বিভক্ত আ’লীগ: মিরকাদিম পৌর নির্বাচনকে নিয়ে

মোহাম্মদ সেলিম: মিরকাদিম পৌরসভার নির্বাচনে আ’লীগ থেকে কাকে মেয়র প্রার্থী করা হবে এ নিয়ে আ’লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের মাঝে দ্বিধা বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় একটি পক্ষ আরেকটি পক্ষকে সমর্থন না করায় এখানকার রাজনীতি নানা ভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয় ইফতার পার্টিকে কেন্দ্র করে এখানে এই হাওয়া আরো জোরদার হয়ে উঠেছে।

ইতোমধ্যে আ’লীগ থেকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ কালাম সিপাহীপাড়ার সানাই কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার পার্টির আয়োজন করে। এতে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আ’লীগের সভাপতি মো: মহিউদ্দিন। তবে এ আয়োজন যাদেরকে নিয়ে সেই মিরকাদিম আ’লীগের বেশিরভাগ তৃণমূল নেতা কর্মীদেরকে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি বলে খবর পাওয়া গেছে। তৃণমূল নেতাদের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তির কারণে মিরকাদিম পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ৩টি ওয়ার্ডের নেতা কর্মীরা এ ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন বলে শেষ খবর পাওয়া গেছে। আর ৬টি ওয়ার্ডের আ’লীগের নেতা কর্মীরা এ ইফতার পার্টি বর্জন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্জনকারী আ’লীগের নেতা কর্মীরা এর বিপরীতে আরো বড় করে ইফতার পার্টির আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই অসম প্রতিযোগিতার ফল আসলে কি পাওয়া যাবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে সব মহলে।

মিরকাদিমে আ’লীগের একটি পক্ষ মেয়র হিসেবে মনসুরকে চায়। আর অন্যপক্ষের দাবী এখানে আ’লীগের কান্ডারি হিসেবে যারা কাজ করেছে তাদের মধ্যে কাউকে এখানে প্রার্থী করা হউক। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হিসেবে ঘুরপাক খাচ্ছে মিরকাদিম পৌর আ’লীগের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বাসুর নাম। মিরকাদিম পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। সেই পরিমাণ অর্থ বাসুর নেই। তাই বাসুর বিপরীতে এই পরিবেশ সামাল দিতে আ’লীগের ঘরের ভেতর মনসুরের নাম চলে আসে বলে অনেকেই মনে করছেন।

তবে অনেকের দাবী জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মহসিন মাখনকে এখান থেকে প্রার্থী করা হউক। তবে নির্বাচনী অর্থের প্রতিযোগিতায় চাওয়া পাওয়ার রাজনীতিতে এর পরিমাণও কম বলে শোনা যাচ্ছে। তাই তাকেও এ নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে। মহসিন মাখন মিরকাদিম পৌরসভা প্রতিষ্ঠাকালীন কিছুদিন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহত্তর তৃণমূল নেতাদের দাবি এখানে এই নির্বাচনে শিল্পপতি মেট্রো সিমেন্টের কর্নধার শহিদুল্লাহকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে তৃণমূলের বিদ্রোহী গ্রুপের একটি পক্ষ তাকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর তাকে বাদ দিয়ে যদি মনসুরকে মনোনয়ন দেয়া হয় তবে বৃহত্তর নেতা কর্মীরা সেই নির্বাচনে নিরব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই আশংকা করছেন।

শহিদুল্লাহ অল্প কিছু দিন আগে আ’লীগের রাজনীতিতে তার অভিষেক ঘটে। এম ইদ্রিস আলী প্রথমবারের মতো মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হলে তার হাত ধরে শহিদুল্লাহ আ’লীগের রাজনীতি যোগদান করে।

তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ মনসুর ছাড়া তার সকলেই বিএনপি ঘরনার লোক। তার বড় ভাই মিরকাদিম পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

