিল কম। হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও মিলেনি কাঙ্খিত ক্রেতা। বুধবার ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এতে গরু ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দর বেশি হাঁকলেও বুধবারের চিত্র ভিন্ন। হাটগুলোতে গরুর অভাব নেই। ক্রেতারাও গরু কেনার ক্ষেত্রে কৌঁসুলি ভাব নিয়েছে। সব মিলিয়ে গতবছরের মতো এবারও কম দামে গরু বিক্রি করতে হতে পারে। এমন আশঙ্কা বিক্রেতাদের।

জেলায় ৫০টি কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু, খাসি ও ভেড়া নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও মিলছে না কাঙ্খিত ক্রেতা। এতে করে লোকসানের আশঙ্কা করছেন বিক্রেতা ও হাট ইজারাদারগণ।

জেলার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিলো না। আবার যেসব ক্রেতা আসছেন পছন্দের পশুটি কিনতে তারা ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।

অন্যদিকে নৌ-পথে চাঁদাবাজির ও জোর করে অন্য হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। হাটগুলোতে গরুর আমদানি অনেক বেশী। হাট এলাকা ছাড়িয়ে রাস্তায় উঠে এসেছে গরুর হাট। তাই ক্রেতা মনে করছে আজ গরুর দাম কমবে। তাই দেখে শুনেই কেনা ভালো।

শহরের মানিকপুরের আতাউর রহমান বলেন, কয়েকটি হাট ঘুরে আসলাম, তবে পছন্দের পশুটি কেনা হলো না। দাম আরো পড়বে। তাই একটু ধৈর্য ধরেই কিনি। আর বৃষ্টির কারণে আরো বেশি সমস্যা হচ্ছে। গরু কিনে আনলে রাখার জায়গা নিয়ে সমস্যায় পরতে হতে পারে। তবে দাম যাই হোক ঈদের আগের দিন পছন্দের গরুটি কিনার ইচ্ছা আছে।

জেলার অন্যতম গরুর হাট মাওয়া। এখানে এবার গরুর যেনো ঢল নেমেছে। হাটের মাঠ ছেড়ে রাস্তাঘাট এমনকি আশে পাশের বাড়ির উঠোনেও গরুর হাট বসেছে। হলদিয়ার এমারাত হোসেন জানান, বুধবার সকালে এসে দেখি গরুর অভাব নেই। দামও নাগালের মধ্যে গতবারের থেকে অনেক কম। তাই দেরি না করে কিনেই ফেললাম।

গরু বিক্রেতা শরিয়তপুরের জলিল হোসেন বলেন, গরু বিক্রি করবো বলে মিরকাদিমের হাটে ৩৫টি গরু এনেছি। এখনো একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। যারা গরু কিনবে তারা বেশি দাম শুনলে চলে যায়। আমাদের এক একটি গরুর পিছনে যে পরিমাণ শ্রম ও টাকা ব্যয় হয়েছে, সেই দাম না পেলে কিভাবে বিক্রি করবো। লোকসান দিয়েতো আর গরু বেচতে পারি না।

মিরকাদিম গরুর হাট ইজারাদার আকমল মৃধা বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে পশু বিক্রি কম হচ্ছে। হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতা সমাগম একটু কম। তবে ঈদের আগের দিন বেচাকেনা হতে পারে।

ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করে জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমদাদ হোসাইন বলেন, চাঁদাবাজি ঠেকাতে নৌ ও সড়ক পথে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে করে গরু বেপারীরা তার পছন্দের হাটে গরু উঠাতে পারে। গরুর বেপারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে হাটে জোর করে গরু উঠানোর খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাসস

Comments are closed.