৫০ একর জমিতে হচ্ছে মুদ্রণশিল্প পল্লী

দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার মুদ্রণ শিল্প-কারখানা আছে। এসবের মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে তিন ‍হাজারটি। এসমস্ত কারখানার প্রায় ৭০ শতাংশই অপরিকল্পিতভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে উঠেছে। এগুলোতে নেই সুষ্ঠু কোনো কর্মপরিবেশ। প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কারখানার কারিগরদের মানবেতর পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে।

এসব অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এসব কারখানার কারণে আশপাশের এলাকার পরিবেশে মারাত্মক দূষণ ও কেমিক্যাল বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে। অলিগলিতে স্যাঁতসেতে ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হয়েছে এসব শিল্প-কারখানা।

বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতি সূত্র জানায়, ঢাকার আরামবাগ, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, বিজয়ননগর, সূত্রাপুর, বাবুবাজার, ইসলামপুর, জিন্দাবাজার, লালবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেতসহ পুরান ঢাকার অলিগলিতে নোংরা পরিবেশে এসব শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রেস ও কারখানা।

বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুলকার শাহিন বাংলানিউজকে বলেন, মুদ্রণশিল্পে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার শ্রমিক সরাসরি কাজ করছেন। সকল শ্রমিকই রয়েছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। মুদ্রণ শিল্প-কারখানাগুলো অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে গড়ে উঠেছে। এতে করে অনেক দেশি ও বিদেশি বায়াররা আমাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।অনেক সময় বাড়ির মালিকেরাও আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধান ক্রেতা পোশাক ও ‍ওষুধশিল্প মালিকেরা। কিন্তু নোংরা পরিবেশের কারণে এরা অনেক সময় আমাদের কাছে আসেন না।’

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন(বিসিক) জানায়, এসব মুদ্রণ-কারখানাগুলোতে প্রবেশের জন্য নেই উন্নত রাস্তা। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ ও পয়:নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই অধিকাংশ মুদ্রণ কারখানায়।

বিসিক সূত্র আরও জানায়, মুদ্রণশিল্পের সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর পাশে ৫০ একর জমিতে প্রাথমিকভাবে মুদ্রণ শিল্পপল্লী গড়ে তোলা হবে। এখানে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের সব মুদ্রণ-কারখানা স্থানান্তর করা হবে। এখানে নদীতীরে মুদ্রণশিল্পপল্লী গড়ে তোলা হলে হবে বলে আগুন লাগলে তা নেভানোর জন্য সহজেই পানি পাওয়া যাবে।

‘বিসিক মুদ্রণশিল্প এস্টেট’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেয়া হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা মুদ্রণ শিল্প-কারখানাগুলোকে পরিবেশ বান্ধব হিসেবে ঢেলে সাজানোর জন্যই উপযুক্ত স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি। আর এ লক্ষ্য সামনে রেখেই সব কারখানাকে এক জায়গায় স্থানান্তর করে গড়ে তোলা হবে মুদ্রণশিল্পপল্লী। এটা করা হলে সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যপ্রদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা যেমন সম্ভব হবে , তেমনি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর ফলে দারিদ্র্ দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে।

প্রকল্পের আওতায় মুদ্রণ শিল্পপল্লীতে আবাসিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া, প্রকল্প এলাকায় ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা,রিটেইনিং ওয়াল, ড্রেন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হবে। এছাড়া,প্রকল্পএলাকায় দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার(ইটিপি) স্থাপন করা হবে।

এই প্রসঙ্গে বিসিক চেয়ারম্যান আহমদ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে মোট পাঁচ হাজার মুদ্রণ শিল্প-কারখানা আছে। ঢাকা শহরে সংখ্যাটা তিন হাজারের কম নয়। এসমস্ত শিল্প-কারখানার প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এতে করে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে মুদ্রণশিল্পে। আমরা পুরো শিল্পটিকে একটি পরিকল্পিত রূপ দিতে চাই। সেই লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় মুদ্রণশিল্পপল্লী তৈরি করবো। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা মুদ্রণ শিল্প-কারখানাগুলোকে পরিবেশ বান্ধব করে এই শিল্পপল্লীতে স্থানান্তর করা হবে।

বাংলানিউজেটোয়েন্টিফোর

Comments are closed.