ফেরি বন্ধ, ড্রেজিং চলার পরও নাব্যতা সংকট

শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি নৌপথ
মঈনউদ্দিন সুমন: শিমুলিয়া-কাওরাকান্দির লৌহজং চ্যানেলে চলছে ড্রেজিং কার্যক্রম। তবু নাব্যতা সংকটের কারণে ওই নৌপথে গতকাল মঙ্গলবার থেকে রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-মাদারীপুরের কাওরাকান্দি নৌপথের লৌহজং চ্যানেলে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং কাজ চলছে। তবু সেখানে ভরা বর্ষায় চরম নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে।

নাব্যতার অভাবে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি নৌপথে রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। লৌহজং চ্যানেলে পদ্মা নদীর পানি আর ছয় ইঞ্চি কমলে প্রায় সব ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি নৌপথে হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। এই পথে পাঁচটি কে-টাইপ ফেরি, ছয়টি ডাম্প ফেরি, তিনটি রো রো ফেরি, দুটি মিডিয়াম, একটা ছোট, একটি ভিআইপি ফেরিসহ মোট ১৮টি ফেরি চলাচল করে। রো রো ফেরি চলাচলের জন্য সাড়ে সাত ফুট পানির গভীরতা দরকার। আর কে-টাইপ, ডাম্প ফেরি চলাচলের জন্য ছয় ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি নৌ-চ্যানেলে পানির গভীরতা মাত্র ছয় ফুটে চলে এসেছে। এ কারণে মঙ্গলবার থেকে রো রো ফেরির চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আর একটু পানি কমলেই প্রায় সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবদুল আলীম জানান, নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পানির গভীরতা রয়েছে ছয় ফুট। আর ছয় ইঞ্চি পানি কমলে প্রায় সব ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

আবদুল আলীম জানান, কয়েকদিন ধরে পানি কমছে। চ্যানেলে গভীরতা বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত ড্রেজিং করতে হবে।

এদিকে লৌহজং চ্যানেলে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং চলছে। এখনো সেটা চলছে। কিন্তু সুষ্ঠুভাবে ড্রেজিং না করায় নদীর বালু নদীতেই থাকছে।

বিআইডব্লিউটিএর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ড্রেজিং বন্ধ নেই। নদীতে তীব্র স্রোতের সঙ্গে বালু প্রবাহিত হচ্ছে। ড্রেজিং এক দিক দিয়ে করা হচ্ছে। অন্য দিক দিয়ে ভরে যাচ্ছে। সঙ্গে আছে বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র স্রোত। এর জন্যও কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে ড্রেজিংয়ের কাজ থেমে নেই।

লৌহজং চ্যানেলে ড্রেজিং কাজের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং শাখা) আবদুল সালামের মুঠোফোনে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়েছে। তিনি কয়েকবার মুঠোফোন রিসিভ করে কথা না বলেই কেটে দেন। কয়েকবার ফোন ধরেননি। পরে ফোন ব্লক করে রাখেন।

এনটিভি

Comments are closed.