ডাকাত আতংকে রাত জেগে পাহারা গ্রামবাসীর

সুমিত সরকার সুমন: রমজান মাসে সারাদিন রোজা ও তারাবির নামাজ আদায় করে ক্লান্ত হয়েও ডাকাত আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে গজারিয়াবাসী। আসন্ন ঈদ-উল-ফিরতকে কেন্দ্র করে গজারিয়ায় বেড়েছে ডাকাতদের তৎপরতা প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোথাও না কোথাও ঘটছে ডাকাতির ঘটনা ,ঘটেছে একাধিক গনডাকাতির ঘটনাও। সব মিলিয়ে গজারিয়া উপজেলার সর্বত্রই বিরাজ করছে ডাকাত আতঙ্ক। এলাকাবাসী রাত জেগে পাহারা দিয়েও নির্মূল করতে পারছেনা ডাকাতি।

এদিকে আইন প্রশাসনও রয়েছে নিশ্চুপ। গজারিয়া উপজেলার পুরোটাই মেঘনা- গোমতী নদী বেষ্টিত। আর এ সুযোগে ডাকাত চক্র গ্রামবাসীদের সর্বস্বান্ত করে মেঘনা পাড়ি দিয়ে চলে যায় নিশ্চিন্তে এমনটাই জানালেন এলাকাবাসী। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন মাস থেকে উপজেলার বেশকিছু ইউনিয়নে শতাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের তেমন তৎপরতা না থাকায় ডাকাতি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনার রূপ নিয়েছে।

উপজেলার গজারিয়া,নয়াকান্দি,ভিটিকান্দি ও টেংগাচর,বালুয়াকান্দি,ষোলআনী ,ভাটেরচর,আড়ালিয়া,মুদারকান্দি, রায়পাড়া,বাউশিয়া গ্রামসহ নদীর সীমানাধীন বেশ কয়েকটি গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

ভিটিকান্দি গ্রামের শাহানূর ফরাজী জানান জানান, ডাকাতরা তার বাড়ির গেটের তালাকেট ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে ও তার স্ত্রীর হাত পা বেধে দুই সন্তানকে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। একই গ্রামের শেখ আলম জানান,গতমাসে ডাকাতরা তার গোয়াল ঘর থেকে ৩টি গাভী নিয়ে যায়।গত ২৮ মে, ডাকাতদল একরাতে গজারিয়া তিন গ্রামে হানা দেয় লুট করে নিয়ে যায় নগদ টাকাসহ ১৫ লক্ষ টাকার মালামাল।

ডাকাতিকালে বাধা দিলে কুপিয়ে জখম করে ৩জনকে। ডাকাতদের ছুড়া ককটেলের আঘাতে হাতের কব্জি উড়ে যায় জামান নামের এক যুবকের এদিকে ৬ষ্ঠ রমজান,গত ২৪ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার ষোনআনী গ্রামে ঘটে গনডাকাতির ঘটনা,দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ২০/২২ সদস্যের একটি ডাকাত দল এক রাতেই সাত বাড়িতে(খোরশেদ আলম,লুৎফর রহমান মনা,মোজাম্মেল হক দেওয়ান,নবী উলাহ,তুজাম্মেল,হাবীব,ইব্রাহিম মিয়ার বাড়িতে) চালায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি ।

ডাকাতরা নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কার,মোবাইলসেটসহ প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়,এসময় ডাকাতের হামলায় আহত হয় জাহাঙ্গীর(৩০),মোয়াজ্জেম(২৫),আঃরব প্রধান(৩০)। আহত জাহাঙ্গীর বলেন,ডাকতিকালে ডাকাদের বাধা দিতে গেলে ডাকাতরা তাকে কুপিয় জখম করে,আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের কাছে এলাকাবাসী অসহায়।

এতকিছু হয়ে গেলেও প্রশাসন যেন অদৃশ্য কোন কারণে নীরব, শতাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটলেই পুলিশ এখনও আটক করতে পারেনি একজনকেও।এদিকে পেশাগত দায়িত্ব ও মানবিকতার কথা চিন্তা করে হলেও সিয়াম সাধনার এই মাসে ক্লান্ত রোজাদারদের নির্ভয় ও নিশ্চিন্তে রাতে একটু ঘুমানোর জন্য প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী এলাকাবাসীর।

বিডিলাইভ

Comments are closed.