মেঘনা নদীতে সাড়ে তিন বছরে ফেরিতে কোন গাড়ী পারাপার হয়নি

মেঘনা ও গোমতী সেতু রক্ষা ও সংস্কার কাজের লক্ষ্যে নেওয়া একাধিক উদ্যোগের একটি ফেরি সার্ভিস। কিন্তু এখানে ফেরি সার্ভিস উদ্বোধনের পর গত সাড়ে তিন বছরে কোন যানবাহন পারাপার হয়নি। এর ফলে এই ফেরির সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘুমিয়ে বসে বেতন ভাতাদি পাচ্ছে। যাকে বলে অলস সময় পার করছে তারা।

সংস্কার কাজ ও অতিরিক্ত ভারবাহী যানবাহন চলাচলের জন্য আড়াই কোটি টাকার বেশী ব্যয়ে ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা নদীতে যোগাযোগ মন্ত্রীর পারাপারের মধ্য দিয়ে ফেরী সার্ভিসটি চালু করা হয়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে সাড়ে তিন বছরে একটিও কি ভারবাহি যানবাহন এ পথে যায়নি। এটি কি বিশ্বাস যোগ্য কথা। তবে অভিযোগ উঠেছে সেতু টোল প্লাজাদের ম্যানেজ করে সেতুর ওপর দিয়েই ভারবাহী যানবাহন চলাচল করছে। কারণ ফেরিতে করে পারাপারে যে সময় নস্ট হয় তার চেয়ে অনেক আগেই সেতু দিয়ে পারাপার হলে গন্তব্য পৌছা সম্ভব। তাই সহসা কেউ এই ফেরির দিকে যাচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতুর ৫টি পিলারের গোড়ার চারপার্শ্বে গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়া ও এক্সপানশন জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছিল। এতে সেতুটির উপর দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল পরিহারসহ সেতুটি রক্ষায় প্রথম উদ্যোগ হিসেবে মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল প¬াজার কাছে ওভারলোড কন্ট্রোল যন্ত্র স্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে ভারী যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর প্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের এর নির্দেশে সংযোগ সড়ক মেরামত, উভয় পার্শ্বে ৩টি করে মোট ৬টি ফেরিঘাট নির্মাণ, পল্টুন স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ থেকে একটি সহ ৫টি ফেরি আনা হয়। সব মিলিয়ে এসব কাজে ব্যয় হয় আড়াই কোটি টাকার বেশী।

এর পরই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী মেঘনা ঘাটে ফেরি সার্ভিস উদ্ভোধন করেন। এদিন মন্ত্রী ও তার সঙ্গীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে ফেরি মেঘনার এপার ওপার গেলেও গত সাড়ে তিন বছরে অন্যকোন যানবাহন পারাপার করা হয়নি। তবে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে মেরামত কাজে দুই দফা সেতু বন্ধ থাকার সময় মালামাল আনা নেওয়ার কাজে ফেরি ব্যবহার করা হয়েছে বলে সংশি¬ষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়নগঞ্জ সড়ক ও জনপথের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জরুরি প্রয়োজনে ভারী যানবাহন পারাপারে জন্য ফেরি সার্ভিস ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিয়মিত ফেরি চালু করার পরিস্থিতি নেই সেখানে। জরুরী প্রয়োজনে ফেরি ব্যবহার করা হয়।

বিক্রমপুর সংবাদ

Comments are closed.