বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু: সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর অবরোধ মুক্ত

যানবাহনের টোল বাড়ানোর প্রতিবাদে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পোস্তগোলায় প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু অবরোধ করে রাখে পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বেলা আড়াইটার দিকে অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নিলে সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। টোল বাড়ানোর প্রতিবাদে ও টোলমুক্ত করার দাবিতে সেতু অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিক ও চালকেরা।

অবরোধের কারণে রাজধানীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জ, মাওয়া, বৃহত্তর খুলনা ও বরিশালসহ বিভিন্ন রুটের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেতুর দু’পাশে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট। দুর্ভোগে পড়তে হয় হাজার হাজার মানুষকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টায় হঠাৎ করে একদল শ্রমিক বুড়িগঙ্গা সেতুর পশ্চিম পাড় কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বিক্ষোভ করতে থাকে। এরপর সেতুর পশ্চিম পাড়েও একই কায়দায় শ্রমিকরা জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা খালি ট্রাক এনে সেতুর প্রবেশ মুখে রেখে দেয়। ফলে সেতুর দুই প্রান্তই বন্ধ হয়ে যায়। দু’পাশে আটকা পড়ে অসংখ্য যানবাহন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা ও বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু টোলমুক্ত সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা মো. কামরুজ্জামান বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা এখানে টোলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তারা এই টোল চায় না।

তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই সেতুতে অটোরিকশার টোল নেওয়া হত ১০ টাকা করে। কিন্তু একইদিন বিকাল থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩৫ টাকা। মাইক্রোবাসের টোল ২০ টাকার পরিবর্তে ৭৫ টাকা ও ট্রাকে ১২০ টাকা পরিবর্তে ২৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতুর টোলঘরের কর্মীরা জানান, তারা সরকারি নিয়মেই টোল আদায় করছেন। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোনও সুযোগ নেই।

দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল বলেন, সেতুর অবরোধ পরিস্থিতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আন্দোলনকারীদের নিয়ে বৈঠক করছি। আশা করি শিগগিরই সমাধান হয়ে যাবে।

জানা গেছে, অবরোধ চলাকালে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এবং র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সেতুতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বেলা আড়াইটায় বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু টোলমুক্ত সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ইমদাদুল হোসেন বলেন, ‘সেতুটি টোলমুক্ত করা হবে- মুন্সিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের এমন আশ্বাস দিয়েছেন। আপাতত আগের নির্ধারিত টোলই আদায় হবে। এ আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবুবাজারে বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু টোলমুক্ত করা হয়েছে। আমাদেরও দাবি ছিল প্রথম সেতুকেও টোলমুক্ত করা হোক। কিন্তু সেটা না করে টোল আরও বাড়ানো হয়েছে।’

বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.