গজারিয়া পুলিশের বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

সাংবাদিক আঁখি নাটক
মোহাম্মদ সেলিম: সাংবাদিক আঁখিকে ইয়াবা দিয়ে ধরার পেছনে গজারিয়া থানা পুলিশ প্রতিপক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গজারিয়া পুলিশের সাথে আঁখির বিষয়ে মিডিয়া ডিল করে গজারিয়ার মাই টিভি’র প্রতিনিধি আসাদ। এলাকায় আসাদকে নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। আসাদ মাই টিভির নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যে আঁখির বিরুদ্ধে বাদি হয়েছে সে হাজেরা কোথায় কাজ করে। হাজেরা যেখানে কাজ করে সেই মিলের ম্যানেজার আসাদকে দিয়ে গজারিয়া থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার এ বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করলে এর থলের বিড়াল বের করতে পারবে বলে সাংবাদিক সমাজ মনে করে।

গজারিয়ায় পুলিশের ইয়াবা নাটকের শিকার হয়েছেন আঁখি আক্তার (২৮) নামের এক মহিলা সাংবাদিক। পৈত্রিক ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার অভিনব কৌশল অবলম্বনে প্রতিপক্ষ প্রতিবেশির চক্রান্তে পুলিশের সহায়তায় ওই সাংবাদিককে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, আঁখি আক্তারের পৈত্রিক বসত ভিটা নিয়ে তার প্রতিবেশি হাজেরা বেগমের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে মুন্সীগঞ্জের আদালতে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। এক পর্যায়ে শুক্রবার শালিস বৈঠক চলাকালে আঁখি আক্তারকে বৈঠক থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পুলিশের ওই রিমান্ড আবেদনের সঙ্গে কেস ডায়েরির (সিডি) না থাকায় আদালত তা শুনানি করেন নি। যথাসময়ে কেস ডায়েরি না দিয়ে রিমান্ড আবেদন করায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা দিদারুল আলম খানকে আদালত শোকজ করেছে। আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুন-উর-রশিদ এই পুলিশ কর্মকর্তাকে সোমবার আদালতে হাজির হয়ে সিডি যথাসময়ে জমা না দিয়ে রিমান্ড আবেদনের কারণ ব্যাখ্যার আদেশ দিয়েছে।

এই তথ্য দিয়ে নারী সাংবাদিকের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির শাহিন মিঝি জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ইয়াবা নাটক সাজিয়ে এই সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, এই মাদক মামলাটির বাদি হাজেরা বেগমের স্বামীর সঙ্গে আঁখির পরিবারের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেই প্রতিহিংসায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করে এটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আঁখির মা। এই আইনজীবী জানান, আঁখির মা নাসিমা বেগম মুন্সীগঞ্জের এডিএম কোর্টে ১৪০/১৫ নম্বর মামলা করেছেন। এই মামলার ৩ নং আসামি এই হাজেরা বেগমের স্বামী শফিকুল। এছাড়া হাজেরা বেগমের স্বামী শফিকুলের দায়ের করা গজারিয়া সহকারি জজ আদালতের দেওয়ানী ১১৫/১৩ নম্বর মামলার ৭০ নম্বর বিবাদি আঁখির বাবা এনামুল হক। আইনজীবী আরো জানান, এছাড়া ৩(৯)১৫ নম্বর মাদক মামলার এজাহারের সঙ্গেও বাস্তবতার বিস্তর ফারাক রয়েছে।

পুলিশের দাবি এই নারী সাংবাদিকের ঘরের খাটের নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো ২শ’ ৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু যখন তার ঘরে তল্লাশি চালানো হয় তখন আঁখি ছিলেন একটি সালিশ বৈঠকে। এই ইয়াবা নাটক নিয়ে এখানে মুখরোচক আলোচনার ঝড় উঠেছে। এদিকে আঁখিকে গ্রেফতারের পর মহলটি আঁখির মা নাসিমা বেগমকে বেদম মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে বাড়ি থেকে। তিনি এখন মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসাতালে ভর্তি রয়েছেন। আঁখির ভাইসহ পরিবারের সকলেই এখন বাড়ি ছাড়া। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আঁখির বাবার বাড়ির ঘর থেকে এই ইয়াবা উদ্ধার এবং তার ভাইকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে প্রায় ৫শ’ গজ দূরের সালিশ বৈঠক থেকে আঁখিকে আটক করে ভাইকে ছেড়ে দেয়া হয়।

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত গজারিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের একাংশের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন (নয়া দিগন্ত) ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম নয়ন (বিজয় টিভি) জানিয়েছেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নারী সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার ঘটনায় প্রতিবেশি মিজানের বাড়িতে সালিশ বৈঠক চলছিল। বৈঠকের এক পর্যায়ে পুলিশ এসে তার ঘরে ইয়াবা উদ্ধার দাবি করে আঁখি আক্তারকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। এর আগে সকাল ৮টার দিকে গ্যাস লাইনের সংযোগে আঁখিদের পরিবার থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় নিয়ে প্রতিবেশি ওসমানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আঁখিকে চপটাঘাত করে ওসমান। বিষয়টি আঁখি পুলিশ এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে অবগত করে।

পরবর্তীতে থানা পুলিশ না করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি মিমাংসায় সালিশ বৈঠকে বসে। দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের গজারিয়া প্রতিনিধি আঁখি আক্তার জানান, ভূমিদস্যু এবং হত্যাসহ কয়েক মামলার আসামি মো. ওসমান ও মো. মিজানের সঙ্গে তাদের জমি ভরাট নিয়ে বিরোধ চলছিল। এসব কারণেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তিনি। গজারিয়া থানার এসআই ও মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা দিদারুল আলম খান বলেন, “কেস ডায়েরি ডাকে পাঠানো হয়েছে, হয়ত পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। তবে আঁখিকে কোথা থেকে কখন গ্রেফতার করা হয়েছে তা আমি এখনও জানি না। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তা। যারা গ্রেফতার করেছেন তারাই বলতে পারবেন। আর এই মামলার বাদি পুলিশ নয়, প্রতিবেশি এক নারী।” পুলিশের এমন কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক তদন্ত না করে এমন ঘটনা ঘটালে পুলিশের উপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে বলে সচেতন মহল দাবি করেন।

বিক্রমপুর সংবাদ

Comments are closed.