স্মৃতিচারণ: গ্রামের নাম কেওয়ার

গোলাম আশরাফ খান উজ্জল: বাংলার প্রাচীন রাজধানী বিক্রমপুর। এ বিক্রমপুরের ইতিহাস প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বছরের পুরনো। বিক্রমপুরের কিয়দাংশ এখন মুন্সিগঞ্জ জেলা হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশে সুপরিচিত। এ মুন্সিগঞ্জ জেলার একটি শান্ত, মায়াবী গ্রামের নাম কেওয়ার। ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা, সবুজের সমারোহ কেওয়ার।

মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে পৌর এলাকার দক্ষিণ পাশ ঘেঁষা কেওয়ার গ্রামের অবস্থান। কেওয়ার গ্রামের পশ্চিমে মহাকালী, সরস্বতী, উত্তরে চাম্পাতলা ও রন্ছ, পূর্বে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও চরকেওয়ার, দক্ষিণে বাগেশ্বর ও চরচাপরা। আয়তন প্রায় ২ বর্গমাইল। লোকসংখ্যা ৬ হাজার। শিক্ষিত জনসমষ্টি ৬২%। তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যথাÑ উত্তর কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুটি মাদ্রাসা রয়েছে এ গ্রামে। আর মসজিদ রয়েছে ১৩টি। প্রতিটি মসজিদেই সকালে আরবি শেখার জন্য মক্তব চালু রয়েছে। কেওয়ার আদর্শ জুনিয়র হাইস্কুল নামে একটি নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে এ গ্রামে। অগ্নিবীণা সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন, অগ্রগামী নাট্যগোষ্ঠী, অঙ্কুর, অর্কিড নামে কয়েকটি সংগঠন বা ক্লাবের অস্তিত্ব রয়েছে এ গ্রামে।

এ সংগঠনগুলো শিল্প-সংস্কৃতি ও খেলাধুলা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কেওয়ার গ্রামের মাটি খুব উর্বর। এ ভূমি উর্বর পলিমাটি হওয়ায় এখানে প্রচুর ফসল অল্প পরিশ্রমে হয়। আলুই কেওয়ার গ্রামের প্রধান ফসল। এ ছাড়া ধান, পাট, কলা এবং বিভিন্ন প্রকার তরিতরকারির আবাদ হয়। আম, জাম, বরই (কুল), চালতাসহ সবধরনের ফল জন্মে। এ গ্রামে কড়ই, মেহগনি ও বাঁশ প্রচুর লক্ষ্য করা যায়। উত্তর কেওয়ার মঘাই দীঘি ও বার আউলিয়া মাজার দীঘি দুটি ইতিহাস খ্যাত। কেওয়ার গ্রামের ওপর দিয়ে জেলা পরিষদ ও এলজিইডির কয়েকটি রাস্তা বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।

এর মধ্যে কাঁটাখালী-রামসিংহ সড়ক, পিচঢালা রাস্তা, লোহারপুল ভাঙ্গা সড়ক, সাতানিখীল-মদিনাবাজার সড়ক, মুন্সিগঞ্জ মাকহাটি-দিঘিরপাড় সড়কও এ গ্রামের ওপর দিয়ে চলে গেছে এবং তা পিচঢালা পথ। কেওয়ার গ্রামে মুসলমানদের আধিক্য বেশি পরিলক্ষিত হয়। মোট জনসংখ্যার ৯০ ভাগই মুসলমান এ গ্রামে। বাকি ১০ ভাগ হিন্দু। কেওয়ার ঋষিবাড়িতে হিন্দুদের একটি কালীমাতা মন্দির রয়েছে। আর দক্ষিণ কেওয়ারে রয়েছে একটি শ্মশান। এ গ্রামে নিম্ন শ্রেণির হিন্দুদের বাস। যেমন পাতর পাড়ায় দাস ও জেলে। ঋষিপাড়ায় মুচি, মধ্য কেওয়ারে ঘোষ। এরা দই-মাঠা বিক্রি করে।

সাপ্তাহিক

Comments are closed.