ফার্মেসীগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষুধ বিক্রি!

মু.আবুসাঈদ সোহান: হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা এক রোগীর জন্য জরুরি ঔষধ লিখে দিয়েছেন কর্তব্যরত ডাক্তার। এতে স্বজনরা হাসপাতালের বাইরের একটি ফার্মেসী থেকে ঔষধ কিনে রোগীকে খাওয়ানোর পর দেখা গেলো ঔষধের মেয়াদ ৩ মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। জরুরি চিকিৎসা অনুয়ায়ী দ্রুত সুস্থ করে তুলতে খাওয়ানো ঔষধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় রোগীর স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জেনে তা প্রতিরোধে কর্তব্যরত ডাক্তার বিকল্প ঔষধ সেবনের পর মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান এক রোগী। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপস্থিত রোগীর স্বজন, ডাক্তার, কর্মচারীসহ উপস্থিত অনেকেই এ ঘটনার প্রত্যক্ষ করেছেন।

সম্প্রতি জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধামারণ গ্রামের মৃত আহসানউল্লাহ শেখের ছেলে ওয়াহিদ (২৬) অসুস্থ হয়ে পড়লে মধ্য রাত ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার জরুরি চিকিৎসা হিসেবে ‘জোলিয়াম’ নামের একটি ট্যাবলেট লিখে দেন। এতে রোগীর চাচা নিরল শেখ হাসপাতালের প্রধান ফটকের বিপরীতে একটি ফার্মেসী থেকে ‘জোয়ালিম’ নামের ট্যাবলেটের পাতা কিনে নিয়েছিলেন। যা ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ।

অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, হাসপাতাল ফটকের সামনে থাকা ফার্মেসীগুলোর মতো মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এলাকা, শহরের সুপার মার্কেট, মাঠপাড়াসহ জেলার ২টি পৌরসভাসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রতিনিয়ত মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে মুন্সীগঞ্জের ১৫ লক্ষাধিক মানুষ অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারনায় বিষাক্ত ঔষধ খেয়ে ক্রমেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে দিনযাপন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানী মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ফেরত না নেওয়ায় লোকসানের চিন্তা করে ভাল ঔষধের সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধও বিক্রি করে দিচ্ছে অসাধু ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি জেলার ফার্মেসী ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ অবগত হলেও তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নেই কোন তদারকি ব্যবস্থা। এ সুযোগে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করেই অসাধু ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা দেদারছে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি করে জেলাবাসীকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গড়ে ওঠা অসংখ্য ঔষধ ফার্মেসী রয়েছে। এসব ফার্মেসীর বেশীর ভাগ ঔষধ বিক্রেতা পল্লী চিকিৎসক। তাদের নেই কোন সরকারি ড্রাগ লাইসেন্স।

সরকারি ঔষধ নীতিতে বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স ও একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট ব্যতীত ঔষধ ফার্মেসী খুলতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তুু সেই সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ফার্মেসী ব্যবসা খুলে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধসহ বিভিন্ন ঔষধ বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন বাজারে হাতুড়ে ডাক্তাররা বেনামে-স্বনামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে গ্রামাঞ্চলের নিরীহ মানুষকে অহরহ ভুল চিকিৎসা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা ফি আদায় করে নিচ্ছেন। অথচ সঠিক রোগ নির্ণয়ে পল্লী চিকিৎসকদের নেই কোন বাস্তব অভিজ্ঞতা।

অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গড়ে ওঠা ফার্মেসী গুলোতে চিকিৎসাপত্র ছাড়াই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং যুবকদের কাছে ঘুমের ট্যাবলেট, প্রেথেডিন ইনজেকশন এবং নেশা জাতীয় বিভিন্ন সিরাপ বিক্রি করছে অবাধে। এতে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, তরুন ও যুবকরা নেশায় আসক্ত হয়ে বিপদগামী হয়ে উঠছে।
মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানায়,এ বিষয়টি তদারকি করার দায়িত্ব সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নয়।

নয়াদিগন্ত

Comments are closed.