মুন্সিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে তুড়ুপের তাস কল্লোল

মোহাম্মদ সেলিম: সাংসদ মৃণাল কান্তি দাসকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের ঈদে আ’লীগ নেতা মাহাতাব উদ্দিন কল্লোলের ফেস্টুন দেখা গেল রাস্তায়। তাও অনেক বছর পর এ রকম দৃশ্যে চোখ আটকে গেল। আমিতো মনে করে ছিলাম কল্লোল ভাই হয়তো বা আ’লীগের রাজনীতি থেকে নিজে একটু গুটিয়ে রেখেছেন। সচারাচার রাজনীতির ময়দানে কল্লোল ভাইকে আগের মতো দেখা যায় না। ডিজিটাল যুগে কল্লোল ভাইয়ের এ ফেস্টুন দেখে ৯০’ দশকের তরতাজা আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়। রাজপথে কল্লোল ভাইয়ের এ ফেস্টুন আসলে কিসের ইঙ্গিত বহন করছে। রাজনীতি নিয়ে আমি অনেক দিন ধরে চর্চা করছি। আমার এ চর্চার অনুমান হচ্ছে, কল্লোল ভাই হয়তো আসন্ন পৌরসভার মেয়র নির্বাচন করার বার্তা দিচ্ছে। তাই তার এই ফেস্টুন। তবে ৯০’ দশকের রাজনীতি আর একুশের দশকের রাজনীতি এক না। আকাশ আর পাতাল ফারাক।

কল্লোল যদি মেয়র নির্বাচন করে তবে আসলে সে কার প্রার্থী। এই প্রশ্ন এখন সামনে চলে আসে। কল্লোলের ফেন্টুনে সাংসদ মৃণালের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কল্লোল সাংসদ মৃণালের প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা যায়। তা হলে মুন্সীগঞ্জে পৌর নির্বাচনে আ’লীগের মেয়র প্রার্থীদের গতিবিধি নিয়ে স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠছে।

জেলা আ’লীগের সভাপতি মো: মহিউদ্দিনের বড় পুত্র ফয়সাল বিপ্লব মেয়র পদে নির্বাচন করবে তা পূর্ব নির্ধারিত। সেক্ষেত্রে আ’লীগ থেকে আর কেউ প্রার্থী হচ্ছে এমন কথা আগে আর শোনা যায়নি। জেলা আ’লীগের সভাপতি মো: মহিউদ্দিনের সাথে তার ছোট ভাই বর্তমান মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিসের সাথে বিরোধ ছিল দীর্ঘ বছর ধরে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনে আ’লীগের সাংসদ হন মৃণাল কান্তি দাস। মৃণাল কান্তি দাসের সহযোগিতায় দু’ভাইয়ের বিরোধ মিটমাট হয়। এ কারণে মৃণালের প্রতক্ষ্য সাপোর্টের কারণে আনিসুজ্জামান আনিস দ্বিতীয়বারের মতো মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই বিষয়টি জোর দিয়ে বলার কারণ হচ্ছে মুন্সীগঞ্জে আ’লীগের রাজনীতি এখানে দুটি ধারায় চলছে। একটি ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা আ’লীগের সভাপতি মো: মহিউদ্দিন। আর আরেকটি ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান সাংসদ মৃণাল কান্তি দাস। এখানে ক্ষমতার লড়াইয়ের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সাংসদ মৃণাল কান্তি দাস একজন প্রার্থীকে সমর্থন করেন। আর মো: মহিউদ্দিন আরেকজন প্রার্থীকে সমর্থন করেন। এর ফলে মর্যাদার লড়াইয়ে তারা আবার বিরোধে জড়িয়ে পরে। গজারিয়া উপজেলা নির্বাচনে সাংসদ মৃণালের প্রার্থী বিজয় লাভ করে। মৃণালের সাথে মো: মহিউদ্দিনের এ বিরোধ যদি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাচনের সময় বিদ্যমান থাকতো তবে এখানকার উপজেলা নির্বাচনের চিত্রের পরিবর্তনের সম্ভাবনা ছিল।

ক্ষমতার লড়াইয়ের আরেকটি চিত্র এখানে পাওয়া যায়। জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে। আমরা সাধারণত সম্মেলনের দিনই কমিটি গঠনের ঘোষণা পাই। এবার এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় নেতারা সম্মেলনের দিন কমিটি ঘোষণা দেয়নি। এর কাজ কেন্দ্রে নিয়ে যায়। কয়েক মাস এ কাজ ঝুলিয়ে রাখে। অবশেষে ১৯ জুলাই সভাপতি পদে মহিউদ্দিনের সমর্থককে ঘোষণা দেন। আর মর্যাদার লড়াইয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে সাংসদ মৃণালের সমর্থককের নাম ঘোষণা দেন। সম্মেলনের দিন মুন্সীগঞ্জে সাংসদ মৃণালের সমর্থকের নাম ঘোষণা করা সম্ভব হতো না। তাই কৌশলগত কারণে এ বিষয়টি কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

মো: মহিউদ্দিন ও মৃণালের বিরোধ এখন তুঙ্গে অবস্থান করছে। লিচুতলায় মৃণালের ওপর আততায়িরা হামলা করে। এতে আহত হয় আরিফ। বর্তমানে মৃণাল গ্রুপের লোকেরা মহিউদ্দিন গ্রুপের ছায়া এড়িয়ে চলে।

মর্যাদার লড়াইয়ের কারণে তুড়ুপের তাস হিসেবে সাংসদ মৃণাল কান্তি দাস মুন্সীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে মেয়র হিসেবে মুন্সীগঞ্জ শহর আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিন কল্লোলকে সর্মথন করতে পারে বলে অনেকেই মনে করে।

মৃণাল কান্তি দাসেকে সমর্থন করায় মাহাতাব উদ্দিন কল্লোল শহর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি হারান। সেক্ষেত্রে মাহাতাব উদ্দিন কল্লোলকে মেয়র নির্বাচন সাংসদ মৃণাল কান্তি দাস সমর্থন করা দোষের কিছু নয়। এই সমর্থন পৌর নির্বাচনে হাওয়া গরম হয়ে উঠেতে পারে। ঘুরে দাঁড়াতে পারে অনেক হিসেব নিকাশ। এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে গনেশ উল্টে যেতে পারে।

বিক্রমপুর সংবাদ

Comments are closed.