লাশ : লিবিয়া যাওয়ার পথে লাশ হলেন মুন্সীগঞ্জের সোহাগ

দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যাওয়ার পথে সুদানে লাশ হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে হলো মুন্সীগঞ্জের কলেজছাত্র সোহাগ মিয়াকে। গতকাল রোববার পর্যন্ত সোহাগের লাশ কোথায় কীভাবে রয়েছে, তা জানতে পারেনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার তাতিকান্দি গ্রামে সোহাগের পরিবার। দালালের মাধ্যমেই সুদানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালাচ্ছে পরিবারটি। শনিবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই মা শাহিদা বেগম ও বাবা বাচ্চু মোহাম্মদ বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের সোলারচর গ্রামের লিটন বেপারী ও আবু সুফিয়ান নামের দুই আদম ব্যবসায়ী সাড়ে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ২ আগস্ট সোহাগকে নিয়ে যায়। একসঙ্গে যাত্রা করে সোহাগসহ একই ইউনিয়নের আরও ২০ জন।

সোহাগের মামা বজলু জানান, সোহাগের সহযাত্রীরা শনিবার লিবিয়া পেঁৗছে। তাদের একজন ফোনে সোহাগের পরিবারকে জানায়, ১৩ আগস্ট দুবাই হয়ে সোহাগসহ অন্যদের সুদান নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে লিবিয়া যাওয়ার জন্য মালবাহী গাড়িতে তাদের গাদাগাদি করে উঠানো হয়। গাদাগাদির কারণে পথেই শ্বাসরোধে সোহাগ মারা যায়। পরে দালালরা সোহাগের লাশটি রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

এদিকে সোহাগের মৃত্যুর খবর মুন্সীগঞ্জে পেঁৗছলে আদম ব্যবসায়ী লিটন ও সুফিয়ান বেপারীর পরিবারের লোকজন গ্রাম থেকে পালিয়ে গেছে। বজলুর অভিযোগ, এই দালাল চক্রের সঙ্গে কুমিল্লার ইউসুফ জড়িত। ইউসুফ সুদানে থাকে। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো লোকজনকে সুদানে ইউসুফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সদর থানার ওসি ইউনুচ আলী জানান, কলেজছাত্র মৃত্যুর খবর পুলিশকে কেউ অবগত করেনি। তার পরও এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।

সমকাল

Comments are closed.