রেলপথ নির্মাণে চীনই ভরসা : পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে সেতুর উভয় দিকে ৮২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথ বানাতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এ জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কাছে সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। তাদের আশা বাদ দিয়ে এখন চীন সরকারের কাছে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চীন সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে চলতি মাসেই আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ সরকার। এর আগেই (গত ২৪ জানুয়ারি) অবশ্য চায়না রেলওয়ে গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ বছর অর্থায়ন নিশ্চিত হলে ২০২২ সালের মধ্যে মূল সেতুর নিচ দিয়ে উভয় দিকে এই রেলপথ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চীনের অর্থায়ন নিশ্চিত করার আগেই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাছাই ও সাইট নির্ধারণ করা হচ্ছে। রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক আজ শনিবার সকালে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা) প্রকল্পের কাজ শুরুর স্থান রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন পরিদর্শন করবেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে রাজধানীর কমলাপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথ বানাতে জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনেই ব্যয় হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার জাইকা ও এডিবির কাছে সহায়তা আশা করেছিল। সাড়া না পাওয়ায় চীনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে সরকার।

জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই ধাপে প্রকল্প নিয়ে পদ্মা নদীর এপার ও ওপারের মধ্যে রেল সংযোগ দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য আমরা চীন সরকারের সহায়তা চেয়েছি। কিছুদিন আগে এ জন্য চীন দূতাবাসে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

রেলের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন গত ১৮ জুন কালের কণ্ঠকে বলেন, জি-টু-জি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে অর্থায়ন নিয়ে নেগোসিয়েশন শুরু হবে ১০ দিনের মধ্যে।

জানা যায়, ট্রেন চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তসহ রাজধানীর কমলাপুর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রথম ধাপে আলাদা রেলপথ নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধাপে ব্যয় হবে আট হাজার ৯২০ কোটি টাকা। অবশ্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রেল সংযোগের জন্য এরই মধ্যে পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর-পুকুরিয়া-ভাঙ্গা অংশে ৬০ কিলোমিটার রেলপথ সংস্কার করা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কমলাপুর থেকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ৩২ কিলোমিটার, সেতুর নিচে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার, সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৩১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই রেলপথে ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাছাই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই প্রকল্পের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, সিরাজদিখান, শ্রীনগর, লৌহজং, জাজিরা, শিবচর ও ভাঙ্গা উপজেলার ৮৮টি মৌজার ওপর দিয়ে রেলপথ বসাতে হবে। এসব স্থানে ৩৭৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, যার মধ্যে ২৭৩ হেক্টরই ব্যক্তিমালিকানাধীন। বাকি ৯২ হেক্টর ভূমি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের। চারটি বড় ও ৫৬টি ছোট রেল সেতু, পাঁচটি লেভেলক্রসিং, ৪০টি স্থানে আন্ডারপাসসহ জাতীয় মহাসড়কে তিনটি উড়াল সড়ক নির্মাণের প্রয়োজন হবে।

সেতু বিভাগের দাবি, ২০১৭ সালের মধ্যে পদ্মা নদীর ওপর সড়ক কাঠামোসহ মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সড়ক কাঠামো দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে ২০১৮ সালের শুরু থেকে। এ বছর অর্থায়ন নিশ্চিত হলে ২০২২ সালের মধ্যে রাজধানী থেকে মাওয়া পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা যাবে। আর জাজিরা থেকে ভাঙ্গা অংশে রেলপথ চালু করা সম্ভব হবে ২০২০ সালের মধ্যে।

কালের কন্ঠ

Comments are closed.