তহসিলদারদের নিকট জিম্মি জমির মালিকগন!

রাণী হক: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের তহশিলদারদের চলে আসছিল রমরমা “খ-তপসিল” নামজারী বানিজ্য । “খ-তপসিল” নামজারীর নামে এক এক জন তহশিলদার ও তাদের দালালরা হয়েছেন কোটি পতি । তবে নতুন সহকারী কমিশনার(ভূমি)যোগদানের পর নামজারী বানিজ্য কিছুটা কমাতে পারলেও কমাতে পারেননি জৈনসার ও মধ্যপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আব্দুল কাদেরকে । তিনি কাউকে পরোয়া না করে বেপরোয়া গতিতে ছুটছেন তো ছুটছেন পিছনে তাকানোর সময় তার হাতে নেই । পেছেনে তাকাবেনই বা কেন তার নাকি উর্ধ্বতন মহলে হাত রয়েছে তার নিকট হতে টাকা নেয় না এমন কেউ নেই বলে দাবী করেন তহশীলদার আব্দুল কাদের ।

বানানো দলিল দিয়ে “খ-তপসিল” নামজারী করে তিনি মুন্সীগঞ্জ শহরে তালুকদার বাড়ীর পাশে আলিসান ৫ তলা ভবনের মালিক হয়েছেন । তার নিকট জিম্মি হয়ে আছে উক্ত এলাকার জমির মালিকগণ । আর জিম্মি হবেনই বা কেন? তার রয়েছে বিশাল পেটোয়া বাহিণী ।ঐ এলাকায তার বিরুদ্ধে কথা বলে টেকা বড় দায় ।

তিনি সকলের নিকট বলে বেড়ান ডিসি স্যারকে টাকা দিতে হয়, এসিল্যান্ড স্যারকে টাকা দিতে হয়।অবশ্য জেলা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর বিরুদ্ধে এরকম অন্য কোথাও থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি ।তবে এত প্রমাণসহ লেখালেখির পরও আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়াতে জনমনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ।তাহলে কি আব্দুল কাদেরের কথাই ঠিক?

তিনি লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে “ক-তপসিল” নামজারী করে আসছে অথচ এটা আইনগত নিষিদ্ধ অথচ “খ-তপসিল” সরকার করতে নির্দেশ দিয়েছে সেখান থেকে তহশীলদাররা ভৌতিক টাকা নিয়ে নামজারী করে চলছে যেন সরকার তাদের টাকা কামানোর লাইসেন্স দিয়েছে ।আর এ সকল নামজারীর ফলে যত মামলা মোকদ্দমা ও ঝগড়া বিবাদ হয় তার অধিকাংশই এ সকল ভূয়া নামজারীর জন্য হয়ে থাকে ।

প্রসঙ্গত,তমিজউদ্দিন নামে বিএনপির এক মেম্বারকে ১একর ৬০শতাংশ জমি নামজারী করে দিয়েছেন ।এ প্রসঙ্গে আব্দুল কাদেরকে জিঞ্জাসা করিলে তিনি বলেন এমপি সাহেবের কথায় করেছি । এমপি সাহেবের সাথে যোগাযোগ করিলে তিনি বলেন কাদের এ রকম খারাপ কাজ করে বিধায় আমি ওকে বদলির নির্দেশ দিয়েছি ।

প্রকৃত মালিকদের নাম নিম্মে দেওয়া হল যা বানানো দলিলের মাধ্যেমে অন্যের নামে নামজারী করা হয়েছে-

০১)পশ্চিমপাড়া হরি সভা মন্দির ০২)মইজউদ্দিন হাওলাদার ০৩)গৌরি দাস ০৪)সমির দাস

০৫)কালাচান দাস ০৬)পরেশ দাস ০৭) সোহান শেখ ০৮) আলমগীর শেখ ০৯)ত্রিনাথ দে ১০)বিশ্বনাথ মাষ্টার ১১) সূর্যদাস

উপরোক্ত ১১জনের নামের ১৩ দাগে মোট ১একর ৬০ শতাংশ জমি জাল দলিলে মাধ্যমে অত্র উপজেলার পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত হাজী আদম আলীর পুত্র তোয়াজউদ্দিন তালুকদারের নামে নামজারী করা হয়েছে ।উক্ত ভূমির তপসিল পরিচয় মৌজা-পশ্চিমপাড়া, জে এল-আর এস-৭৭,আগত ক্ষতিয়ান-২৩১,২৮৭,১৬২,২০৩,০৮,১৬৪,১৬৭ নামজারী ও জমাভাগ কেস নং-৪৭০৮/১৪-১৫, তারিখ-০১/১২/২০১৪ ইং যাহা ২নং ভলিওমে লিপিবদ্ধ আছে ।

এছাড়াও “ক-তপসিল” এর ভিপি কেস নং ২৩৩/৬৮ জমির পরিমান ৩ একর ১০ শতাংশ যাহার প্রকৃত মালিক ও লীজকৃত মালিক কফিল উদ্দিন তালুকদার অথচ “ক-তপসিল” নামজারী হওয়ার কথা নয় । বানানো দলিলের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উক্ত জমি তৈয়বুর রহমান তালুকদার, তোয়াজউদ্দিন তালুকদার, তমিজউদ্দিন তালুকদার, তুঘলক তালুকদার, তাহের তালুকদার এর নামে নামজারী করা হয় ।

এছাড়াও কালাচান দাসের পুত্র পরেশ দাস এর নিকট থেকে নামজারী বাবদ ১লক্ষ টাকা অগ্রিম নেন তার নামজারী না করে দিয়ে তার পেটোয়া বাহিণী দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে ।

উক্ত উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামের মোঃ ইস্রাফিল বেপারীর ৬৫২ নং ক্ষতিয়ান ভূক্ত ৪৪২/৭১১ নং দাগের নাল জমি পরিমান ৪১ শতাংশ দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৱ মালিক ও দখলকার খাকাবস্থায় নামজারী ও জমাভাগ কেস নং ৫৫৪২/১৪-১৫ মূলে রাজদিয়া গ্রামের গোলাম মওলার নামে নামজারী করে দেন ।

এ রকম দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাকে যথাযোগ্য শাস্তি দেয়ার জন্য মুন্সীগঞ্জের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট দাবী জানান জৈনসার ও মধ্যপাড়া ইউনিয়ন জমি মালিকগণ । এরা দেশের শক্রু । জেলা প্রশাসক মহোদয় এ রকম দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদেরকে ছাড় দিবেন না বলে এলাকাবাসী বিশ্বাস করেন ।

ক্রাইমভিশণ

Comments are closed.