জাপান: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

রাহমান মনি: মহান ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে এযাবৎকালের বাংলাদেশের সকল অর্জন ও সাফল্যের মূল নায়ক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এজন্য দলটির কাছে মানুষের প্রত্যাশাও পাহাড়সম। তাই প্রত্যাশার বিচ্যুতি ঘটলেই সমালোচনাও হবে এটাই স্বাভাবিক বলে দাবি করেন জাপান শাখা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তাগণ এমনটি দাবি করেন। বক্তারা বলেন, আওয়াম অর্থ আওয়াজ। নিপীড়িত মানুষের জন্য সম্মিলিত সোচ্চার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। মাটি ও মানুষ থেকে জন্ম নেয় দলটি।
টোকিওর কিতা সিটি হিগাশি তাবাতা শিমিন হলে জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি সালেহ্ মোঃ আরিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন খন্দকার আসলাম হিরা।

২১ জুন আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মোতালেব শাহ আইয়ুব প্রিন্স, আব্দুল কুদ্দুস, রাহমান লিটন, সোহেল রানা সোহেল, মোঃ ফারুক, গোলাম মাসুম জিকো, কাজী ইনসানুল হক, রায়হান কবীর ভূইয়া সুমন, মুক্তা চৌধুরী, মোল্লা অহিদুল ইসলাম, মোঃ মাসুদুর রহমান, হারুন উর রশীদ, সনত বড়–য়া, কাজী মাহফুজুল হক। সমাপনী ও ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন সালেহ্ মোঃ আরিফ।

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে দুর্নীতিবাজদের কোনো স্থান নেই। অসাধুদের জন্য আওয়ামী লীগ নয়। তারপরও আওয়ামী লীগের বদনাম হচ্ছে। এজন্য দায়ী কারা? আজ অনেককেই পতাকাবাহী গাড়িতে ঘুরতে দেখি, খুব জানতে ইচ্ছে করে এরা কি আদৌ আওয়ামী লীগার কিনা? পত্রিকা খুললেই দেখতে পাওয়া যায় খুন ধর্ষণ আর অরাজকতার কথা। কিছুসংখ্যক সুবিধাভোগীদের দুর্নীতি বা দুষ্কর্মের জন্য দলের বদনাম হবে তা সহ্য করা যায় না। এদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক ভালো কাজের সাফল্য চাপা পড়ে যাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন টিকাটুলির রোজ গার্ডেনে জন্ম নেয়া দলটির বিভিন্ন নাম বদল করে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের পরিপক্ক একটি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে পরিণত হয়েছে। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন দিয়ে শুরু করে আজ পর্যন্ত যে কয়টি আন্দোলন হয়েছে তার সব কয়টিরই নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর নিরলস প্রচেষ্টা ও সীমাহীন আত্মত্যাগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মতো একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন বলেই বাংলাদেশকে স্বাধীন করা সম্ভব হয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি জনৈক সুবিধাবাদী লোক জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি পদবি ধারণ করে ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে বিভিন্ন মহলে তদবির করে বেড়াচ্ছেন, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সভাপতি সালেহ্ মোঃ আরিফের কাছে প্রশ্ন রেখে বক্তরা বলেন, ২০১২ নির্বাচনকে সামনে রেখে যে ব্যক্তি সাধারণ সদস্যর জন্য আবেদন করেন যা আজও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, সে ব্যক্তি জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ধারণ করে কার্ড বিলি করেন কোন নৈতিকতা থেকে? তারা জানতে চান সে যদি জাপান আওয়ামী লীগে সভাপতি তবে বাংলাদেশে কেন?

সবশেষে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির জন্য শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা আনেনি, জাতির অর্থনৈতিক মুক্তিও এনেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার লড়াইও সফল হবে।

ইফতার মাহফিল : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভা শেষে একই হলে জাপান শাখা আওয়ামী লীগ এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। ইফতার মাহফিলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসী অংশ। একই দিন আরও চারটি ইফতার মাহফিল থাকলেও, রাজনৈতিক দল সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিলে দেড়শতাধিক প্রবাসী অংশগ্রহণ করে। বিএনপি ও তাদের প্রতিনিধি দল পাঠায় ইফতার মাহফিলে। বর্তমান সভাপতি সালেহ্ মোঃ আরিফ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রায় প্রতিটি আয়োজনে সর্বস্তরের প্রবাসী অংশ নিয়ে থাকে। প্রবাসীদের কাছে সজ্জন হিসেবে, ব্যক্তি আরিফের ইমেজ অনেকটাই কাজ করে বলে প্রবাসীরা জানান। একজন যোগ্য নেতার হাতে দলের দায়িত্ব পড়লে, দল, দেশ বা জাতি যে উন্নতির শিখরে আরোহণ করে সভাপতি আরিফ তার উদাহরণ। ইফতার মাহফিলে দল, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতটি পরিচালনা করেন মুক্তা চৌধুরী।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.