বিক্রমপুর একদিন উপ-মহাদেশের ইতিহাসে বর্ণিল বাঁক সৃষ্টি করবে

নিউইয়র্কে নূহ-উল আলম লেলিন
নিউইয়র্কে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেলিন বলেছেন-বিক্রমপুরে ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে। আমাদের জানা ইতিহাসের পাতায় বিক্রমপুরের যে টুকু উজ্জ¦ল্য আছে, এর চেয়ে ঢের আলোকময় ইতিহাস লুকিয়ে আছে। বিক্রমপুরের মাটির নিচে হাজার বছরের পুরানো ইতিহাস-সভ্যতা চাপা পড়ে আছে। এ সব ইতিহাস বের হয়ে আসলে বিক্রমপুর একদিন ভারত উপ-মহাদেশের ইতিহাসে বর্ণিল বাঁক সৃষ্টি করবে। তিনি গত ১৬ আগষ্ট বিকেলে জাকসন জাইটসে বাংলাদেশ প্লাজার মিলনায়তনে এ কথা বলেন।

এই সভায় প্রবাসী বিক্রমপুরবাসী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট লেখিকা ড. পুরবী বসু। এ সভায় নূহ-উল-আলম লেলিন সমাজ বদলে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন- ড. ইউনূস ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচিকে প্রাতিষ্ঠান রূপ দিয়েছেন ঠিক। তবে এর সূচণা করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নোবেল প্রাপ্তির পর পুরস্কারের অর্থ বাংলাদেশের দু’একটি পল্লীর দরিদ্র মানুষদের কাছে ক্ষুদ্র ঋণ হিসাবে বিতরণ করেছিলেন। তাঁর জমিদারী এলাকার পল্লীর হত-দরিদ্র পরিবারে অর্থ ঋণ দেয়ার শর্ত ছিল ছেলে-মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে হবে। বাড়ির অনতি দূরে শৌচাগার তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া হাতের নখ কাটাসহ স্বাস্থ্য সচেতনামূলক কর্মসূচি ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতাদের শর্ত দিয়েছিলেন তিনি।

কবি রবীন্দ্রনাথের এই ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি দেখভাল করতেন কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কবির আরেকজন শিষ্য। এ কথা উল্লেখ করে নূহ-উল-আলম লেলিন আরো বলেন-মানুষের কল্যাণে কাজ করাটাই আসল কথা। পুরো দেশকে বদলে দেয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি না। এটা সম্ভবও নয়। তবে নিজ নিজ এলকায় আমরা যদি মানুষের কল্যাণে কাজ করি, তাহলে পুরো দেশের চেহেরা বদলে দেয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, কবি রবীন্দ্রনাথও পুরো ভারত বর্ষের বা বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্য বদলের উদ্যোগ নেননি। তিনি নিজের জমিদারী এলাকার নিভৃত দু-একটি পল্লীর মানুষের ভাগ্য বদলাবার চেষ্টা করেছিলেন। সকলে যদি কবিগুরুর মত একটি গ্রাম বা গ্রামের মানুষের জীবনে মানব কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে সমাজ অগ্রসর হবেই।

নূহ-উল-আলম লেলিন বলেন-আমি রাজনীতি করি। তবে এমপি বা মন্ত্রী হবার ইচ্ছা আমার নেই। রাজনীতির মধ্য দিয়ে সমাজ বদলের কাজে লিপ্ত রয়েছি। আমাদের লক্ষ্য-আগে মানুষকে ‘মানুষ’ তৈরি করা। মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলীর চেতনা জাগ্রত করার ব্রতে নিয়োজিত রয়েছি। আগে মানুষ, এরপর রাজনীতি বা ধর্মীয় পরিচয়। আসল কথা, একজন মানুষকে আলোর পথের যাত্রী করাই আমাদের লক্ষ্য। এই বোধ বা চেতনা থেকে আমরা অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি। ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট্ট পরিসরে নামহীনভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

আমরা একটি লাইব্রেরী ও জাদুঘর তৈরির উদ্যোগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। পর্যায়ক্রমে এর কর্ম পরিধি বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে ‘আগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন’ নামে সাংগঠনিক কাঠামোও প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ফাউন্ডেশন থেকে বিক্রমপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তিনি বলেন- ইতিমধ্যে আমরা মাটির নিচে চাপা নবম-দশম শতকের বৌদ্ধ নিদর্শন খনন করে উদ্ধার করেছি। অষ্টম-নবম দশকের নগর উদ্ধারের কাজও চলছে। বিক্রমপুরের মাটির নিচে চাপা পড়া আজনা ইতিহাসকে আমরা তুলে আনার কর্মযজ্ঞে এই ফাউন্ডেশন কাজ করছে। তিনি এই কাজে প্রবাসী সকলকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেয়ার জন্য আহবান জানান। বর্তমান সরকার ফাউন্ডেশনের কাজকে সফল করতে আশানুরূপ সহযোগিতা করছে বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

ভোরেরকাগজ

Comments are closed.