পদ্মা : ফেরির পথ খুলতে শিমুলিয়া যাবে পদ্মা সেতুর ড্রেজার

মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাওড়াকান্দির পথে ফেরি পারাপার স্বাভাবিক করতে পদ্মা সেতুর কাজে ব্যবহৃত বড় আকারের একটি ড্রেজার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়।

রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ জনপদের সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরি পথে নাব্য সঙ্কটের কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে পারাপার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জোয়ারের উপর নির্ভর করে এতদিন ছোট ফেরি দিয়ে পারাপার চালু রাখার চেষ্টা হলেও গত চারদিন ধরে তাও কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রোববার বিকালে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজান খান। সেখানে পদ্মা সেতুর কাজে ব্যবহৃত বড় আকারের একটি ড্রেজার ব্যবহার করে লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট খনন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সে অনুযায়ী একটি পর্যবেক্ষক দল সোমবার শিমুলিয়ায় আসবে। তাদের পর্যবেক্ষণের পরই ড্রেজিং শুরু হবে। এই ড্রেজার ব্যবহার করা গেলে নাব্য সঙ্কটের সমাধান হবে বলে আশা করছেন মন্ত্রী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এই ফেরি সার্ভিস কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে সোমবার একটি পর্যবেক্ষক দল ঘটনাস্থলে যাবে, তাদের মতামতের পরই এ বিষয়ে বলা যাবে। এখন শুধু নাব্য সঙ্কট না, অস্বাভাবিক স্রোতও দেখা দিয়েছে।”

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর ছয়টি ড্রেজার সেখানে থাকলেও তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করতে পারছে না।

“এই স্রোতের মধ্যে কেবল তিনটি ফেরির চলার ক্ষমতা রয়েছে, সেগুলো চলার চেষ্টা করছে।”

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ম্যানেজার শেখর চন্দ্র রায় জানান, স্বাভাবিক সময়ে এই রুটে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ বার ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়। কিন্তু পদ্মার চ্যানেলে পলি জমে গভীরতা কমে যাওয়ায় বর্তমানে একটি বা দুটি ফেরি দিয়ে দিনে সাত থেকে আটবার পারাপার সম্ভব হচ্ছে।

তিনি জানান, শিমুলিয়া-কাওড়াকন্দি রুটে চারটি রো রো ফেরিসহ ১৮টি ফেরির মধ্যে গত দুইদিন কুসুমকলি নামে ছোট আকারের একটি ফেরি চললেও রোববার রাতে তা বিকল হয়ে যায়।

“ফেরিটি সারানোর জন্য বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ওর্য়াকশপে কাজ চলছে। পরে ক্যামেলিয়া নামের আরেকটি ফেরি রাতে কাওড়াকান্দির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সেটি শিমুলিয়া ঘাটে ফেরেনি।”

বিডিনিউজ

Comments are closed.