রমরমা মিটার বাণিজ্যে সক্রিয় দালালচক্র : কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

লৌহজংয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক জিম্মি
মোঃ রুবেল ইসলাম:লৌহজং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক জিম্মি, মিটার বাণিজ্যে সক্রিয় দালালচক্র। দীর্ঘদিন যাবত পল্লী বিদ্যুৎ লৌহজং জোনাল অফিসে প্রায় শতাধিক দালাল সদস্যের সিন্ডিকেট রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্যনুযায়ী দালালদের পরিচালনা করে আসছে, লৌহজং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বরত- এজিএম কম সাইফুল ওরফে হুচা সাইফুল ও লৌহজং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নামধারী কর্মচারী যশলদিয়া গ্রামের জৈনুদ্দিন। দালালচক্র সার্বক্ষনিক অফিসকে ঘিরে ফায়দা লুটছে।

গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের কাছে জিম্মি। সবচেয়ে বেশী ও প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ (গ্রাহক)। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পল্লীবিদ্যুৎ অফিসকে ঘিরে গড়ে উঠেছে তদবিরকারী ও দালালচক্রের বিশাল নেটওয়ার্ক। তাদের এ নেটওয়ার্কে রয়েছে সরকার বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি ও অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান, নামধারী এক জন সাংবাদিক ও বিদ্যুৎ এলাকা পরিচালক। মিটার বা নতুন লাইন দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এজিএম কম হুচা সাইফুল। এতে গ্রাহক ও সাধারণ জনগন প্রতারনার শিকার হচ্ছেন।

অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী দালালদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে-লৌহজং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নামধারী কর্মচারী যশলদিয়া গ্রামের জৈনুদ্দিন, ঝাউটিয়া গ্রামের, প্রদিপ দাশ, কনকসার গ্রামের আলমগীর, ডহরী কলমা গ্রামের আজিম, নূরুল ইসলাম ও মোঃ রতন। উপজেলা এলাকার ইলেকট্রিশিয়ান মোঃ বিল্লাল হুজুর, সিরাজ, চঞ্চল আলমগীর হোসেন বিশ্বাস, মতিন, ও মাওয়া বাজারের ফয়জল এছাড়া পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের পাশেই থাকা লৌহজং এর এক অন্যতম অশিক্ষিত নামধারী প্রভাব শালী ভারাটিয়া সাংবাদিক,(তিনি পরিচয় দেন স্থানীয় এমপির প্রেসসচিব )এদিকে গ্রাহক নতুন মিটার সংযোগ নিতে হলে প্রথমে এজিএম কম সাইফুল হুচার চাহিদা মতো পকেট ভারি করা।

পরে ইলেকট্রিশিয়ান ও বিরোধী দলের প্রভাবশালী নেতাদের চাহিদা মেটানো তারপর নতুন মিটার নেয়া সম্ভব।যদি কেউ তাদের এ বাধ্যতা মুলক গোপন সিষ্টেমের ঘোস গুলো না দেয় তাহলে সে গ্রাহকের মিটার সংযোগ পাওয়া অসম্ভব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, দালালচক্রের সিন্ডিকেটের কাছে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ একেবারেই অসহায় দু এক জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতীত। লৌহজং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে সাইফুল হুচা আসার পর থেকে এটা নতুন কিছু নয়। এবং ডিজিএম ব্যাতীত অন্য কোন কর্মকর্তা।

কোন গ্রাহকের সাথে সংযোগ, খুটি ও মিটারের ব্যাপারে আলাপ করতে পারবেনা, এটা সাইফুল হুচার হুশিয়ারি। বেশ কিছু ইলেকট্রিশিয়ান ও চিহ্নিত দালালদের সঙ্গে রয়েছে সাইফুল হুচার গভীর সম্পর্ক । উপজেলার যে কোন গ্রাম থেকে কোন গ্রাহক মিটার কিংবা নতুন লাইনের আবেদন করা মাত্র অফিস থেকে ফাইল হাওয়া হয়ে যায়। ফাইলের সূত্র ধরে ইলেকট্রিশিয়ান ও দালালদের যোগসাজশে সাধারণ গ্রাহকরা জিম্মি হয়ে পড়ে তাদের কাছে। দালালদের শর্ত অনুযায়ী মোটা অংকের টাকা দিলে ফাইলপত্র অফিসে পাওয়া যায় নচেৎ গায়েব। মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ঘুরতে হয় গ্রাহকদেও অফিসের বারান্দায় ।

