রাক্ষুসী পদ্মার ভাঙ্গন আশংকা

প্রতি বছর বর্ষায় আগ্রাসি রুপ নেয় প্রমত্তা পদ্মা। উত্তাল পদ্মায় থাকে প্রচন্ড ঘূর্ণি আর স্রোত। এ ঘূর্ণি আর স্রোতেই গ্রাস করে নেয় ঘর বাড়ি, বাজার, জমিসহ সব কিছু। প্রতি বছরের মতো এবারো বর্ষায়পানি বাড়তে শুরু করেছে পদ্মায়। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙ্গন গত বছর তুলনামুলক কিছুটা কম হলেও এ বছর কি হয় তাই নিয়ে চিন্তিত মুন্সীগঞ্জের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা পারের মানুষ।

পদ্মা নদী বয়ে গেছে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি, শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার পাশ দিয়ে। তবে শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা ভরা বর্ষায় আগ্রাসি রুপ নেয় বেশি, ভাঙ্গনও হয় বেশি। বর্ষার শুরুতেই পদ্মা পারের এই দুই উপজেলার ভাগ্যকুল, কবুতরখোলা, কুমারভোগ, যশলদিয়া, চারিপাড়াসহ কান্দিপাড়া এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পরতে শুরু করে।

পদ্মায় অন্যতম ভাঙ্গনপ্রবন এলাকা ভাগকুল, কবুতরখোলা, চারিপাড়া। এই এলাকাগুলো বিগত বছরের চলমান ভাঙ্গনে অনেকটাই পালটে গেছে। ৪-৫ বছর আগেও যেখান ছিল আবাসন, জমি, বাজার তা এখন প্রমত্তা পদ্মার দখলে।

গত দু’বছর ভাঙ্গনের মাত্রা কম থাকলেও পদ্মার গতিবিধি, স্রোত, ঘূর্ণি, ভাঙ্গন নিয়ে ভবিষ্যৎবানি করা যায় না বলে শংকায় এলাকাবাসি।

গত বছর স্থানীয় ভাবে বাঁশ, বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন রোধে বাঁধ বিচ্ছিন্ন ভাবে দেয়া হলেও এ বছর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য স্থানীয় বা সরকারিভাবে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। তাই বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার দাবি পদ্মা পারের মানুষের।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট প্রকল্প ছাড়া নদীর তীর রক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয় না।

শ্রীনগরের ভাগ্যকুল থেকে যশলদিয়া পর্যন্ত ৩.২ কিলোমিটার ভাঙ্গন প্রতিরোধ বাধের একটা প্রকল্প বর্তমানে হাতে রয়েছে। এখন এটি একনেকে রয়েছে। ২ বছর মেয়াদি ৩১০ কোটি টাকা বাজেটের এ প্রকল্পটি আগামী অর্থবছরের অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে প্রকল্প অনুমোদিত হলেই ভাঙ্গন রক্ষা বাধের কাজ শুরু হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদী শাসনের জন্য এবছর ভাঙ্গন হবার আশংকা কম।

মুন্সিগঞ্জের সময়

Comments are closed.