মিরকাদিমে প্রসিদ্ধ ইফতার বাজার

শিহাব আহমেদঃ বিক্রমপুর-মুন্সীগঞ্জ সৌখিনদের এলাকা। এই অঞ্চলে বসবাসকারী ব্যাক্তিরা জমিদারের মতন উদার। এরা দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী, হাতে টাকা থাকলে এরা আর কিছুকে তোয়াক্কা করে না যেন।

দেশজুড়ে বিক্রমপুরীদের ব্যাপারে এটা একটি প্রতিষ্ঠিত প্রবাদ বা ধারনা। তবে প্রবাদ বা ধারনা যাই হোক এর সত্যতা দেখা যায় তখনই যখন বিক্রমপুরের কোন পন্য বা বিশেষ বস্তুু’র প্রতি অন্য জেলা’র লোকেদের বাড়তি ঝোক তৈরি হয়। তখন বিক্রমপুরের ঐ জিনিস না হলেই নয়।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা’র অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান মিরকাদিম। এখন যেটা পৌরসভা। একসময়ের বানিজ্যকেন্দ্র, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্ঠান সখ্যতা’র নিদর্শন, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে জীবন্ত স্বাক্ষী মিরকাদিমের ইফতার বাজারের সুনাম এখন মুন্সীগঞ্জ ভেদ করে দেশজুড়েই।

সোজা কথায়, সহজ ভাষায় অনেকেই‘পুরান ঢাকা’র ইফতার বাজারও বলে।

আর চাওর হওয়া এই খবরে সরেজমিনে মিরকাদিম ইফতার বাজারে গিয়ে ক্রেতার ভিড়ে ঠিকমত দারানোই গেলোনা। শেষপর্যন্ত হাতে ক্যামেরা ও ছবি তুলতে দেখে কৌতুহলী দোকানদার নিজ থেকে এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চাইলেন। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরে ব্যাস্ততার মাঝেই হাতে ঢোঙা নিয়ে দুইদিকে দুইজন ক্রেতা’র চাহিদা জানতে চেয়ে এবার এই দিকে খেয়াল তাক করে শুনাতে থাকলেন অভিজাত এই ইফতার বাজারের ভেতরের কথা।

দোকানদার আব্দুল লতিফ মিরকাদিমে ব্যাবসা করেন আজ ২৩বছর ধরে। মিরকাদিম বন্দর থাকা অবস্থায় তাদের এই দোকান। তখন দক্ষিনাঞ্চল থেকে নদীপথে জাহাজ যোগে যে পন্যগুলো আসতো তাই আবার মিরকাদিমে বিক্রমপুর-মুন্সীগঞ্জ এর ব্যাবসায়ীরা পুরোতন ঢাকা’র সদরঘাটে ব্যাবসায়ীদের কাছে পাঠাতেন। আর পুরান ঢাকা’র যে সকল ব্যাবসায়ীরা তখন ব্যাবসার প্রয়োজনে নিয়মিত মিরকাদিমে যাতায়াত করতো তখন তাদের চাহিদা মেটাতেই মিরকাদিমের ব্যাবসায়ীরা তাদের পছন্দানুযায়ী খাবার তৈরি করতো। এরই ধারাবাহিকতায় যখন রমজান আসতো তখন তাদের পছন্দানুযায়ী ইফতার আইটেম বানানো হতো। আর সেই থেকেই এই প্রচঁলন।

মুন্সীগঞ্জের অন্যান্য এলাকার ব্যাবসায়ী যারা আবার যেত মিরকাদিমে অথবা ঐখানে তাদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ছিলো তারাও এবার অভ্যস্ত হয়ে গেলেন এই খাবারের। এভাবেই আজ অব্দি তারাও ধরে রেখেছেন ক্রেতার চাহিদা। আর এই চাহিদা’র মাত্রাও কম নয় ! এক একটি দোকানে প্রতিদিন ১০থেকে ১২হাজার টাকার ইফতার বিক্রি হয়। অনেক সময় ক্রেতার চাপে এক বা দুইদিনের জন্য বাড়তি লোক নিয়োগ দিতে হয়। আর এই ক্রেতারা আসেন মুন্সীগঞ্জের াবভিন্ন জায়গা থেকে।

বেতকা থেকে ছানার পোলাও কিনতে এসেছেন সজল। সপ্তাহে ২-৩দিন নিয়মিত এখান থেকে ইফতার কিনে নিয়ে যান তিনি। সজল বললেন, মিরকাদিমের ইফতারে আভিজাত্যের একটা ছোয়া আছে। আর তাছাড়া তিনি খুব ছোট বেলা থেকেই মিরকাদিমের ইফতারের সাথে পরিচিত। তিনি যখন ছোট তার বাবা তখনও মিরকাদিমে গরুর দুধ বিক্রি করতে আসতেন, আর রমযানের সময় পরিবারের জন্য মিরকাদিম থেকে ইফতার কিনে নিয়ে যেতেন।

মিরকাদিমের ইফতারের মধ্যে বেশি বিক্রি হয় দুগ্ধজাত খাবার, অন্যান্য জায়গার তুলনায় দাম সাধ্যের মধ্যে থাকাটাও এই ইফতার বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মিরকাদিমের ছানার পোলাও, বুরিন্দা আর মাঠা’রও আছে ভিন্ন সুখ্যাতি।

Comments are closed.