বন্যা : টঙ্গীবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি

গত ২ দিনের টানা বর্ষন ও ওজান হতে নেমে আসা ঢলের পানিতে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। উপজেলার নদী তীরবর্তী পাচঁগাঁও, হাসাইল, কামাড়খাড়া, দিঘিরপার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ১হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাসাইল-পাচঁগাও, কাইচমালধা-আদাবাড়ি, চাঠাতিপাড়া-পাচঁগাওঁ, দশত্তর-চিত্রকড়া সংযোগ সড়কসহ উপজেলার অনেক কাচাঁ ও পাকা রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভারি বৃষ্টি ও উজান হতে নেমে আসা ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পাচঁগাঁও এলাকার ২ শতাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে প্রায় ২০দিন যাবৎ মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির খোজেঁ এ সমস্ত পরিবারের অনেককে কলসি নিয়ে বাশেঁর সাকোঁ পারি দিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার দূর হতে পানি আনতে দেখা গেছে। ঘরের মধ্যে কেউবা টং ঘর তৈরী করে চুলা বানিয়ে সেখানে রান্নার কাজ করছে। উঠানের মধ্যে বাশঁ দিয়ে পুল তৈরী করে তারা তাদের এক ঘর হতে অন্য ঘরে যাচ্ছে। তাদের গৃহপালিত গরুর ঘরগুলো কচুরী দিয়ে উচু করে বন্যার পানি হতে গরুগুলোকে রক্ষা করছে। একই ঘরের মধ্যে দির্ঘ ২০দিন যাবৎ পানি বন্দি হয়ে আছে গরুগুলো। এগুলোকে অন্য স্থান হতে ঘাস সংগ্রহ করে দেওয়া হচ্ছে।

পানির কারনে মশার উপদ্রুব বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনের বেলায়ও গরুগুলোকে মশারি টানিয়ে রাখা হয়েছে। নদী ভাঙ্গন কবলিত সব হারানো এই পরিবারগুলো একটু কম ভাড়া দিয়ে থাকার জন্য নদী তীরের এ সমস্ত স্থানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ আনোয়ারা বেগম জানান, আমরা প্রতিবছর ৩ হাজার টাকা ভাড়ায় এখানে জমি ভাড়া নিয়ে ঘর উঠিয়ে বসবাস করে আসছি। অন্য জমির ভাড়া বেশি হওয়ায় এই স্থানে ভাড়া একটু কম হওয়ায় এই জমি ভাড়া নিছি। একটু বেশি পানি হলেই আমাদের এই স্থান পানিতে তলিয়ে যায়।

গত বছর সরকার আমাগো চাউল দিলেও এবার আমরা কোন সহয়তা পায়নি। বিশুদ্ধ পানির খোজেঁ কলসি হাতে নিয়ে ছুটে চলা জলি বেগম জানান, আমাদের এখানে কোন আ¯্রােনিক মুক্ত টিউবওয়েল নাই। আ¯্রিেনক যুক্ত কয়েকটা টিউবওয়েল থাকলেও সেগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আধঘন্টা হেটে গিয়ে পানি আনতে হচ্ছে। পাচঁগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ইদ্রিস বেপারী জানান, দির্ঘ দিন যাবৎ এই পরিবারগুলো পানি বন্দি হয়ে থাকলেও আমরা তাদের জন্য কোন ত্রান সহয়তা পাচ্ছিনা।

বিক্রমপুর চিত্র

Comments are closed.