শহিদুল ইসলাম শাহীন মনসুর আহমেদ কালাম

মিরকাদিম পৌর বিএনপি’র সভাপতি’র বোনকে মনসুর বিয়ে করেছেন। গত পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে তার শ্যালক মিজান বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়। তখন মনসুর আ’লীগের রাজনীতি ভুলে গিয়ে আ’লীগের মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন না করে শ্বশুড় বাড়ির মিজানের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করছেন। তার কারণে সেই দিন এখানে আ’লীগের প্রার্থীর পরাজয় ঘটেছে বলে তৃণমূল নেতা কর্মীরা এ অভিযোগ তুলেছেন। সেই দিনের মনসুরের এ ভূমিকা প্রশ্ন হয়ে নেতাদের ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে মনসুরকে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূল নেতাদের মনের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতে পারে বলে অনেকেই আশংকা করছেন।

মিরকাদিম আ’লীগের রাজনীতিতে মেয়র প্রার্থী নিয়ে আ’লীগ শিবিরে ইমেজ সংকট দেখা দিয়েছে।

প্রকৃত অর্থে মিরকাদিমে আ’লীগ শিবিরে তিনটি ভাগ দেখা দিয়েছে। একটি পক্ষ মনসুরকে সমর্থন করছে। আরেকটি পক্ষ মনসুরের বিপক্ষে বিরোধিতা করছে। আর মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনের সাংসদ মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থনে এখানে প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহিন। সেক্ষেত্রে মৃণালের সমর্থনে এখানকার আ’লীগের নেতা কর্মীরা শাহিনের পক্ষে কাজ করবে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

শাহিন মৃণালের সবচেয়ে কাছের লোক। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে মৃণাল শাহিনকে যে ভাবে নির্বাচন করতে বলেছে শাহিন সেই ভাবে নির্বাচনে ভূমিকা রেখে ছিলেন। মৃণালের একজন পরিক্ষিত সৈনিক হচ্ছেন শাহিন। সেই কারণে এখানে মৃণালের একমাত্র পছন্দের প্রার্থী হচ্ছেন শাহিন।

মেয়র নির্বাচনে যদি মনসুর বিজয় লাভ করে তবে তার আশে পাশে শ্বশুড় বাড়ির বিএনপি’র লোকজনের ভির বেশি থাকার সম্ভবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আ’লীগ নেতা কর্মীরা কোন কাজে উপেক্ষিত হতে পারেন। এ আশংকা কাজ করছে অনেক নেতা কর্মীর মনে। এসব নানা কারণে এখানকার নেতা কর্মীরা মনসুরকে নির্বাচনে সমর্থন করতে চাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিরকাদিম তৃণমূল নেতাদের ম্যানেজ করে আ’লীগ থেকে এখানে মনসুর প্রার্থী হলে তার বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হচ্ছে তখন বিএনপি এখানে ডামি প্রার্থী দিলে কিংবা মনসুর বিজয়ী হতে পারে সেক্ষেত্রে বিএনপি এখানে দুর্বল প্রার্থী দিলে তখন মনসুরের সাথে মুলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহিনের সাথে।

তবে এখানে কথা থেকে যায় যে, বিএনপি মনসুরকে বিজয়ী করতে যদি নির্বাচনে নাটকের মহড়া করে তবে মিরকাদিমের বিএনপি’র বৃহত্তর একটি অংশ ঘুরে দাড়িয়ে শাহিনের পক্ষে নির্বাচনে মাঠে নামতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

নানা দিক বিবেচনা করে শাহিনের সাথে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী মিরকাদিমে নেই।

এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে শহিদুল ইসলাম শাহিনই বিজয়ী হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

কারণ হচ্ছে শাহিন হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনের সাংসদ মৃণাল কান্তি দাসের একজন সমর্থক। সেক্ষেত্রে আ’লীগের একটি পক্ষ শাহিনকে সমর্থন করা সম্ভবনা রযেছে। রাজনীতিতে মৃণালের দৌড় সর্ম্পকে আ’লীগ নেতাদের কোন ধারণা নেই। উদাহরণ হিসেবে গজারিয়া উপজেলা নির্বাচনে এ দৌড়ের প্রতিযোগিতা প্রমাণ পাওয়া গেছে। মিরকাদিমের হাওয়া আসলেই যে দিকে যাক না কেন? সবশেষে এখানে শাহিনই বিজয়ী হবে।

বিক্রমপুর সংবাদ

Comments are closed.