শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি: এক সপ্তাহ পর স্বাভাবিক হবে ফেরি চলাচল

মোজাম্মেল হোসেন সজল: আগামী এক সপ্তাহ পর মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ওই রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করতে পুরোদমে চলছে ড্রেজিং। এ নিয়ে গত ১৫ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ অন্যতম রুট শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন শিমুলিয়াঘাটের বিআইডব্লিউটিসির উপমহাব্যবস্থাপক এস এম আশিকুজ্জামান।

এদিকে, গত ১৬ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এ সময়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ বা সরকারকে। এদিকে, মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ এলাকায় শিমুলিয়া লঞ্চঘাটের সামনের চরে পদ্মা নদীর মুখে ড্রেজিং শুরু করা হয়েছে। শিমুলিয়া লঞ্চ ও সিবোট ঘাটের সুবিধার জন্য বুধবার থেকে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার-১৩৭ দিয়ে গত বছরের ন্যায় এবারও চর কেটে ড্রেজিং করা হচ্ছে। তবে, কর্তৃপক্ষ এবার চরের মাটি কেটে ভাঙনকবলিত কুমারভোগ ইউনিয়ন পরিষদ, শিমুলিয়া বাজার, খড়িয়া গ্রামের সম্মুখ এলাকায় ফালানো হচ্ছে।

এতে করে কুমারভোগ এলাকার শিমুলিয়া বাজার, শিমুলিয়া, খড়িয়া গ্রামসহ বিস্তীর্ণ নদী তীরবর্তী এলাকা প্রমত্তা পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে। কেননা এর আগে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মার তীব্র ভাঙনে লৌহজং উপজেলার কুমারভোগের পদ্মা সেতু কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডসহ, শিমুলিয়া বাজার, খড়িয়া গ্রামের ব্যাপক এলাকা বিলীন হয়ে যায়। এ সময় খড়িয়া গ্রামের ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি নদী ভাঙন রোধে শিমুলিয়া ঘাটের সামনে পদ্মা নদীর মুখে চর এলাকার ড্রেজিং করে নদীর স্রোতের গতি পরিবর্তনের কথা বলে ভাঙনকবলিত মানুষকে আশ্বাস দেন।

এর পরপরই লৌহজংয়ের ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে আসেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কনসালট্যান্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে পদ্মার প্রবল স্রোতের গতি পরিবর্তন ও ভাঙন ঠেকাতে পদ্মার মুখে ড্রেজিং কাজ চালু করা হয়। এতে করে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভাঙন কবলিতরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে পেয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ড্রেজিং) সাইদুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) সুলতান আহমেদ খান জানান, শিমুলিয়া লঞ্চ ও সিবোট ঘাটের সুবিধার জন্য চর কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কনসালট্যান্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রেজিংকৃত চরের মাটি ভাঙনকবলিত কুমারভোগ ইউনিয়ন পরিষদ, শিমুলিয়া বাজার, খড়িয়া গ্রামের সম্মুখ এলাকায় ফেলা হচ্ছে। এতে করে শিমুলিয়া লঞ্চ ও সিবোট ঘাটের সুবিধার পাশাপাশি একইসঙ্গে বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকা প্রমত্তা পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে। তবে এ চরটি গতবারের মতো এখন থেকে প্রতি বছরই কাটা হবে।

মানবজমিন

Comments are closed.