মুক্তারপুর সেতু: মোটরসাইকেল রেস, প্রাণশঙ্কায় এলাকাবাসী

মঈনউদ্দিন সুমন: মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত ষষ্ঠ চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু। স্থানীয়ভাবে এটি মুক্তারপুর সেতু হিসেবে পরিচিত। দৃষ্টিনন্দন ও ছিমছাম সেতুটির ওপর দিয়ে প্রতিনিয়তই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যায় স্থানীয় যুবকরা। তাদের কেউ কেউ সেতুতে মোটরসাইকেল রেসেও নামে। এতে ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রাণহানিও হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর সেতুর ওপর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন মারা গেছে। এ জন্য মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেছে স্থানীয় কয়েকজন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার কারণে সেতুতে লোক সমাগম কম হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছে, অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে আসা রেজিস্ট্রশনবিহীন ও বাংলাদেশের রাস্তায় চলাচল নিষিদ্ধ ২৫০ সিসির মোটরসাইকেল বেপরোয়া গতিতে চলে। এ কারণেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

মুক্তারপুরের বাসিন্দা মো. রহিম মোল্লা বলেন, ‘চাকরির সুবাদে প্রতিদিনই ব্রিজ পার হয়ে আসতে-যেতে হয়। বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত এ ব্রিজের ওপর দিয়ে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল রেস প্রতিযেগিতা চলে, অর্থাৎ কে কার আগে যাবে। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলে। খোঁজ নিয়ে দেখবেন প্রতিটি দুর্ঘটনার সঙ্গে এসব মোটরসাইকেল জড়িত। এরা ব্রিজের ওপর বারবার চক্কর দেয়।’

মুক্তারপুরের আম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘ডায়াবেটিসের রোগী আমি। প্রতিদিন ব্রিজে হাঁটতে যেতাম। এখন যাই না। যে জোরে জোরে মোটরসাইকেল চলে! ভয় লাগে, কখন মোটরসাইকেল গায়ে তুলে দেয়। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই।’

এ বিষয়ে দীঘিরপার ট্রান্সপোর্টের চালক বলেন, ‘বিকেলে ব্রিজে মোটরসাইকেলের মহড়া দেখা যায়। আমাদের খুব আস্তে ব্রিজ পার হতে হয়। মোটরসাইকেল যদি আমাদের লাগাইয়া দেয়, সেটাও আমাদের ওপর দোষ পড়ব। আর মোটরসাইকেলগুলার কোনো কাগজপত্র নাই। ২৫০- ৫০০ সিসির সবমোটর সাইকেল।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামল হালিম ফোনে বলেন , ‘গতকালের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছে । আমরা শুনেছি ব্রিজে মোটরসাইকেল দ্রুত গতিতে প্রতিযোগিতা দেয়। অচিরেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এনটিভি

Comments are closed.