সিরাজদিখানে শাপলা বিক্রি করে জীবন চালাচ্ছে হাজারো পরিবার

শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজারো পরিবার। এ মৌসুমে কৃষকের তেমন কোন কাজ না থাকায় এলাকার অনেক কৃষক, বেকার ও অন্যান্য পেশার লোক বর্তমানে এ পেশায় জড়িয়ে পরেছে। তবে এ পেশায় সুবিধা হচ্ছে যে, কোন পুজির প্রয়োজন হয় না। বিভিন্ন বয়সের লোক এ পেশায় অংশ নিয়ে থাকে। শাপলা সাধারনত তরকারী হিসাবে ব্যবহ্রত হয়ে থাকে।

শাপলা ফুল সাধারনত বর্ষায় ডুবে যাওয়া ইরি ধান ক্ষেত, পাট ক্ষেত ও আমন ধান ক্ষেতে বেশী জন্মায়। এছাড়াও এলাকার ইছামতি খালের বিলের পানিতেও শাপলা ফুল হয়ে থাকে। শাপলা ফুল সাধারনত আষাঢ় মাস থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে মৌসুমের শেষ অর্থাৎ কার্তিক মাসে তেমন বেশী পাওয়া যায় না। এসময় এলাকার শাপলা সংগ্রহকারীরা ভোর বেলা থেকে নৌকা নিয়ে ডুবে যাওয়া জমিতে ও বিলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করতে শুরু করে এবং শেষ করে দুপুরের দিকে । নদী থেকে শাপলা সংগ্রহকারী মোশারফ হোসেন জানান, এসময়ে একেক জনে কমপক্ষে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ মোঠা (৭০ থেকে ৮০পিছ শাপলায় ১ মোঠা ধরা হয়) সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা আবার এসব শাপলা সংগ্রহকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে একত্রে করে। সিরাজদিখানের রসুনিয়া, ইমামগঞ্জ, কুচিয়ামোড়া ও তালতলায় পাইকারী ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। পাইকাররা রাত্রে ঢাকার যাত্রাবাড়ি পাইকারী বাজারে বিক্রি করে দেয়।

উপজেলার রসুনিয়া গ্রামের চান মিয়া জানান, তিনি এ পেশা প্রায় এগার বছর যাবত করছেন। তিনি আরো জানান, মৌসুম শুরু থেকে শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মোঠা শাপলা ক্রয় করে থাকেন। সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক মোঠা শাপলা ১০ টাকা দরে ক্রয় করে। তারপর মোঠা প্রতি গাড়ি ভাড়া গড়ে ২ টাকা, লেবার খরচ ১ টাকা, আড়ৎ দাড়ি খরচ ২ টাকা ও অন্যান্য খরচসহ মোট ১৭ থেকে ১৮ টাকা খরচ পড়ে। যাত্রাবাড়ি আড়ৎ এ শাপলার মোঠা বিক্রি করে ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। শাপলা তরকারী হিসাবে খুবই মজাদার একটি খাদ্য। প্রায় ১৫/২০ বছর যাবৎ এ ব্যবসাটি এলাকায় বেশ প্রশার লাভ করেছে।

ক্রাইমভিশণ

Comments are closed.