ইভটিজিং: বাধা দেয়ায় শিক্ষককে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা

ইয়াসির সরকার পাভেলঃ মুন্সিগঞ্জ শহরের ই-হক কোচিং সেন্টারে ইফটিজিংএ বাধা দেয়ায় অষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্র তার চাচা এবং চাচার গুন্ডাবাহিনী সাথে নিয়ে শিক্ষককে অমানুষিক নির্যাতন এবং গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে ৷

কোচিং এর ছাত্র-ছাত্রীদের দেয়া তথ্যমতে, সাগর (১৩) নামে একজন শিক্ষার্থী ই-হক কোচিং সেন্টারের ৮ম শ্রেনী ব্যাচে পড়তো৷ একই ব্যাচের মেয়েদের সাথে নোংরা এবং অশালীন আচরন করার জন্য শিক্ষকরা তাকে বার বার সতর্ক করে দেয়৷ এতে সে শিক্ষকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে কোচিং সেন্টারে যাওয়া বন্ধ করে স্কুলে গিয়ে কোচিং এর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছে বলে বেড়ায় যে শিক্ষক নাহিয়ানের (৪৫) জন্য তার দুটি প্রেমিকা হাতছারা হয়ে গেছে৷ ঐদুটি মেয়ের জন্যই সে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল৷ নাহিয়ান স্যার বাধা দেয়ায় সে কোচিং সেন্টারে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এ ব্যাপারে নাহিয়ানকে সে উচিৎ শিক্ষা দিবে৷ এক শিক্ষার্থী কৌসলে তার কথাবার্তা রেকর্ড করে নেয়৷

গত ৪ সেপ্টেম্বর সাগর কোচিং সেন্টারে না ঢুকে কোচিং এর বাইরের রাস্তায় দারিয়ে থেকে একজন ছাত্রীর সাথে অশালীন আচরন করলে ছাত্রীটি কাঁদতে কাঁদতে এসে শিক্ষকদের কাছে নালিশ করে৷

এতে ক্ষীপ্ত হয়ে শিক্ষক নাহিয়ান এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী গিয়ে সাগরকে ধরে আনলে সে হাত পা ছুরে সাবাইকে মারতে উদ্দত হয় ৷এক পর্যায়ে তাকে কন্ট্রোল করতে না পেরে একটি রূমে তাকে আটকে রেখে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয় ৷ খবর পেয়ে তার চাচা মোহাসিন তার গুন্ডাবাহিনী নিয়ে কোচিং এ এসে কোন কথা না শুনেই শিক্ষক নাহিয়ানকে কলার ধরে পেটাতে থাকে এবং শিক্ষককে ছাত্রছাত্রীদের কাছে ছোট করার জন্য প্রত্যেক ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সামনে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পর, লাথি-ঘুষি মারতে থাকে ৷এক পর্যায়ে জবাই করতে উদ্দত হলে কোচিংয়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকরা তাকে রক্ষা করে৷ পরে মোহসিন চলে গিয়ে মুন্সিগঞ্জে হলুদ সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত এক সাংবাদিকের সহায়তায় উল্টো শিক্ষক নাহিয়ানের বিরূদ্ধেই মামলা ঠুকে দেয় ৷

এ ব্যাপারে শিক্ষক নাহিয়ান জানান, ছাত্রীর ইফটিজিং এর প্রতিবাদ করেছি এটাই কি আমার দোষ?ছাত্র -ছাত্রীদের সামনে এমন অপমান সহ্য করার চেয়ে আত্যহত্যা করা অনেক বেশি সহজ৷

আকাশের চাচা মোঃ মোহসিনের সাথে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক দেখা করলে তিনি সাংবাদিকদের পরিচয় নিয়ে আক্রমনাত্মক স্টাইলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়৷

এরপরে আবারো তিনি শিক্ষক নাহিয়ানকে থানায় ধরে নিয়ে অপমান করে মুন্সিগঞ্জ সহর ছাড়তে বাধ্য করেন৷ বর্তমানে নাহিয়ান রহমান, মোহসিন এবং তার সাহায্যকারী স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তির অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ৷

Comments are closed.