সিরাজদিখান কমান্ডারের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগে তদন্ত

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নির্দেশে
সেলিনা ইসলাম: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নির্দেশে সিরাজদিখান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ মতিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম শওকত আলম মজুমদার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। যুদ্ধকালীন ইউনিট কমান্ডার (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) ও বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ডেপুটি কমান্ডার আলী আহমেদ বাচ্চু এবং যুদ্ধকালীন থানা কমান্ডার মো. আঃ লতিফের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত এই তদন্ত কার্যক্রম চলে। তদন্ত কার্যক্রম সময়ে উপজেলার প্রায় ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৩জন ইউনিয়ন কমান্ডারের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা ডেপুটি কমান্ডার আলী আহমেদ বাচ্চু জানান, এভাবে তদন্ত হয় না। মতিন ও তার বানানো ইউনিয়ন কমান্ডার একই। তাদের তথ্য নিলে সঠিক তদন্ত হবে না কারণ এখানে কিছু ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। আমি মনে করি এডিএম আইন বহির্ভূত কাজ করছেন। এভাবে তদন্ত আমি মানিনা বলে জানিয়েছি। ২০০৯ সালে ও তদন্ত হয়েছিল উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার তোফায়েল আহমেদ একতরফা তদন্ত রিপোর্ট পাঠান। তাই আবার ৬ বছর পর পুন:তদন্ত চলছে।

আঃ লতিফ জানান, যুদ্ধকালীন সময়ে সিরাজদিখানে আমার ইউনিটে ৮৮ জন ও বাহিরে কিছু মিলিয়ে শতাধিকের মত মুক্তিযোদ্ধা ছিল। সামরিক ও বিভিন্ন বাহিনী সহ দুই শত হবে না। কিন্তু বর্তমানে তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা দেখা যায়। এখানে আঃ মতিনসহ অর্ধেকের বেশী ভূয়া। তাদেরও যাচাই করা হবে। ভারত ও বাংলাদেশে লিষ্টে যাদের নাম নাই তারা সকলেই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা। এডিএম সাহেব যেভাবে তদন্ত করলেন তাতে মনে হলো জনপ্রিয়তা যাচাই করছেন। যদি সঠিক তদন্ত না হয় তাহলে প্রধান মন্ত্রী পর্যন্ত যাব।

আঃ মতিন হাওলাদার বলেন, সত্য কখনো চাপা থাকে না মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢাকা যায় না। অভিযোগ কারী আঃ লতিফ ৮৪ সালে থানা কমিটির আহবায়ক আমি যুগ্ন আহবায়ক ছিলাম। এখানে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে তাদের জিজ্ঞেস করেন। আসলে ওরা কমান্ডার থাকতে কোন উন্নয়ন হয় নাই। আজ আমার মাধ্যমে অনেক কাজ হচ্ছে দেখে ওরা সহ্য করতে না পেরে আমাকে হেয় করার জন্য উঠে পরে লেগেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওনক আফরোজা সুমা জানান, আমার দপ্তওে আসায় সহযোগিতা করছি। এডিএম স্যার একাই তদন্ত করছেন। দু’পক্ষই কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই বাছাই করে পরে তদন্ত রিপোর্ট দিবেন।

বাংলাপোষ্ট

Comments are closed.