আতঙ্কে : রাজা মিয়া আতঙ্কে লৌহজংবাসী

শেখ মো. রতন: ছাত্রলীগের কোনো পদে না থেকেও নিজেকে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দানকারী সন্ত্রাসী রাজা মিয়া আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়নের সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজনসহ এলাকার সাধারণ মানুষ।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের নাম ভাঙ্গিয়ে পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি মো. রাজা মিয়া এলাকায় মাদক বিক্রি, অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজীসহ সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। প্রাণ নাশের ভয়ে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মুখ খোলে না। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে এমন অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে।

মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলী আকবর বলেন, ‘একজন অছাত্র-সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী কখনই ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হতে পারে না। ছাত্রলীগ নামধারী রাজা মিয়া কখনই ছাত্রলীগের কর্মী ছিল না।’

মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন খান জানান, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়দানকারী রাজা মিয়া পুলিশের তালিকা ভুক্ত আসামি। সে কখনো ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীই ছিল না, যুগ্ম আহ্বায়ক তো দূরের কথা।

তিনি বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রাক্তন সংসদ-সদস্যের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে (এমপি) অছাত্র, শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী ছাত্রলীগ নামধারী রাজা মিয়ার কুকীর্তির ব্যাপারে সব জানিয়েছি। আগামী ১৫ আগস্টের পরে রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

এ প্রসঙ্গে মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক চঞ্চল মৃধা জানান, কাগজে কলমে কোথাও রাজা মিয়ার নাম ছাত্রলীগের তালিকায় নাই। তার মতো মাদক-অস্ত্র ব্যবসায়ী শীর্ষ সন্ত্রাসীরাই ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে ছাত্রলীগের বদনাম করছে। তিনি সংসদ সদস্য ও মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পদকের মাধ্যমে তার উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আহ্বান জানান।

লৌহজং থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, জেলার লৌহজং উপজেলার মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়নের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তালিকা ভুক্ত আসামি রাজা মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে রয়েছে। তাকে অচিরেই গ্রেফতার করে আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাইজিংবিডি

Comments are closed.