দুর্ভোগ : গজারিয়া উপজেলার প্রধান সড়কে দুর্ভোগ চরমে?

গজারিয়া উপজেলার দীর্ঘ ছয় কিলোমিটার প্রধান সড়কটি জোড়া তালি দিয়ে চলছে, যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায়। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ। এলাকাবাসী সড়কটি দ্রুত মেরামত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যে পড়েছে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড। এই বাসস্ট্যান্ড দিয়ে প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ, চলাচল করে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে চলে গেছে ভবের চর-রসুলপুর সড়ক। এই সড়ক দিয়েই যেতে হয় গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ ভবন, গজারিয়া থানা, উপজেলা ভূমি কার্যালয়, গজারিয়া সরকারি কলেজ, গজারিয়া আলিম মহিলা মাদ্রাসা, আলু সংরক্ষণের হিমাগার, ভবেরচর ওয়াজির আলী উচ্চবিদ্যালয় ও গজারিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে এমন কি জেলা শহর মুন্সিগঞ্জে যেতে হলে এ সড়ক ব্যবহার করতে হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক টির পিচ ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ভবের চর বাসস্ট্যান্ড, মাথাভাঙ্গা, চরপালিয়া ও শ্রীনগর অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। গর্তে পড়ে সিএনজি অটো রিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় রোগীদের চরম দুর্ভোগের সিকার হতে হচ্ছে। রসুলপুর গ্রামের হযরত আলী বলেন,এই সড়কই আমাগো যাওয়ার একমাত্র পথ। যে কোন কাজে সরকারী অফিসে যাইতে হয় এই সড়ক দিয়াই। অসুখ হইলে হাসপাতালে যাইতে হয়। আমাগো পোলাপানগো স্কুল ও কলেজে যাইতে হয় এই ভাঙা সড়ক দিয়া। চার-পাঁচ বছর ধইরা সড়কের বেহাল ধসা।’

ভবের চর ওয়াজির আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৫০০ ছাত্র ছাত্রী এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে। তাদের জন্য হলে ও সড়ক টি দ্রুত মেরামত করা দরকার। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সড়ক টি সড়ক ও জন পথ (সওজ) নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে। উপজেলা প্রশাসন ওই কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর

সড়কটি মেরামত করার জন্য চিঠি দিয়েছে। ভবের চর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ জানান, সড়ক টি নিয়ে গত মঙ্গলবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে, সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এড:মৃণাল কান্তি দাস, সড়ক টি মেরামতে উদ্যোগ গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবা বিলকিস জানান, সড়কটি মেরামত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে ইতি মধ্যে একাধিক বার সওজ অধিদপ্তর কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সংসদ মৃণাল কান্তি দাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘সড়ক টির কথা আমি শুনেছি। শিগগিরই সড়ক টি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ’সওজ কাঁচপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রসনিয়া ফাতিমা বলেন, সড়কটির নির্মাণে দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

যমুনা নিউজ

Comments are closed.