প্রত্যাহার: না. গঞ্জের সওজ প্রকৌশলীকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

ঈদের আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের দুরবস্থার জন্য কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁওয়ের মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী রোশনী এ ফাতেমাকে সড়ক ও জনপথের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে থেকে ঢাকার সদর দপ্তরে যুক্ত করা হয়েছে।

তার স্থলে মুন্সীগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও মদনপুর থেকে বাইপাস সড়কের সংযোগস্থলে দুরবস্থার জন্য ওই প্রকৌশলীর দায়িত্বে অবহেলা থাকায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এরপর আগামী তিন দিনের মধ্যে মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামতের জন্য সওজের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

সেতুমন্ত্রী কাদের আরও বলেন, “বৃষ্টির আগে সওজের কর্মকর্তারা নয় মাস নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন, আর তিন মাস লাফালাফি ও ধাপাধাপি শুরু করেন।

“তাই বৃষ্টির সময় রাস্তায় ইটের খোয়া ফেলে রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক একটি স্পর্শকাতর রাস্তা, ইট খোয়া ফেলে কেন মেরামত করা হবে?”

“যারা রাস্তা খারাপের জন্য বৃষ্টিকে খলনায়ক বানিয়ে অজুহাত দেবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না,” বলেন মন্ত্রী।

মহাসড়কে চাঁদাবাজির জন্য পুলিশ এবং মহাসড়ক পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদেরও দায়ী করে তিনি বলেন, “এসব চাঁদাবাজদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”

এদিকে মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় বকেয়া বিলের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে সওজ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন ঠিকাদাররা। এক পর্যায়ে তারা সওজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভও করেন।

ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, সারাদেশে সওজের বিভিন্ন রাস্তা মেরামতসহ বিভিন্ন কাজ করলেও তাদের বিল পরিশোধ করা হয়নি। বিল পরিশোধ না করায় তারা অর্থনৈকি সমস্যায় ভুগছেন।

ঠিকাদারদের আন্দোলনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, “এটি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ভাগাভাগির বিষয়। এটার সঙ্গে মন্ত্রণালয় জড়িত নয়। তাদেরকে বলে দেওয়া হয়েছে আপনারা সেটেল করেন।”

পরিদর্শনের সময় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিদ্দিকুর রহমান, সড়ক ও জনপথের ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ্ মোহাম্মদ মূসা মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

বিডিনিউজ

Comments are closed.