‘মাসুদ রানা’কে সভাপতি দেখতে চান তৃনমুল ছাত্রদল নেতা কর্মীরা

শেখ মো. রতন: মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে মাসুদ রানাকে দেখতে চান তৃনমুল ছাত্রদল নেতা কর্মীরা। তবে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে অনেক নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুদ রানা।

বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ন হলেও বর্তমান সরকারের রাজনীতিতে বিএনপি কোন ঠাসা থাকার কারনে নতুন কমিটির ঘোষনা আসছে না। এর আগে জেলা ইউনিটের কয়েকটি কমিটি চুড়ান্ত হওয়ার পরও ছাত্রদলের পদ নিয়ে অনেক ছাত্রনেতারা অনেকে পুলিশি গ্রেফতারের ভয়ে রাজনীতি থেকে অনেকটাই দুরে সরে গেছে, অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে ও আত্মগোপনে রয়েছে অনেকে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতি প্রধানত ছাত্রদলের উপর নির্ভরশীল। জেলা বিএনপি’র রাজনীতিতে ঐক্য ও শক্তিমত্তা না থাকায় জেলাতে কোন আন্দোলনে সফলতা দেখাতে পারছে না।

কেন্দ্রীয় ভাবে ঘোষিত যে কোন কর্মসুচিতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা’র নেতৃত্বে ১৫-২০ জন নেতা ছাড়া অন্যদের রাজপথে দেখা যায় নাই।

তবে দীর্ঘ নয় বছরে পর নতুন নেতৃত্বের জন্য পুলিশের চোখের আড়লে থেকে নতুন কমিটি গড়ার আশা করছে জেলা ছাত্রদল।

জেলা বিএনপি’র এক স্থানীয় নেতা জানান, “ছাত্রদলকে সু-সংগঠিত করতে হলে তরুন উদীয়মান ছাত্র নেতাদের দিয়ে কমিটিগুলো ঢেলে সাজাতে হবে। যোগ্যতা সম্পন্ন নেতাকেই কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো: মাসুদ রানার বিকল্প নেই। কোনো লবিং-তদবির বা সুপারিশ না দেখে যোগ্য ও কর্মঠ হিসেব করতে গেলে মাসুদ রানাই জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

এর আগে কয়েক দফা মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষনা করার কখা খাকলেও বার বার বিভিন্ন কারনে পিছিয়ে যাচ্ছে তা। বর্তমান ইস্যু হিসেবে দেখানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসানসহ সারা জেলার বিএনপি’র নেতা কর্মীদের মিছিলে পুলিশের বাধাঁ ও হামলা-মামলা ওগ্রেফতার। এইসব পরিস্থিতির মধ্যেও এ বছরের আগামি সেপ্টেম্বরে জেলা ছাত্রদলের কমিটির ঘোষনা করা হতে পারে বলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি সুত্রে জানা গেছে।

এদিকে, সুত্রটির মাধ্যমে আরো জানা গেছে, ২০০৬ সালে গজারিয়া উপজেলার আমিনুল ইসলাম (জসিম) কে সভাপতি ও শ্রীনগর উপজেলার আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল কে সাধারণ সম্পাদক করে ৮১ সদস্যের মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষনা করা হয়।

পরে ২০১০ সালে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি’র দায়িত্ব গ্রহন করলে ঐ শুন্য পদে মাসুদ রানাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

এর পর থেকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত পাবার পর থেকে মাসুদ রানা নিরলস ভাবে ছাত্রদলের জেলার প্রতিটি ইউনিট কে পুনঃগঠিত করে কমিটি ঘোষনা করা হয়।

তবে ২০১৫ সালে এসে দেখা যায় সেই কমিটির অনেকেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করছে না। অনেক ছাত্রনেতা বিএনপি’র এই দুঃসময়ে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। অনেকে মামলা খেয়ে রয়েছেন আত্মগোপনে।

অধিকাংশ কমিটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের এখন নড়বরে অবস্থা বিড়াজ করছে। এই মুহুর্তে নতুন সু-সংগঠিত কমিটির দাবী তৃনমুল থেকে শুরু করে শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। দীর্ঘদিন বিএনপি’র রাজপথে থাকা যোগ্য ছাত্রনেতাদের হাতে জেলা ছাত্রদলের দ্বায়িত্ব তুলে দেয়া জরুরী বলে মনে করছে তারা ।

এর মধ্যে মো: মাসুদ রানা বিএনপির দুঃসময়ে মাঠে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম ও মিছিল-মিটিং করার কারণে জেলা ছাত্রদলের নামের আলোচনায় প্রথমে রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটিতে এবার স্থান হচ্ছেনা বিতর্কিত নেতাদের। ক্লিন ইমেজ, মেধাবী ও পরিশ্রমী নেতারাই কমিটিতে স্থান পাবেন। সেক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের নেতা বাছাইয়ের কাজ অনেকটাই শেষ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে আসা দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত নেতারা। তারা কয়েক দফা মুন্সীগঞ্জে এসে অনুসন্ধানে চালিয়ে গেছে।

এছাড়া মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্ধী বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা হাবিবে আলম শাহরিয়ার ও বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুদ রানা ছাড়াও মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সদস্য মোজাম্মেল হক মুন্না, সিরাজদিখান উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কাজী কামরুজ্জামান লিপুও মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হতে আগ্রহী বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।

সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুদ রানা বলেন, ছাত্রদলের যারা নিবেদিত কর্মী আমরা সবাই সবার ভাই-বন্ধু, সহযোদ্ধা ও সহকর্মী হিসেবেই ছিলাম এবং থাকবো। তবে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি হওয়া প্রয়োজন এটা সময়ের দাবী। ত্যাগী, পরিশ্রমী, পরীক্ষিত মেধাবী ও সাহসিরাই আগামী জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্ব পাবে বলে আশা রাখি। আগামী জেলা কমিটি নিয়েও আমাদের মধ্যে কোন ধরনের বিভেদ নেই।

আমরা ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, আছি এবং থাকবো। তবে যতদিন বেঁচে থাকবো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ আর আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনীতি করে যাব।

টাইমটাচনিউজ

Comments are closed.