নববধূ পালিয়ে যাওয়ার পর পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে বিয়ে করলেন সৌদি প্রবাসী!

শ্রীনগরে বিয়ের চারদিনের মাথায়
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে বিয়ের চার দিনের মাথায় নববধূ পালিয়ে যাওয়ার দশ দিন পর পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন এক সৌদি আরব প্রবাসী। গত শুক্রবার রাত দশটার দিকে উপজেলার বাঘরা ইউনিয়নের কাঠাল বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের পরপরই বেরশিক পুলিশ দুদফা হানা দেওয়ায় বাসর করতে পারেনি প্রবাসী যুবক আরিফ হোসেন (২৮)। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বিয়ের পরও বাসর করতে না পারায় এনিয়ে এলাকায় চলছে মুখরোচক আলোচনা। স্থানীয়রা জানায়, ওই গ্রামের শামসুল শেখের সৌদি প্রবাসী ছেলে আরিফ হোসেন ্এক মাস আগে দেশে আসে।

গত দশ দিন আগে সে কামারগাও এলাকার বাচ্চু ফকিরের মেয়ে সম্পা আক্তার (১৮) কে বিয়ে করে। বিয়ের দিন বাসর ঘরে ঢুকেই নববধূ বাথরুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে জানিয়ে দেয় আরিফের সাথে ঘরসংসার করা সম্ভব নয়। এভাবে চারদিন অতিবাহিত হওয়ার পর সম্পা তার বাবার বাড়িতে পালিয়ে যায়। এর পরই আরিফের চোখ পড়ে ইটালী প্রবাসী নুর জামালের মেয়ে আল আমিন সিনিয়র মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী নাসরিন আক্তার (১২) এর উপড়।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তরিঘড়ি করে বিয়ের আয়োজন করার সময় এলাকার লোকমুখে শুনে আল আমিন সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক আরিফ বিল্লাহ বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়েটি পাড়াতে নিষেধ করেন। সর্বশেষ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুল হক ফোনে আল আমিন মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে বিয়েটি বন্ধের জন্য উদ্যোগ নিতে বলেন।

তারপরও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রাত দশটার দিকে বাঘরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোকাজ্জল মেম্বার, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আলী মাদবর, কাঠাল বাড়ী আশ্রাফিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ফিরোজ হাফেজ, মোসলেম ব্যাপারী, ইদ্রিস মেম্বার, আজানুর মাদবর সহ ২০/২৫ জন উপস্থিত থেকে বিয়ে দেন এবং কৌশলে তা নিবন্ধন করানো থেকে বিরত থাকেন।

মৌলভী হিসাবে বিয়ে পড়ান কাঠালবাড়ি মাদ্রাসা মসজিদের ঈমাম ও খতিব মুফতি আজিজুর রহমান। বাল্য বিয়ের সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে এগারটার দিকে পুলিশ নিয়ে হাজির হন শ্রীনগর থানার এসআই রেজাউল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বর সহ বাড়ীর লোকজন পালিয়ে যায়। রাত সাড়ে তিনটায় দ্বিতীয় বার পুলিশ হানা দিলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।

এব্যাপারে বাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাছের মেম্বার জানান, তিনি নিজেও বিয়েতে বাধা দিয়েছিলেন কিন্তু তা কেউ মানেনি।

Comments are closed.