চাঞ্চল্যকর সামসুদ্দিন হত্যা মামলা চার্জশীট গৃহিত হয়নি

জুডিশিয়াল স্বাক্ষ্য গ্রহনের আদেশ
মুন্সীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সামসুদ্দিন প্রধান হত্যা মামলার চার্জশীট আদালত গ্রহন করেনি। বৃহস্পতিবার চার্জশীটের নারাজির শুনানী শেষে এই বিষয়ে জুডিশিয়াল স্বাক্ষ্য গ্রহনের আদেশ দিয়েছে আদালতটির বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উমা রানী দাস।

কোর্ট ইন্সপেক্টর হারুন অর রশিদ এই তথ্য দিয়ে জানান, সামসুদ্দিন প্রধানের স্ত্রী মামলার বাদী ইউপি চেয়ারম্যান মর্জিনা বেগমের জবানবন্দি বৃহস্পতিবার আদালত রেকর্ড করেছে। মামলাটির অন্য স্বাক্ষীদের পরীক্ষাকল্পে আদালত ২০০ ধারায় স্বাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ডের পর এই চার্জশীর্ট বিষয়ে আদেশ প্রদান করবেন। আগামী ২৭ জুলাই জুডিশিয়াল স্বাক্ষ্য গ্রহনের দিনধার্য করা হয়েছে। শুনানীতে অংশ নেয়া সিএসআই মো. মনিরুজ্জামান জানান, বাদী পক্ষ আদালতকে অবগত করেছে স্বাক্ষীদের জবানবন্দি যথাযথভাবে রেকর্ড না করে এবং প্রকৃত স্বাক্ষীদের এড়িয়ে সিআইডি পুলিশ মূল আসামীদেরকে বাদ দিয়ে চার্জশীট দাখিল করেছে। পরবর্তীতে উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত এই আদেশ দেয়। জনার্কীর্ণ আদালতে জবানবন্দি দেয়ার সময় বাদী মর্জিনা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

নিহতের স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান, ৪৮ জন আসামীর মধ্যে বাদ দেয়া হয়েছে- গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা, তার অনুসারী আজিম, টুন্নু, সাত্তার চেয়ারম্যান ও শাহজাহান চেয়ারম্যানসহ ২১ জনকে। পুলিশ জানায়, থানায় দায়েরকৃত (মর্জিনা বেগম বাদী) ২৬ জনের মধ্যে ২৫ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত আরও ৪ জনকে চার্জশীটে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা মামলায় (বাদী নিহতের ভাতিজা ও ঘটনার সময় আহত টিটু প্রধান) এই ২৬ জনের সাথে আরও ২২ জনকে সর্বমোর্ট ৪৮ জনকে আসামী করা হয়। এই মামলার ২২ জনকেই বাদ রাখা হয়েছে এই চার্জশীটে।

নিহতের স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান, তার স্বামী সামসুদ্দিন প্রধান হত্যা মামলাটি থানায় করার সময় মূল আসামীদের বাদ দেয়া হয়। পরে বাদ পরা আসামীদের নিয়ে আবার আদালাতে মামলা করা হয়। আদালত এই মামলার সাথেই পরবর্তী মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক। কিন্তু সিআইডি পুলিশ আতাঁত করে মূল আসামীদের বাদ দিয়েছে। পরে গোপনে গত ২৩ এপ্রিল এই চার্জশীটটি আদালতে পেশ করেছে। গত ৩০ জুন এই চার্জশীট শুনানীর দিন ধার্য হয়। কিন্তু নথিটি সিআর মিস’র আবেদনের কারণে জেলা জজ আদালতে থাকায় ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার শুনানীর হয়।

মর্জিনা বেগম আরও জানান, মূল খুনীরা রক্ষা পেলে আবারও বড় ধরনের হত্যাকান্ড সংঘটিত হবে। তাই এই হত্যার সাথে জড়িত সকল আসামী এবং নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন সকলকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে নির্মমভাবে বালুয়াকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুদ্দিন প্রধানকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে সামসুদ্দিন প্রধানের চাচা মুনসুর আলীকেও নিজ বাড়িতে হামলা চালিয়ে নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়।

ক্রাইমভিশন

Comments are closed.