প্রকল্প এলাকায় বাড়িঘর উচ্ছেদ : পদ্মা সেতু

সুমিত সরকার সুমন: পদ্মা বহুমূখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নদী শাসন কাজের জন্য অধিগ্রহণ কৃত জমির সীমানার মধ্যে অবস্থিত বাড়িঘর স্থাপনা সমূহ জরুরী ভিত্তিতে অপসারণের লক্ষে তিনটি পরিবারের বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে লৌহজং উপজেলার কুমার ভোগ গ্রামের সেলিনা আক্তার, রমিজ উদ্দিন হাওলাদার ও জুলেখা বেগমের বাড়িঘর ভেঙ্গে উচ্ছেদ করা হয়। নীতিমালা না মেনে অন্যায় ভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগির অভিযোগ।

সেলিনা আক্তার জানান, এক বছর ধইরা ফাইল নিয়া আমার ছেলে দৌরাইতাছে, তারা শুধু ঘুরায় তারিখের পর তারিখ দেয়। তিন মাস শ্রীনগরে ফাইল আটকায় রাখছে এরপর সেতু ভবনে পাঠাইছে। আমার একটা জমি আছে শ্রীনগর বিলের ভিতরে এখন অনেক পানি সেখানে বাড়ি করি কিভাবে।

৪ বার ঐ জমিতে তদন্ত গেল। অফিসাররা কইল প্লট পামু। উপজেলা চেরমেন কইল জাগা পামু বাড়িঘর ভাঙতে না করল। ৫ দিন আগে লৌহজং নির্বাহী অফিসার নোটিশ দিল আজ ভাইঙ্গা দিল। এত কষ্টে আমি বাড়ি করছিলাম। আমার তো বাড়ি নাই কই যামু। যাগো বাড়ি ঘর আছে তাগো প্লট দিছে। রোজার দিন পোলাপান লইয়া কই উঠুম। আমি কি অপরাধ করলাম। এ কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। প্রধান মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের তিনি দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

সেলিনার ছেলে সাগর বলেন, সরকার জমি চাইছে আমরা জমি ছাইড়া দিছি। জমি দিলে প্লট দেয় কিন্তু আজ বুধবার বাড়িঘর ভাইঙ্গা দিল। ৭শত লোক প্লট পাইছে, আমি পাব না কেন। আমার কগজপত্র জমা দেওয়া আছে। দের বছর ধইরা আমাগো ঘুরাইতাছে। নীতি মালা অনুযায়ী আমি তো পাই। সাড়ে ৭ শতাংশ প্লটের জন্য আমি আবেদন করেছি। আমার ২৮ শতাংশ জমি নিয়াছে মাত্র ৯ লাখ টাকা দিয়াছে। ৪০ লাখ টাকার বেশী জাগার দাম ছিল। আমি ন্যয্য পাওনা কেন পাব না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান ভাইঙ্গা দিয়া গেল কাগজপত্র দেখাইতে চাইলাম দেখল না।

কুমার ভোগের পেয়ারা বেগম জানান, আমার ছেলের আড়াই শতাংশ জমি আছে দেইখ্যা আমার নিজ নামের জমি নিয়া গেল আমারে প্লট দিল না। আমার নামে প্লট দিয়া আবার কাইট্টা লইয়া গেল। জমি বাড়ি আলারা জমি বাড়ি পায় আমি পাই না। তোফাজ্জল স্যার আমার প্লট দিল না।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানান, আইনগত সুবিধা তারা ভোগ করছে। তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৫ দিন পর উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বিডিলাইভ

Comments are closed.