অপহরণ: দ. আফ্রিকায় বাংলাদেশিকে অপহরণে দুই স্বদেশি

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে গতমাসে বাংলাদেশি যুবক মোহাম্মদ নাফিসকে অপহরণের পিছনে তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ থেকে যাওয়া দুই প্রবাসী জড়িত ছিলেন বলে দুই দেশের পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

গত ২ জুন জোহানেসবার্গ থেকে অপহৃত হওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তি পান নাফিস। এর মধ্যে নাফিসের মুক্তিপণের টাকা নিতে গিয়ে পুরান ঢাকায় একটি ব্যাংকের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন এক নারী।

পরবর্তীতে জোহানেসবার্গ পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে এই অপহরণের পেছনে দুই বাংলাদেশির জড়িত থাকার তথ্য পান বলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকী জানিয়েছেন।

“ওই দুজনকে ধরতে দুই দেশের পুলিশ কাজ করছে,” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন তিনি।

ওই দুজনের পরিচয় জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বাকী বলেন, “এই মুহূর্তে তাদের পরিচয় জানাবো না। তবে এটুকু বলতে পারি, তাদের ও নাফিসদের গ্রামের বাড়ি একই এলাকায়।”

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ছেলে নাফিস গত নয় বছর ধরে জোহানেসবার্গে বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে আছেন। সেখানে ছোট-খাট কাজ করেন তিনি।

গত ২ জুন জোহানেসবার্গ থেকে নাফিস (২৮) নিখোঁজ হন।

এরপর নাফিসের মুক্তির জন্য জোহানেসবার্গে বসবাসরত তার বোন তানিয়ার কাছে সাত লাখ টাকা দাবি করা হয়।

গত ১৮ জুন পুরান ঢাকার একটি ব্যাংক থেকে ওই মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে আলেয়া নামে এক নারী সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন।

পরে আলেয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোহানেসবার্গ পুলিশ আলেয়ার স্বামী তাজুলসহ তিনজনকে আটক করে বলে আব্দুল্লাহেল বাকী জানান।

“এরপর ২১ জুন অপহরণকারীরা নাফিসকে ছেড়ে দেয়। তবে তাকে কোথায় আটকে রেখেছিল বা কীভাবে অপহরণ করেছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।”

মুক্তি পাওয়ার পর নাফিস আর বাংলাদেশে আসেননি বলেও জানান সিআইডি কর্মকর্তা বাকী।

জোহানেসবার্গ পুলিশ আলেয়ার স্বামী তাজুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, “নাফিসকে দুজন বাংলাদেশি অপহরণ করেছে।”

“সেই অপহরণকারীরা তাজুলকে বলেছিল, ‘দেশে জমি কেনার জন্য তোমার টাকার প্রয়োজন আমি তোমার একাউন্টে টাকা দিচ্ছি। তুমি আমাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেবে’।”

তাদের কথা মতো আলেয়া ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে যান জানিয়ে তিনি বলেন, “আলেয়া ও তাজুল এই অপহরণের বিষয়টি জানত না।

“অপহরণকারীরা বাংলাদেশ থেকে মুক্তিপণের টাকা সেই দেশে নেওয়ার জন্যই তাজুলকে ব্যবহার করে।”

নাফিসের গ্রামের বাড়িতে শুধু তার বৃদ্ধা মা থাকেন।

তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, নাফিস অপহৃত হওয়ার কয়েকদিন আগে বাড়িতে কয়েকজন লোক এসে তার ছেলে দক্ষিণ আফ্রিকার কোথায় থাকে সে বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়। তবে ওই লোকগুলোকে তিনি চিনতে পারেননি।

নাফিস মুক্তি পাওয়ার পর আলেয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান সিআইডি কর্মকর্তা বাকী।

বিডিনিউজ

Comments are closed.