মৃত্যু: ‘কথা দিচ্ছি সমুদ্রে নামব না’

‘ভাইয়া আমাদের টিকেট করা হয়ে গেছে শুক্রবার বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দেব। বিকেলে আমরা রামুর মন্দিরগুলো দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। কথা দিচ্ছি সমুদ্রে নামব না।’

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বড় ভাই দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে এ সব কথা বলেন সুমন আহমেদ (২৫)। কিন্তু এ কথা তিনি রাখতে পারেননি। কথা বলার দুই ঘণ্টার মাথায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঢেউ আলিঙ্গন করতে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলেন সুমন।

সুমন আহমেদ মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরের বাগরা এলাকার মরহুম আবুল কাশেম মোড়লের ছেলে। তিন দিন আগে চার বন্ধুকে নিয়ে কক্সবাজার এসেছিলেন তিনি।

সাগরের লাবণী পয়েন্ট থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রবি লাইফগার্ডের ইনচার্জ ছৈয়দ নুর।

সুমনের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘খবরের কাগজ ও টিভিতে সমুদ্রে গোসল করতে গিয়ে শিক্ষার্থীসহ অনেকের মৃত্যুর খবর দেখে মনটা অহেতুক আনচান করে উঠত। অজানা একটা ভয় তাড়িয়ে বেড়াত। তাই ছয় ভাইয়ের মাঝে সবার ছোট আদরের সুমন কক্সবাজার যাওয়ারকালে বার বার বারণ করেছি সাগরে পা ভিজাবি না। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকেও মোবাইলে কথা হয়। তারা শুক্রবার চলে আসার জন্য টিকেট কেটেছে এবং বিকেলে রামু দেখতে যাবে বলে জানায়। তখনো সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়। ভাইটা কথাও দিয়েছিল। কিন্তু হয়ত সমুদ্র ছুঁয়ে দেখার লোভ সামলাতে না পেরে দেওয়া কথা রাখতে পারল না।’

আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দেলোয়ার। এ সময় তার বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল শোনা যায়।

কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, সী-ইন পয়েন্টে গোসল করতে নামলেও স্রোতের টানে সুমন লাবণী পয়েন্টের দিকে চলে আসে। এটি দেখতে পেয়ে লাইফগার্ড কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে বিএ পাস করা সুমন অন্য ভাইদের সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা সামলাতেন। অনেক দিন থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার বায়না করছিল। সময় সুযোগ হয়ে না ওঠায় এতদিন যাওয়া হয়নি। তার কাছের বন্ধুরা মিলে তিন দিন আগে কক্সবাজার যান। তাদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ হলেও মতিঝিলে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিডিলাইভ২৪

Comments are closed.