এদিকে যশলদিয়া গ্রামের মোঃ কাদির খানের মেয়ে আয়না বেগম ও মোঃ মোসলেম মাদবরের পুত্র বধু হাসিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রতিবেশী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দালাল জৈনুদ্দিন আমার কাছ থেকে বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলে ১ বছর আগে ২ হাজার টাকা নেয়। ২টি মিটারের আবেদন করবে বলে অদ্যবদি মিটারের কোন নাম গন্ধ আজ পর্যন্ত নাই। তিনি আরো বলেন , আমি সহ এলাকার ভূক্তভোগী অনেকেই মিলে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে লিখিত অভিযোগ দিলেও বিষয়টি স্থানীয় এমপি পর্যন্ত গড়ায়। তবে কেন যে আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেনা।ওল্টে এই দালাল জৈনুদ্দিন আমাদের কাছে ২টি মিটার সংযোগ বাবদ ১৪ হাজার ৫শ’টাকা চায়। অফিসের এজিএম কম সাইফুল হুচার সাথে আলাপ করে ১সপ্তাহের মধ্যে মিটার এনে দিবে।

তবে কাউকে বলা যাবে না বলে জানায় দালাল জৈনুদ্দিন। অত পর আমি নিজে মাওয়া পলীø বিদ্যুৎ আফিসে গিয়ে মিটারের আবেদন পত্র দেই এরপরও ৩মাস যাবত ঘুরছি , পরে লোক মারফত জানতে পারলাম আমি দালাল দের মাধ্যেমে আবেদন পত্র জমা দেই নাই তাই আমার এ অবস্থা। আমি মাওয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন কে পাঠাই লৌহজং পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে সেখানে ডিজিএম সাহেব ওই নামের ২টি মিটার লাগিয়ে দেয়ার জন্য এজিএম কম সাইফুল কে অনুমোতি দেন। সাইফুল ফাইল ২টি রিসিব করে তার টেবিলে রেখে মিটার দিবনা বলে আনোয়ারকে লাঞ্ছিত করে বিদায় করে দেন। ২/৩বার তার এত ক্ষমতার উৎস কোথায়?

ব্যাপারটি সাংবাদিক মহলে ছড়িয়ে পরলে সাংবাদিকরা অফিস কর্মকর্তা কর্মচারি এমনকি উপজেলার জোনাল অফিসের ডিজিএম কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, হাসিনা বেগম ও আয়না বেগমের ২টি মিটার লাগিয়ে দেয়ার ব্যাপারে আমি এজিএমকম সাইফুল কে ১৫দিন আগে অনুমোতি দিয়েছি। সাইফুল ফাইল আটকিয়ে রেখেছে কেন তা আমি জানি না তবে আমি দেখতেছি। মাওয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ডিজিএম অনুমোতি দিয়েছে এজিএমকম কে তবে সে ঘুষ ছাড়া মিটার দিবেনা, পরিস্কার ।

এ ব্যাপারে এজিএম কম সাইফুলের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ করলে সে জানায়, সাংবাদিক সাহেব গ্রাহক গন আমাদে কে খুশিকরে চা পান খাওয়ার জন্য ১/২ হাজার টাকা দেয় এটাকে ি কেউ ঘুষ বলে? বলেন । এরপরেই ফোন কেটেদেয়, এরপর তাকে একাধিক বার ফোন করলেও রিসিভ করেনি। পরে বিকেল সাইফুল ও সাথে থাকা সহযোগি দালাল জৈনুদ্দিন কল করে বলে (০১৭৬৯৪০১৪৬৬) সাংবাদিক সাহেব ঘুষ খাই না খাই, মিটার দিবো কি দিবো না, তা আপনাকে কইফিয়ৎ দিবো না। আপনার কিছু জানার থাকলে ডিজিএমের কাছ থেকে জেনে নিন। আমি আপনার চাকরি করিনা আপনি তো শুধু নিউজ করবেন, করেন দেখি কি হয়। তবে আপনার মতো ২/৪ জন লিখে আমার কিছু করতে পারবেন না।

স্থানীয় এমপি এমিলি আপার প্রেসসচিব এই লৌহজংয়েই তার বাড়ি, আমি সেই সাংবাদিকের খোব কাছের কন্ধু সমস্যানাই লিখেন । আমার নাম হুচা সাইফুল হুচানো আমার কাজ। লৌহজং পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ মানোয়ার মোর্শেদ কে ব্যাপারটি জানালে সে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন। সাইফুল সাহবের ব্যাপারটি দেখছি এবং লৌহজং জোনাল অফিসকে দালাল মুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যে অযথা হয়রানির শিকার হওয়ায় আতংক বিরাজ করছে তা অতি অল্প সময়ে বন্ধ করে চিহিৃত দালালদের আইনের হাতে সপরর্দ করা হইবে।

Comments are closed.