ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ পদ ভাগিয়ে নিলেন বিবদমান দুই শীর্ষ নেতা

অবশেষে সম্মেলনের প্রায় দুই মাস পর কেন্দ্র থেকে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের ঘোষণা এসেছে। আর এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নেতা কর্মীদের মাঝে বিরোধ দেখা দিয়েছে। নেতা কর্মীরা এ ঘোষণার বিপক্ষে ফুসে উঠেছে। এর মধ্যে শ্রীনগর উপজেলার নেতা কর্মীরা উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। শ্রীনগর নেতা কর্মীরা মহা সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি নিয়ে ময়দানে রয়েছে।

সাধারণত জেলা কমিটি ঘোষণার পর জেলা কমিটির অধিনে উপজেলা ও কলেজ শাখার কমিটি ঘোষণা হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে নেতা কর্মীরা অভিযোগ করেছে।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও অপর গ্রুপের মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস গ্রুপের দুই কর্মী জেলা ছাত্রলীগের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। আর ছাত্রলীগের নতুন কমিটির দুই নেতারই বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায়। জেলা আওয়ামী লীগের ওই দুই শীর্ষ নেতার বিরোধের কারণে এবং দুইজনই আলাদাভাবে পদ ভাগিয়ে নিতে প্রার্থী দিলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বাধ্য হয়ে দুই শীর্ষ নেতাকে খুশি করাতেই তাদের পছন্দের দুই জনকে জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ ২টি উপহার দেন। এক্ষেত্রে ফয়সাল মৃধা নামে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও ফয়েজ আহম্মেদ পাভেল নামে সাধারণ সম্পাদক পদটি পেয়েছেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস।

গত ১৯ শে জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দীকি নাজমুল আলম নতুন এ কমিটির অনুমোদন দেন। একই দিন একই প্যাডে আরও ৩টি কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ওই দুই শীর্ষ নেতা। জেলা কমিটি ছাড়াও অন্যান্য কমিটিগুলো হলো-শ্রীনগর উপজেলা শাখায় সভাপতি পদে আজম হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক পদে জাকির হোসেন প্যারেট, শ্রীনগর সরকারি কলেজ শাখায় সভাপতি পদে আরিফুল ইসলাম রাব্বি, সাধারণ সম্পাদক পদে জহিরুল ইসলাম লিমন ও সিরাজদিখান উপজেলা শাখায় সভাপতি পদে সৈকত আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক পদে পারভেজ চোকদার পাপ্পু। জেলা ছাত্রলীগসহ এই ৪ ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের আংশিক কমিটির মেয়াদ এক বছর বলে অনুমোদনে উল্লেখ্য করা হয়েছে।

সূত্র মতে, গত ২৫ শে মে দিনব্যাপী মুন্সীগঞ্জ শহরের পুরাতন কাচারী এলাকাস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা ছাত্রলীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন গ্রুপ ও অপর অংশের স্থানীয় সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস গ্রুপের একাধিক প্রার্থী থাকায় এবং হট্রগোল হওয়ার আশঙ্কায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা কমিটি ঘোষণা না দিয়ে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সে সময় আগামী ২-১দিন পর কমিটি ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

ওইদিন জেলা ছাত্রলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। ভারতে চিকিৎসাধীন থাকায় সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসও। শিল্পমন্ত্রী না আসার কারনে ওইদিনের সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ । জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশাদুজ্জামান সুমনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ডা. বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিদ্দীকি নাজমুল আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ।

ওইদিন সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব চলে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বাসভবনে। সেখানে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাউন্সিল চলে। পরে কোন কমিটি ঘোষণা না দিয়েই কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় চলে যান।

সেদিন জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন গ্রুপের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ছিলেন, শহর ছাত্রলীগের সভাপতি নছিবুল ইসলাম নোবেল, সাধারণ সম্পাদক পদে মহসিন রেজা ও ফয়সাল মৃধা। আবার সদর আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থনে সভাপতি পদে মাকসুদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ফয়েজ আহমেদ পাভেল।

এরপর গত ১৯ শে জুলাই আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই শীর্ষ নেতার দুই প্রার্থীকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়। পরদিন ২০ শে জুলাই এ কমিটি হাতে পান নবনির্বাচিত নেতারা।

মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনের সাংসদ মৃণাল কান্তি দাস মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ক্ষমতার মধ্যে ভাগ বসাতে চান। কারণ ইতোমধ্যে জেলা ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠানে মৃণাল কান্তি দাসকে কোন অতিথি তালিকায় নাম রাখা হয়নি। এর প্রতিশোধ হিসেবে ক্ষমতার ও মর্যাদার লড়াইয়ে নেতারা এখন মাঠে রয়েছে।

বিক্রমপুর সংবাদ

Comments are closed.