টোকিও বৈশাখী মেলা বার্ষিক বনভোজন ২০১৫

রাহমান মনি: টোকিও বৈশাখী মেলা আয়োজক কমিটি প্রতিবছরের মতো এবারও বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন করে। বেশ কয়েক বছর যাবৎ এ আয়োজন হয়ে থাকলেও প্রতিটি আয়োজনই ছিল টোকিওর অদূরে, ভিন্ন প্রিফেকচারে। সাধারণত চিবা কিংবা সাইতামা প্রিফেকচারে টোকিও বৈশাখী মেলা কমিটি আয়োজিত বার্ষিক বনভোজন হতো। বনভোজন নাম হলেও মূলত প্রাকৃতিক ও নৈসর্গিক মনোরম পরিবেশে বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজনের মাধ্যমে জাপানপ্রবাসীরা বনভোজনে মিলিত হতো।

এবারই প্রথমবারের মতো টোকিওতে বনভোজনের আয়োজন হওয়াতে প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ততা ও অংশগ্রহণও বেশি ছিল। ৭ জুন রোববার টোকিওর আদাচি শহরের তোনেরি পার্কে টোকিও বৈশাখী মেলা পরবর্তী বার্ষিক বনভোজন আয়োজন করা হয়। নামে বৈশাখী মেলা কমিটি হলেও আয়োজনটি সফল করতে দলমত নির্বিশেষে সবারই সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে। বিশেষ করে জাপান প্রবাসীদের প্রিয় মুখ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাদল চাকলাদারের নেতৃত্বে একদল তরুণের অক্লান্ত পরিশ্রমের সফল আয়োজন এই বার্ষিক বনভোজনের সমাপ্তি। আর এর পেছনে যাদের অবদান, তারা হচ্ছেন ব্যবসায়ীদের মধ্যে এমডি এস. ইসলাম নান্নু, নাসেরুল হাকিম, মোনজুর মুর্শেদ, মণি ঠাকুর, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাপান শাখা আওয়ামী লীগ সভাপতি সালেহ মোঃ আরিফ, জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সামাজিক সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দদের মধ্যে সুখেন ব্রহ্ম, বিমান কুমার পোদ্দার, তানিয়া ইসলাম মিথুন, কামাল উদ্দিন টুলু, তোমোকো খন্দকার, আব্দুর রহমান কামন প্রমুখ।

বনভোজন ২০১৫-কে সফল করতে বাদল চাকলাদারের নেতৃত্বে তারই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাতভর রান্নার আয়োজন চলে। প্রতিবারের মতো এবারও রন্ধন কাজে সরাসরি অংশ নেন নাজমুল ইসলাম রতন, মনির হোসেন কর্নেল, মোল্লা দেলোয়ার হোসেন, মোল্লা অহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলাম রনি। তাদেরই অক্লান্ত পরিশ্রমে ৭ জুন বনভোজনে সর্বস্তরের প্রবাসীরা সুস্বাদু খাবারের স্বাদ গ্রহণ করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জাপানের বাইরে অবস্থান করায় এবারের বনভোজনে অংশ নিতে পারেননি। তবে দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রবাসীদের আনন্দের অংশীদার হন।
বনভোজনে বিভিন্ন বিনোদনের মধ্যে ছিল শিশুদের বিস্কুট দৌড়, মহিলাদের মিউজিক্যাল বালিশ নিক্ষেপ, পুরুষদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সবার জন্য উন্মুক্ত বিঙ্গো গেইম। এছাড়াও ছিল চোখ বাঁধা অবস্থায় মহিলাদের তরমুজ ভাঙা। প্রতিটি ইভেন্টে ছিল আকর্ষণীয় পুরস্কার।

মহিলাদের তরমুজ ভাঙা এবং মিউজিক্যাল বালিশ নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা দুটি পরিচালনা করেন তানিয়া ইসলাম মিথুন। তাকে সহযোগিতা করেন ববিতা পোদ্দার এবং তোমোকো খন্দকার। মিউজিক্যাল বালিশ নিক্ষেপে প্রথম স্থানটি অধিকার করেন রুনা মুর্শেদ এবং তরমুজ ভাঙায় প্রথম হন মুক্তা।

বাংলাদেশি জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ দলে বিভক্ত প্রীতি ফুটবল ম্যাচটিতে উত্তেজনাপূর্ণ থাকার অন্যতম কারণ ছিল লাল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা এবং সবুজ দলের অধিনায়ক ছিলেন জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি সালেহ মোঃ আরিফ। এক-এক গোলে ড্র থাকায় শেষ মুহূর্তে লাল দল আরেকটি গোল দিলে সবুজ দল তা মেনে নিতে না পারায় কোনো দলকেই শিরোপা দেয়া হয়নি। যদিও পরিচালনা কমিটির বাদল চাকলাদার এবং এমডি এস. ইসলাম নান্নু লাল দলকে বিজয়ী ঘোষণা দেন। খেলোয়াড়দের অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ এবং রেফারির পেশাদারিত্বের অভাবে শেষ পর্যন্ত কোনো দলকেই আর শিরোপা দেয়া হয়নি। রেফারির দায়িত্ব পালন করেন খন্দকার আসলাম হীরা। বিঙ্গো খেলাটি পরিচালনা করেন জুয়েল আহসান, সুখেন ব্রহ্ম, কাজী এনামুল হক এবং হোসাইন মুনীর।

প্রতি বছর এ আয়োজন হয়ে থাকে এবং সপরিবারে সবাই অংশ নিয়ে থাকে। কিন্তু প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কতগুলো চেনা মুখ ছাড়া মাঠ পরিষ্কার করার কাজে আর কাউকে পাওয়া যায় না। তাই এভাবে আর চালিয়ে রাখা হবে কি না তা আয়োজকদের ভাবিয়ে তুলেছে। সবার সহযোগিতা না থাকলে আসলেই তা সম্ভব নয়।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.